0 টি ভোট
"তথ্যপ্রযুক্তি" বিভাগে করেছেন (542 পয়েন্ট)
মাইক্রোকন্ট্রোলার এবং মাইক্রোপ্রসেসর মেগাক্লর্ক সাপেক্ষে আলোচনা করুন।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন
ক্লক হার্জঃ ফ্রিকোয়েন্সির একক হার্জে গণনা করা হয়। ফ্রিকোয়েন্সি বা সহজ ভাষায় কম্পন বলা যেতে পারে। 

কম্পনশীল কোন বস্তু প্রতি সেকেন্ডে যত গুলো কম্পন সম্পন্ন করে তাকেই ফ্রিকোয়েন্সি বলা হয়। যার একক হার্জ। তথ্যপ্রযুক্তি তে বাইটরেট অনুযায়ী ১০২৪ হাজার কম্পনে এক মেগাহার্জ বলা হয়।

আর ক্লক হার্জ নতুন কিছু নয়। মূলত ফ্রিকোয়েন্সীকে এক এক ভাবে বলা যেতে পারে। ক্লক হার্জ বলতে নির্দিষ্ট সময়ের পালসকে বোঝানো হয়।

একটি বেল বা ঘন্টাতে দুই তিন বার আঘাত করলে ঘন্টাটি প্রতিটি আঘাতের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন সংখ্যাক পালস বা কম্পন দেয়। প্রথম সেকেন্ডে যদি ১ হাজার দেয়, দ্বিতীয় সেকেন্ড এ দুই হাজার হতে পারে। এই কম্পন নির্দিষ্ট সময়ে একই রেটে হয়না।

কিন্তু যদি এমন কোন কম্পন যা প্রতি সেকেন্ডে একই হয়। যেমন হৃদপিন্ডের কম্পন মিনিটে ৭২ বা ৭৪ হতে পারে।

সবচেয়ে আদর্শ উদাহরন ঘড়ির কাটা। প্রতি এক সেকেন্ড পর পর লাফায়। আর তাই যেহেতু ফ্রিকোয়েন্সি সেকেন্ডে হিসাব হয় তাই একে ক্লক হার্জও বলা হয়ে থাকে।

এখন মাইক্রোকন্ট্রোলার বা প্রসেসরের ফ্রিকোয়েন্সী কি?

আসলে এগুলোতো কাপেনা তাইনা?

আসলে এদের কম্পন মূলত এদের বৈদ্যুতিক সার্কিটের আউটপুটে সেকেন্ডে কতবার বিদ্যুৎ মূখ পরিবর্তন করে তার সংখ্যা।

আমরা জানি ৫০হার্জের এসি বিদ্যুৎ মানে হচ্ছে ১ সেকেন্ডে বিদ্যুৎ ৫০ বার পেছনমুখী হলে ৫০ বার সম্মুখী হবে। 

ধরুন বিদ্যুৎ চলছে। তাহলে এসি বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমরা জানি একটি পূর্ণ চক্রে হাফ সাইকেল সম্মুখ বা পজিটিভ হলে বাকি হাফ সাইকেল নেগেটিভ বা পশ্চাতমুখী হয়।

তাহলে একটি তারে সেকেন্ডে ৫০ বার পজিটিভ মুখ আসাকে ৫০ হার্জ বলা হচ্ছে। প্রসেসরের আউটপুট কে বুঝতে এই উদাহরণটি খেয়াল করুন ধরুন আপনি একটি রুমের মধ্যে আছেন। এই রুমের ভেতর আপনি সহ যা আছে তা প্রসেসরের সার্কিট। আর আউটপুট হচ্ছে দরজা।

আউটপুট ফল হচ্ছে আপনি দরজা খুলে মাথা বের করে কিছু দেখছেন।

তাহলে আপনি কিন্তু এমন এক কাজ করছেন যে, দরজা খুলে মাথা বের করছেন আর মাথা ভেতরে নিয়া দরজা বন্ধ করছেন।

এখন ১ মিনিটে আপনি যতবার মাথা বের করবেন তত সংখ্যাটা হচ্ছে আউটপুট ফ্রিকোয়েন্সি। 

মাইক্রোকন্ট্রোলার বা প্রসেসরে আমরা যে বিদ্যুৎ দেই তা মুলত প্রসেস হয়ে মাথা বের করা আর ভেতরে নেওয়ার মত অবস্থা সৃষ্টি হয় যাকে পালস বা কম্পন বা ফ্রিকোয়েন্সি বলে। আর এক সেকেন্ডে প্রসেসরের আউটপুট দিয়া বিদ্যুৎ যতবার মাথা বের করার মত আসে তাকে হার্জ বলা হয়ে থাকে। প্রসেসরে যেহেতু সকল পালস এর জন্য একই সময় লাগে তাই একে ক্লকহার্জ বলে।

তবে মেগা ক্লক হার্জ হল প্রতি সেকেন্ডে ১০২৪ (১০০০) কিলোবার এই আউটপুট হওয়া।

প্রসেসরের এই রেট যত বেশি হবে ততই কাজ করার ক্ষমতা বেশি হবে। যদিও মানুষ সেই হারে কাজের নির্দেশ দিতে পারেনা।

এক্ষেত্রে নিচের উদাহরণ টি খেয়াল করুন।

আপনি শপিং মলে এক্সিলেটর সিড়ি লিফট দেখেছেন নিশ্চয়। সিড়ি উঠছে। মানুষ উপরে উঠছে।

ধরুন এর প্রতিটি সিড়ি এক একটি হার্জ।

আর প্রতিটি সিড়ি ৪ মণ করে মাল উপরে তুলতে পারে।

এখন প্রতি সেকেন্ডে দুটি সিড়ি আপনার কাছে আসছে আর আপনি সিড়িতে মাল তুলে দিচ্ছেন।

তাহলে একটি সিড়িতে মাল তুলতে আপনি সময় পাচ্ছেন হাফ সেকেন্ড। এই হাফ সেকেন্ডে আপনি ১ মন মাল তুলে দিতে পারছেন।

তাহলে দেখুন সিড়ির ক্ষমতা ৪ মন মাল নেওয়া কিন্তু সিড়ি হাফ সেকেন্ড সময় দিয়া উপরে চলে যাচ্ছে মানে ফ্রিকোয়েন্সী বেশি হচ্ছে, আপনি ৪ মন মাল তুলে পারছেন না, ১ মন মাল দিচ্ছেন। তাহলে আপনি কাজ করে পারছেন। সিড়ির ৩ মন ক্ষমতা ফাউ যাচ্ছে। এখন যদি আপনি ফ্রিকোয়েন্সী বাড়িয়ে দেন মানে সিড়ি চলার গতি বাড়িয়ে দেন তাহলে ১ মন তো দূরের কথা প্রতি সিড়িতেই আপনি মাল তুলতে পারবেন না। সিড়ি ফাকা যাবে।

ফলে ক্ষমতা অব্যবহৃত থাকবে।

প্রসেসরেও এমনটি। তার গিগাহার্জের সাথে মানুষ কিন্তু কাজের নির্দেশ দিতে পারেনা। 

তবুও গিগাহার্জ বা ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হলে কাজ দ্রুত হয়। কারণ আপনি যে নির্দেশটা দিচ্ছেন তা সিড়ির মত দ্রুত উঠে যাচ্ছে। সিড়ি ফাকা যাক কিন্তু দ্রুত যাচ্ছে। 
যদিও প্রসেসরে মানুষের নির্দেশের চেয়ে ইন্টার্নান নির্দেশ বেশি পালন করা লাগে।

কারন ধরুন, আপনি ডাবল ক্লিক করে একটি ফাইল খোলার নির্দেশ দিলেন। মানে আপনি একটি কাজের নির্দেশ দিলেন। কিন্তু এটির জন্য প্রসেসর প্রথমত অপারেটিং সিস্টেম ও সিস্টেম সফটওয়্যার কে চালু রাখতে হাজার নির্দেশ নিচ্ছে। ক্লিকের সময় মাউস নড়ার নির্দেশ নিচ্ছে, ফাইলের উপর পয়েন্টার রাখার নির্দেশ নিচ্ছে, ডাবল ক্লিক এর জন্য দুটো নির্দেশ নিচ্ছে, ক্লিক নেওয়ার পর নেটওয়ার্ক সিস্টেম ঐ ফাইলে নেটওয়ার্কিং করার নির্দেশ নিচ্ছে। তারপর ফাইলের ভেতর থাকা সকল কন্টেন্ট টাইপ, ফরম্যাট রিডিং করার নির্দেশ নিচ্ছে, এর পর তা আপনাকে দেখার নির্দেশ নিয়ে খুলে প্রদর্শন করছে। এত নির্দেশ সে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে পালন করে আপনার কাজের নির্দেশটি নির্বাহ করছে।

এই জন্য বেশি গিগাহার্জ প্রসেসর বেশি কাজ করতে পারে। যদিও এর সাথে আরও কিছু উপাদান জড়িয়ে আছে। যেমন ক্যাশ মেমরি। ধরুন আপনি ঘন্টায় ২০ কিলো দৌড়াতে পারেন। কিন্তুর এর অর্থ এইনা যে মাথায় মালের বোঝা নিয়া আপনি একই হারে দৌড়াতে পারেন। হাহাহাহা। 

বুঝতে না পারলে কমেন্ট করবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
22 এপ্রিল "তথ্যপ্রযুক্তি" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Naeem (542 পয়েন্ট)
7 Online Users
0 Member 7 Guest
Today Visits : 3609
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5081326
...