0 টি ভোট
"বাংলা" বিভাগে করেছেন (3.1k পয়েন্ট)

অভাগীর স্বর্গ এসাইনমেন্ট

image

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)

জাতিভেদ প্রথা ও সমাজের জমিদার শাসকের শাসন ও শোষনের চিত্র অভাগীর স্বর্গ গল্প অবলম্বনে

অভাগীর স্বর্গ গল্পটি লিখেছেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

অভাগীর স্বর্গ গল্পে লেখক তৎকালীন সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন জাতিভেদ প্রথা, ধনি দরিদ্রের বৈষম্য তথ্যা সমাজে নিচু জাতের মানুষের শোষন ও নিপিড়নের চিত্র তুলে ধরেছেন।

অভাগী হচ্ছে একজন মহিলার নাম যিনি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। অভাগী জাতে দুলে। দুলে হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের যাহারা পালকি বহন করে। সমাজে এরা নিচু জাত। নিচু জাত বলে সমাজে তাদের কোন সম্মান মর্যাদা বা অধিকার থাকেনা। বিশেষত মানুষ হিসাবে মৌলিক অধিকারও তাদের থাকেনা বললেই চলে। তারা সবসময় উচু শ্রেণি, জমিদার, শাসকদের শোষন ও নির্যাতনের শিকার হোন।

অভাগীর গল্পে তৎকালীন সমাজে মানবিক সমাজ বলে কিছু ছিলনা। সেখানে জীবদ্দশায় নিচু শ্রেণি শোষনের যেমন শিকার হোন তেমনি মৃত্যুর পরও শোষনের শিকার হোন। মড়ার শেষ ইচ্ছা বা অন্তেষ্টিক্রিয়ার অধিকারটুকুও পাননা।

অভাগীর স্বর্গ গল্পে দেখা যায় যে, জমিদার এতই শোষক শ্রেণির অন্তর্গত যে, অভাগীর নিজের সম্পদ, তার নিজের লাগানো বেল গাছও তার স্বামী বা সন্তান কাটতে পারছেনা। এক অজানা অঘোষিত অদৃশ্য আইন দ্বারা সকল সম্পদ এক্সেন জমিদারের সম্পদ হয়ে গেছে।

এমন একটি সমাজে মানব সমাজ গঠন করা সত্যি কঠিন যেখানে মানুষে মানুষে কোন ভেদাভেদ, বর্ণপ্রথা, জাতিভেদ, ধনী কিংবা দরিদ্র , উচু নিচু কোন প্রকার ঘৃণ্য বিষয় থাকবেনা। থাকবে সকলের সমান অধিকার, সম্মান মর্যাদা। সমাজে সবাই একে অন্যকে সাহায্য করবে। বিপদে আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়াবে।

এই ধরনের সমান প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। আছে নানা প্রতিবন্ধকতা, বাধা বিপত্তী ও উচ্চ শ্রেণির রক্তচক্ষু।
কিন্তু মানব সমাজ একা প্রতিষ্ঠায় এই ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব। কিন্তু সে জন্য সর্বাজ্ঞে চাই সমাজে শিক্ষার আলো। যে শিক্ষার আলোই সকলেই যেন তাহার অধিকার, কর্তব্যবোধ দেখতে পায়। যে আলোই সমাজে অপশাসন, শোষনকে প্রতিরোধ করতে অনেকের চোখে ন্যায় ও সাম্যের জ্যোতি প্রবেশ করে।

অভাগীর স্বর্গ গল্পে প্রথম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কুসংস্কার। অভাগী যতই ধোয়াকে স্বর্গে যাওয়া বলে বোঝাতে চায়না কেন কাঙ্গালীর মত তরুণ ও নতুন প্রজন্ম তা দেখতে পায়না। ছোট হলেও তার মনে শিক্ষার আলো প্রবেশ করতে চায়। সে নিছক কল্পণাকে কিছু মানতে রাজি নয়। তাই সমাজের কুসংস্কার দূর করতে তাই শিক্ষার আলো দরকার। একটি সমাজে মানুষ সচেতন হয়, নিজের অধিকার সম্পর্কে বুঝতে পারে তখনই যখন তার মনে জ্ঞান কাজ করে। সে শিক্ষিত হয়।

শুধু অভাগীর নয়। সেত সরল মনা, অত্যান্ত বিশ্বাসী ধার্মীক একজন ব্যক্তি। তার মনে হৃদয়ে অপরের জন্য ভালবাসা আছে। অন্যের কষ্টে সেও কাদে। তাইত বামনের মায়ের শবযাত্রাতে শামীল হতে না পারলে দূর থেকে চোখের জল ফেলেছেন।

কিন্তু সমাজের সেই মানুষ গুলো যারা সব জানেন। এবন নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সমাজে নানা অন্যায় নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে রেখেছেন। এগুলো ভাঙ্গতে হবে।
সমাজে শীক্ষা বিস্তার ঘটাতে হবে। জ্ঞানের আলোই বোঝাতে হবে উচ্চ শ্রেণি নয়। সমাজের বিপদে আপদে এমনকি শব যাত্রাতেও সকলের শামীল হওয়ার অধিকার রয়েছে। যিনি পরাপরে চলেছেন তার বিদায়ের পথে যাওয়ার অধিকার সবার সমান । উচু হোক বা নিচু হোক সমাজে যত ক্ষমতা দ্বারা বন্ধ করা হোক না কেন একদিন সকলকেই তো এ পথে একাকী যাত্রা করতেই হবে।

সমাজে উচ্চ শ্রেণির অন্যায় শোষনঃ অভাগীর নিজে হাতে লাগানো বেল গাছ তার অন্তেষ্টিক্রিয়ায় কাটতে পারেনি। অদৃশ্য আইন দ্বারা বেল গাছ জমিদারের হয়ে গেছে।
মানবিক সমাজ গঠন করতে তাই এই নিয়ম ভাঙ্গতে হবে। কিন্তু উচ্চ শ্রেণি তা সহজে দেবেনা। তাই এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমাজে শিক্ষার আলোর সাথে ন্যায় বিচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্য সমমনা সকলকে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
তবে শাসক শ্রেণি পরাজিত হবে। প্রতিষ্ঠিত হবে মানবিক সমাজ।

আর এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কেবল একটাই হাতিয়ার দরকার তা হল শিক্ষা। শিক্ষা দ্বারাই ধর্মবানী সম্পর্কে মানুষকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে বামনদের মত উচ্চ শ্রেণি ধর্মের আশ্রয়ে মানুষকে স্রষ্টার অসম্মান তথা পাপ নামক বন্ধনে বাধার কৌশলকে প্রতিহত করা সম্ভব। সকল ধর্মই কেবল সাম্যের কথা বলে। সবার সমান অধিকারের কথা বলে। কিন্তু মানুষ তার সুবিধা অনুযায়ী ক্ষমতা বলে আমাদেরকে জাতিভেদ করে দিয়েছে।

ধর্মের সঠিক জ্ঞান, আধুনিক শিক্ষার আলো তাই মানুষকে পারে মুক্তি দিতে। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ট। সেখানে কোন বর্ণভেদ জাতিভেদ নাই। আমরা সকলেই একই গঠনের মানুষ। উচ্চ নিচু শাসক শোষক নিপিড়িত হত দরিদ্র বা হোক না দূলে জাত তাদের দেহ একই রক্ত মাংসে তৈরি। স্রষ্টা সকলকে তার নিজ হাতে অথবা তার একই শক্তিতেই তৈরি করেছেন।

এই জ্ঞান মানব সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে হবে কাঙ্গালীর মত তরুণদের যারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করতে চাইনা তাদের সকলকে সঠিক জ্ঞানের আলো দিতে পারলে এক সময় সমাজ হয়ে উঠবে মানবিক সমাজ। সেখানে সকলের সচেতনতার আলোই শোষক জমিদার ভেসে যাবে।
করেছেন (177 পয়েন্ট)
আমাদের শনিবার জমা দিতে হবে!
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
বিকেলের মধ্যে দিয়া দিব, রাতে লিখে ফেলবেন, কাল জমা দিবেন

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
10 Online Users
0 Member 10 Guest
Today Visits : 5444
Yesterday Visits : 7651
...