0 টি ভোট
"পদার্থ বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (390 পয়েন্ট)

পৃথিবী উপবৃত্তাকার পথে সূর্যের চারদিকে ৩৬৫ দিন ৬ঘন্টায় একবার প্রদক্ষিণ করে।কোনো বস্তু যখন বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার পথে চলে তখন সময়ের সাথে সাথে তার দিকের  পরিবর্তন হয়।তারমানে বেগেরও পরিবর্তন হয়।কারণ বেগ একটি ভেক্টর রাশি।আর বেগ পরিবর্তন হলে বলা যায় যে,বস্তুটির ত্বরণ আছে।কিন্তু বস্তুটি যেহেতু প্রতিমুহূর্তে দিকের পরিবর্তন করে তাই এর ত্বরণ অসম ত্বরণ।

তারমানে পৃথিবী ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পথ অতিক্রম করে।তাহলে 

আসল প্রশ্নটা হলো, 

এটি যদি ভিন্ন সময়ে ভিন্ন পথ বা দূরত্ব অতিক্রম করে থাকে তাহলে 

শুধুমাত্র ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা সময়েই কেনো এটি সবসময় সূর্যের চারিদিকে একবার ঘুরে আসে?

তাহলে আমরা কি বলতে পারি না যে সূর্যের চারিদিকে পৃথিবীর একবার প্রদক্ষিণের সময় ধ্রুবক?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.1k পয়েন্ট)
খুবই ভাল প্রশ্ন এবং প্রশ্নের ব্যাখ্যা দয়েছেন। 

এক কথায় উত্তর হল 'না'।  পৃথিবী সুর্য্যের চারদিকে সমদ্রুতিতে ঘোরেনা। তবে হ্যা একে বারে অনিয়ন্ত্রিত যেকোন সময়ে যেকোন হারে গতি বৃদ্ধি পায়না। এখানে সূর্য থেকে দুরত্ব, সম্মুখ গতি ও ঘুর্ণন গতি তথা কৌণিক গতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে। 

কিভাবে? 

আমরা জানি পৃথিবী ৩৬৫ দিনে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। না এটি বৈজ্ঞানিক হিসাবে ভূল। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসে 365 দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে। কিন্তু সাধারণত ই ভগ্নাংশ দূর করার জন্য বিভিন্ন বর্ষ পঞ্জি উদ্ভাবিত হয়েছে। বর্তমান গ্রেগরীয়ান বর্ষ পঞ্জি অনুযায়ী ৩৬৫ দিনে এক বছর ধরা হয়। বাকি ঘন্টা মিনিট বাদ দিয়া ফেব্রুয়ারীকে ২৮ দিন করা হয়েছে। যদিও এখানে ফেব্রুয়ারীকে বেছে নেওয়ার জন্য আরও কিছু নিয়ামক ও গল্প রীতি নীতি রয়েছে। কিন্তু যেটা বাদ দেওয়া হল সেটা যেহেতু বাস্তবতা থআহারিয়ে যাবেনা। তাই ঐ অতিরিক্ত ঘন্টা মিনিট ৪ বছর পর পর প্রায় একটি দিনের সমানে পরিণত হয় বলে সেটা যোগ করে নিয়া ফেব্রুয়ারীকে ২৯ দিনে করা হয় যাকে আমরা লিপিয়ার বলে থাকি। 

কাজেই এই সময় কে আমরা ধ্রুব বলতে পারি যা আপনি ব্যাখ্যাতে ৩৬৫ দিন ৬ ঘন্টা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু পৃথিবী কোন একটি স্থান থেকে সূর্যের চারদিকে এই ধ্রুব সময়ে ঘুরে আসলেও পৃথিবী তার পরিভ্রমণ পথে সুষম বেগে বা সমদ্রুতিতে ঘোরেনা। কোথাও দ্রুতি বেড়ে যায় কোথাও দ্রুতি কমে যায়। কিন্তু গড় দ্রুতি ও সময় বছরের পর বছর ঠিক থাকে। যদিও তা অতি বড় সময়ের ক্ষেত্রে ঠিক নয়। যেমন ২০ বছরে হয়ত একই সময় থাকবে। যাকে আমরা ধ্রুব বলছি। কিন্তু হাজার লক্ষ বছরে ঠিক থাকবেনা। কারন আমরা জানি মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। কাজেই মহাশুন্যের উপাদান বা একটি অংশ সৌর জগতও ছায়াপথের সাথে বা অন্য কোন বৃহত নক্ষত্রের সাথে ভারসাম্য রেখে সমান হারে প্রসারিত হচ্ছে যার ফলে দুরত্ব ও সময় বেড়ে যেতে পারে। আবার আমরা জানি যে একটি নক্ষত্র তাপ আলো বিকিরণ ইত্যাদি হারিয়ে অভিকর্ষ বলের তীব্রতার জন্য সংকুচিত হয়। এতে কোন অংশের সংকোচনের ফলে সৌর জগতেরও সংকোচন হতে পারে। এসকল বিষয় সম্পূর্ণ মহাজাগতিক ক্রিয়া ও শক্তির উপর নির্ভর করে। আমরা এখানে শুধু এটা বলতে পারি যে, অতি বড় সময়ের জন্য ধ্রুবতা থাকেনা। 

কেন পৃথিবী নিজ কক্ষপথে সমদ্রুতিতে অগ্রসর হয়ে ঘোরেনা? 

আমরা জানি পৃথিবী সুষম গোল নয়। দুই মেরু কিছুটা চাপা, অনেকটা আপেলের মত। আবার সূর্যের চারপাশে যে পরিভ্রমন পথ, সেটাও সুষম গোল নয়, বরং উপবৃত্তাকার বলা যেতে পারে। 

কাজেই এই ডিমের মত কেন্দ্র থেকে মাজা বরাবর দুরত্ব কম এবং দুই প্রান্ত বরাবর দূরত্ব একটু বেশি। আবার ঘূর্ণন পথে যখন পৃথিবী এই লম্বা প্রান্তের দিকে যায় তখন সূর্য এমন ভাবে অবস্থান করে যে, যে প্রান্তের দিকে পৃথিবী অবস্থান করছে ঐ প্রান্তের দিকে সূর্যের দূরত্ব কমে যায় ফলে পৃথিবীর ঐ অবস্থানে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। ঠিক তার বিপরীত প্রান্ত থেকে সূর্য বেশি দূরে থাকায় সেখানে অবস্থান কালে শীতকাল হয়। যদিও গ্রীষ্ম শীতের জন্য আরও কিছু নিয়ামক আছে, সেদিকে যাচ্ছিনা। 

কাজেই দেখা যাচ্ছে যে সূর্য থেকে পৃথিবীর দুরত্ব পৃথিবীর কক্ষপথের এক এক স্থানে দুরত্ব কম বেশি হয়। এখন আমরা জানি যে, দুরত্ব কমে গেলে মহাকর্ষ বল বেড়ে যায় ফলে বড় বস্তুর অভিকর্ষ টানে ছোট বস্তু তার কেন্দ্র বরাবর আকর্ষন বলে পতিত হতে চায়। এখানে ঠিক পৃথিবী যখন সূর্যের কাছে আসে তখন সূর্য ও পৃথিবীর দু্রত্ব কমে যেয়ে আকর্ষন বল বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় পৃথিবীর ভরবেগ সংকরণের জন্য গতি বেড়ে যায়। কেননা আমরা যানি যে বস্তুর ভরবেগ বেশী হয় তাকে বাধা দিতে তত বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। যেহতু কাছে আসলে গতি বেড়ে যায় তাই পৃথিবীর ভরবেগ বেড়ে যায়। এই ভরবেগের কারনে সূর্যের দিকে পৃথিবীর পতন আটকে যায় কেননা তখন সূর্যের আকর্ষন বলকে প্রতিহত করতে পারে। সুর্য যদি বেশি ভরবেগের পৃথিবীকে টানতে চায় তবে সুর্যের আকর্ষন শক্তি বৃদ্ধি পেতে হবে। কিন্তু সুর্যের আকর্ষন শক্তি বৃদ্ধির কোন নিয়ামক বা উপায় না থাকায় অধিক ভরবেগ নিয়া পৃথিবী সূর্যের কাছে হেলে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।

এর পর পৃথিবী যখন আবার সুর্য থেকে দূরে যেতে থাকে তখন যে হারে সূর্যের আকর্ষণ বল কমে সেই হারে পৃথিবীর গতিও কমে যায় এবং ভরবেগ কমে যায় ফলে বেগ যত বৃদ্ধি পেয়েছিল, ততটা এবার কমতে থাকে। যদি এই বেগ না কমত তাহলে পৃথিবী কক্ষপথ ছেড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কারন অধিক ভরবেগ নিয়া চলার সময় কৌনিক বেগে ঘোয়ার সময় কেন্দ্রবিমুখী বল উৎপন্ন হয়। এই কেন্দ্রবিমুখী বল পৃথিবীকে ছিটকে ফেলে দিতে পারে। অপরদিকে একই সাথে কেন্দ্রমুখী বলও উৎপন্ন হয় যার প্রভাবে কোন ঘুরে গতি কমে সূর্যের পরিধি বরাবর সমান্তরাল হতে চায়। 

এই জটিল আবর্তনের ফলে পৃথিবীর গতি হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে সমান তালে। এবং গোলাকার এই পরিভ্রমন পথ চক্রাকার। মানে এক যায়গা থেকে ঘুরে ঐ স্থানে প্রথম আসতে যে ঘটনা, দুরত্ব ইত্যাদি হয় তা পরবর্তী ঘূর্ণন ঐ স্থান থেকে শুরু হয় বলে একই চক্র চলে। ফলে এক বছরে যে সময় লাগে তা প্রতি বছর একই ধ্রুব থাকে। কিন্তু একটি বছরের ভেতর বিভিন্ন স্থানে সময় কম বেশি হয়। 

ধরুন আপনি স্কুলে যান আর আসেন কাজেই প্রতি দিন যাওয়া আসা কিন্তু পালটায় না। প্রথম দিন যে পথে গেছেন আসলেন, পরের দিনই সেই পথে যাবেন আর আসবেন। এটি হচ্ছে চক্র। কিন্তু সময় কম বেশি হতে পারে। ধরুন আপনি একদিন আসার পথে বাজারেজ্ঞেলেন। ফলে লেট হল। কিন্তু বাড়ি আসতে চান পূর্বের সময়েই। তাহলে কি করবেন? নিশ্চয় রিক্সা বা গাড়িতে আসবেন যাতে সময় ঠিক থাকে। কিন্তু আপনার গতি ঠিক থাকবেনা। গাড়িতে গতি বাড়বে। পৃথিবী ও সূর্য এই প্রাকৃতিক চক্রে একই ঘুরছে বলে গতি কম বেশি হলেও প্রতি চক্রে একই সময় লাগে। 

কাজেই 

আপনার শেষ প্রশ্ন সময় ধ্রুব থাকে কিনা। হ্যা প্রতি চক্রে বা সৌর বছরে সময় ধ্রুব থাকে। যদিও লক্ষ বছরের ক্ষেত্রে ধ্রুব নয়, কেন সেটা ভেতরে বলেছি যে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। 

এখানে মানুষের গোনা ক্যালন্ডারের সময় পরিবর্তন হয় কেননা আমরা আমাদের সুবিধার জন্য কিছু বাদ দেই আবার কিছু যোগ করি, যেমন লিপিয়ার। 

কিন্তু সৌর বছর সেটাই যা সূর্যকে প্রদক্ষিন করার সময়। আমদের সুবিধার জন্য প্রণিত নয়। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
07 ফেব্রুয়ারি "পদার্থ বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন mitu (267 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
1 উত্তর
9 Online Users
0 Member 9 Guest
Today Visits : 3037
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5080754
...