0 টি ভোট
"নেটওয়ার্ক" বিভাগে করেছেন (542 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
এডসঃ বিভিন্ন কোম্পানি তাদের প্রোডাক্ট এর প্রচারের জন্য সংক্ষিপ্ত আকারে পন্যের তথ্য, দাম এবং সাথে বিভিন্ন অফার যুক্ত করে ব্যানার বা পোস্টার আকৃতি যে ক্যাম্পিন করে তাকেই সাধারণত এডস বা বিজ্ঞাপন বলা হয়। পেপ্র বা টেলিভিশ্ন বিজ্ঞাপন সম্পর্কে সবাই আমরা জানি। কিন্তু এই ধরনের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এড নেটওয়ার্কঃ যখন কোন কোম্পানি বা সংস্থা সকল কোম্পানির কাছ থেকে বিজ্ঞাপন গ্রহন করে তা একটি নীতিমালার মাধ্যমে সম্প্রচার বা মিডিয়া মাধ্যমে সরবরাহ করে তখন তাকে এড নেটওয়ার্ক বা এড এজেন্সি বলা যেতে পারে। সংবাদ পত্র ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো কোন থার্ড পার্টি অথবা সরাসরি নিজেরা টেলিভিশন কতৃপক্ষ বা প্রিন্ট মিডিয়ার সাথে চুক্তি করে এই বিজ্ঞানপন দিতে পারে।
কিন্তু এক্ষেত্রে বড় একটি সীমাবদ্ধতা হচ্ছে বিজ্ঞাপন কেউ দেখল কিনা তা কোম্পানি জানতে পারেনা। সাধারণত টেলিভিশন চ্যানেল ঘুরিয়ে দিতে পছন্দ করে দর্শক। অন্যদিকে সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়া অধিকাংশ কেউ বিজ্ঞাপন দেখে না, তথাপি বড় কোন অফার থাকলে সেটা অনেকেই দেখেন।

অনলাইন এড নেটওয়ার্কঃ সময় পাল্টেছে। মানুষের বিনোদন বা প্রয়োজন মিডিয়ার ধরনও পালটে গেছে। বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তি বা ইন্টারনেটের যুগ, টেলিভিশন প্রিন্ট কাগজ ইত্যাদি ছেড়ে মানুষ এখন ইন্টারনেটমূখী।
আসলে টেলিভিশনের প্রয়োজন মিটিয়ে দিচ্ছে ইন্টারনেট। উপরন্ত ইন্টারনেট মিডিয়া কিছুটা নিজে কন্ট্রল করে গ্রহন করা যায় বলে মানুষ এটি বেশি গ্রহন করছে। যেমন ধরুন টেলিভিশনে কোন মুভি চললে সেটি কোন ব্যক্তি যদি অপছন্দ করেন তবে পুরা দুই থেকে তিন ঘন্টা তিনি হয়ত টেলিভিশন ছেড়ে দেন। কিন্তু ইন্টারনেটে পছন্দের প্রোগ্রাম বেছে দেখার সুযোগ থাকায় এবং যখন খুশি দেখতে পারার সুযোগ থাকায় মানুষ এটি বেশী গ্রহন করছে। তাই কোম্পানি গুলো তাদের বিজ্ঞাপন  বর্তমানে অনলাইন ভিক্তিক করেছে যাতে অধিক মানুষের কাছে পৌছানো যায়।
তথাপি ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, কোন ব্যক্তি বিজ্ঞাপন দেখছে কিনা তাও জানা যায়। ফলে কোম্পানির বিজ্ঞাপনের টাকা বৃথা যায়না।

কিন্তু ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন প্রচারও বিরাট চ্যালেঞ্জ এর ব্যাপার। কারন এখানে বিজ্ঞাপনগুলো নিয়ন্ত্রন, জনগনের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ, পছন্দ, অপছন্দ, ক্লীক, দেশ বা স্থান ইত্যাদি ট্রাক বা কন্ট্রলিং এর জন্য এড নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যান্ত কঠিন।

এই কারনে ইন্টারনেটে খুব কম ভাল এড নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ে গুগলই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ও ভাল এড নেটওয়ার্ক যারা ক্লায়েন্ট বা কোম্পানির সঠিক চাহিদা পূরন করতে পারছে। আর তাই অধিকাংশ কোম্পানি গুগলের সাথে বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী।

একটি এড নেটওয়ার্ক সাইট তৈরির জন্য যা প্রয়োজনঃ একটি এড নেটওয়ার্কের জন্য এড সাইট তৈরি সফটওয়ার তৈরি, এলগরিদম তৈরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে এড কন্টেন্ট এর জন্য এড ম্যানেজমেন্ট ডাটাবেজ ও সফটওয়ার তৈরি ছাড়াও বিশেষ যা দরকার হবে তা হচ্ছে লোকেশন ট্রাকিং সিস্টেম। যাতে করে ইউজার কোন দেশ বা শহর থেকে কন্টেন্ট দেখছে তা জানা যায়। কারন বাংলাদেশের কোন এড তো আপনি আফ্রিকায় প্রচার করবেন না নিশ্চয়। কাজেই লোকেশন অনুযায়ী এড সরবরাহ করার জন্য এনালাইসিস টুলস সহ লোকেশন ট্রাকিং সফটওয়ার থাকা একান্ত প্রয়োজন।

কন্টেন্ট এনালাইসিস টুলসঃ আপনি কোম্পানি মালিক হলে নিশ্চয় চাইবেন, আপনার এডস সেখানেই যাক বা প্রদর্শন হোক যেখানে ভাল কন্টেন্ট রয়েছে এবং কন্টেন্ট এর জন্য মানুষ সেখানে অনেক সময় দেয়। যদি কোন পেজে অল্প কন্টেন্ট থাকে তবে ভিজিটর সেই পেজে যাবেনা। গেলেও ১ মিনিটেই চলে আসবে। এমন পেজে বিজ্ঞাপন দিলে ভিজিটর বিজ্ঞাপন দেখবে না। তাই যে পেজে বেশি কন্টেন্ট ও ভিজিটর বেশী সময় দেয় সেই কন্টেন্ট এনালাইসিস করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানোর সফটওয়ার বা টুলস থাকতে হবে।

কপি কন্টেন্ট ডিটেক্টরঃ এড নেটওয়ার্ক সাইটে অবশ্যই কপি কন্টেন্ট ধরার টুলস থাকতে হবে। একজন ভিজিটর অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে যেয়ে থাকেন। এখন দুটি সাইটের কন্টেন্ট একই হলে ঐ সাইট ভিজিটর একই বিজ্ঞাপন পাবে। ফলে এক জিনিস এক ব্যক্তিকে দুই বার দেখিয়ে টাকা নষ্ট করতে চাইবেন না নিশ্চয়। তাই কপি কন্টেন্ট ধরার ব্যবস্থা থাকতেই হবে এড নেটওয়ার্কে।

ভিজিটর সনাক্তকরন ব্যবস্থাঃ ভিজিটরে ব্যক্তিগত তথ্য ট্রাক করা অবৈধ। কিন্তু কোন ভিজিটরকে একটি আইডি দিয়া ট্রাক করা জরুরী। যাতে বিজ্ঞাপনে অবৈধ  ক্লিক না পড়ে। ধরুন আমি আপনার সাইটে গেলাম তাহলে আমার আইপি এর সাথে যদি ৪৫ এমন একটি নাম্বার জুড়ে দেন তবে এই নাম্বার থেকে ব্যক্তিগত তথ্য পাবেন না ঠিকই, কিন্তু এই নাম্বার কতবার সাইটে আসলো গেল, বিজ্ঞাপন দেখল, ক্লিক করলো তা জানা যায়। কাজেই এমন ভিজিটর শনাক্তকরন ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে ভিজিটর ও বিজ্ঞাপন দাতা উভয়ের স্বার্থ বজায় থাকে। আপনি নিশ্চয় একই ব্যক্তিকে বার বার ক্লিক করতে দিয়ে পকেটের টাকা দিবেন না । তাইনা।

সফটওয়ার বা রোবট শনাক্ত করন টুলস থাকতে হবেঃ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমর্তার যুগে সফটওয়ার দিয়ে ক্লিক করিয়ে নেওয়া যায়। আপনি নিশ্চয় একটি রোবট সফটওয়ারকে বিজ্ঞাপন দেখাতে চাইবেন না তাইনা, কেননা রোবট আপনার প্রোডাক্ট কিনবেনা। তাই এড নেটওয়ার্ক সাইটের জন্য রোবট ডিটেকশন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মানি বা কষ্ট ম্যানেজমেন্টঃ কোন ভিজিটর কোন বিজ্ঞাপন কতক্ষন দেখল, ভিজিটর কিভাবে বিজ্ঞাপনের খবর পেল, ভিজিটর বিজ্ঞাপনে এক ক্লিক করেই চলে গেল কিনা এসবের ভিক্তিতে ক্লিকের জন্য খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়। কেউ ১ মিনিট বিজ্ঞাপন দেখে এক ক্লিক করে চলে গেল আর কেউ বিজ্ঞাপন দেখে ক্লিক করে আপনার প্রোডাক্ট পেজে এসে প্রোডাক্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পড়ছে। এই দুই এর মধ্যে কাকে টাকা দিবেন আপনি। নিশ্চয় যে অধিক তথ্য পড়ছে তাকে তাইনা? কারন তিনিই কেনার জন্য জানতে চাচ্ছে। সেই ভিজিটরের জন্যই আপনি বেশি খরচ করবেন তাইনা? এই ধরনের স্টাটিস্টিক্স এনালাইসিস করে ভিন্ন ভিন্ন একটিভিটির জন্য ভিন্ন খরচ কাটার জন্য উচ্চ মানের সফটওয়ার দরকার হবে।

সর্ব পরী একল বিষয়ের রিপোর্ট প্রদর্শন, চার্ট প্রদর্শন ইত্যাদির জন্য সফটওয়ার থাকতে হবে।

এসকল সফটওয়ারেরে সমনয়ে এবং হাই সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি সফল এড নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেতে পারে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
30 নভেম্বর 2020 "গণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন suman (93 পয়েন্ট)
8 Online Users
0 Member 8 Guest
Today Visits : 3332
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5081049
...