0 টি ভোট
"স্বাস্থ্য ও শরীর গঠন" বিভাগে করেছেন (3.1k পয়েন্ট)
ডায়াবেটিস রোগীর সুগার লো হবার পর কিছু না খাওয়া সত্বেও বেয়াম বা পরিশ্রম করলে সুগার বেড়ে যায় কেন এবং কিভাবে?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
শর্করা বা কার্বহাইড্রেটঃ নিন্ম আনবিক সংখ্যা বা অল্প কার্বনশিকল বিশিষ্ট যেসকল কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন সংযোগে মিলিত যৌগ জীবদেহে জারিত হয়ে তাপশক্তি উৎপন্ন করে তাকে শর্করা বা কার্বহাইড্রেট বলে।
যেমন গ্লূকোজ, সুক্রোজ ইত্যাদি।
অনেক উচ্চ অনুর কার্বহাইড্রেট মানুষ হজম করতে না পারায় তা শর্করা হিসাবে বিবেচিত হয়না।

এই শর্করা মানুষের দেহের কোষের মাইটোকন্ড্রিয়াতে বিভিন্ন ধাপে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপন্ন করে। যে শক্তি আমাদের কর্মশক্তি বেচে থাকার শক্তি যোগায়। তাই শর্করা মানব দেহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ডায়াবেটিস কিঃ আসলে ডায়াবেটিস কোন রোগ নয়। এটি রোগের উপসর্গ মাত্র এবং একটি শারীরবৃত্তীয় সমস্যা।
আমরা শক্তি তথা বেচে থাকার জন্য যে কার্বহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার খাই তা পাকস্থলিতে পরিপাক হয়ে গ্লূকোজে রুপান্তরিত হয়। এই গ্লূকোজ রক্ত দ্বারা শোষিত ও পরিবাহিত হয়ে প্রতিটি সজীব কোষে পৌছায়। সেখানে এটি ব্যবহার হয়ে আমাদের শক্তি যোগায়।

আমরা জানি আমাদের কোষের প্লাজমামেমব্রেন বিশেষ ধরনের অর্ধভেদ্য বা বৈষম্যভেদ্য প্রকৃতির। এর অর্থ কোষের প্রয়োজনীয় উপাদান গুলো কেবল এই প্লাজমামেমব্রেন বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকতে দেয়। অপ্রয়োজনীয় উপাদান ঢুকতে বাধা দেয়। আবার কোষের ভেতর থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলো বাইরে বের হতে দেয়। কোষীয় উপাদান বের হতে দেয়না।

প্লাজমামেমব্রেন এই কন্ট্রোলিং এর কাজ গুলো করে বিভিন্ন হরমোন ও উপাদান দ্বারা পরিমাপ করে। রক্ত থেকে শর্করা তথা গ্লূকোজও ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের সাহায্যেই প্লাজমামেমব্রেন ভেদ করে কোষের ভেতর প্রবেশ করে।
এখন যদি কোন কারনে দেহে ইনসুলিন উৎপন্ন বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়। তাহলে ইনসুলিনের অভাবে প্লাওজমামেমব্রেন শর্করা বা গ্লূকোজকে কোষের ভেতর প্রবেশ করতে দেয়না। ফলে সকল শর্করা রক্তে জমা হয়ে থাকে। যেহেতু আমরা বেচে থাকার জন্য শর্করা খাচ্ছি তাই এই পরিপাককৃত শর্করা রক্তে কেবল জমা হতেই থাকে কারন কোষে প্রবেশ করতে না পারায় তা খরচ হতে পারেনা।

এই অবস্থায় অতিরিক্ত গ্লূকোজকে রক্ত বর্জ্য হিসাবে চিহ্নিত করে তা কিডনী দ্বারা ছেকে পৃথক করে মূত্রের মাধ্যমে বের করে দেয়। ফলে ঘন ঘন মূত্র বেগ পায়। এই অবস্থাকে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস বলে।

এর ফলে কোষে শক্তি উৎপন্ন হতে পারেনা বলে মানুষ দুর্বল হতে থাকে। শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে, শরীর ভেঙ্গে পড়ে।

বেয়ামের পর ডায়াবেটিস লেবেল বা সুগার লেবেল হাই হয়ে যায় কেনঃ আমরা জানি আমাদের শরীরে গ্রহনকৃত অতিরিক্ত বা অবশ্যই কিছু পরিমান শর্করা বা গ্লূকোজ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রুপান্তরিত করে যকৃতে সঞ্চিত রাখে, যাতে দেহে শর্করার অভাব হলে যকৃত থেকে সহজে সাপ্লায় করতে পারে, আমরা যখন এক বেলা বা একদিন খায়না, রোজা বা উপবাস করি তখন এই লিভার বা যকৃত থেকে ডিগ্লাইকোলাইস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে রক্তে গ্লূকোজ বা সুগার সাপ্লায় হয় যা কোষে যেহে শক্তি উৎপাদন করে। ফলে আমাদের ক্ষতি হয়না।

এখন আমরা জানি যে ডায়াবেটিস রোগীদের শর্করা কম ক্ষেতে হয় যাতে রক্তে সুগার লেবেল ঠিক থাকে। এখন ধরি হঠাত করে রক্তে সুগার লেবেল বেশ কমে গেল। বা সময়মত কোন কারনে কারনে পারেননি। আবার ডায়াবেটিস রোগীদের হাটা চলা বা বেয়ামের নির্দেশ দেন ডক্টারগণ। তখন কেউ কেউ খেয়াল করেছেন যে, সুগার কম থাকা সত্বেও বেয়ামের পর বেড়ে গেছে। আসলে বেয়াম বা পরিশ্রম করার সময় কোষে শর্করার দরকার হয়। এই সময় রক্তে শর্করা না থাকলে লিভার বা যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভাঙ্গতে শুরু করে। গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গ্লূকোজ তৈরি করে রক্তে সাপ্লাই করে যাতে রক্ত তা বহন করে কোষে নিয়ে যেতে পারে।
এই কারনে বেয়ামের পর ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লূকোজ বা সুগার লেবেল হাই হতে দেখা যায়।
এতে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন তাহলে উপবাস বা মাঝে মাঝে না খাওয়া ক্ষতিকর, কেননা এভাবে যকৃতের গ্লাইকোজেন ভেঙ্গে গেলে অসুবিধা হতে পারে।
না ভূল ভাবছেন। বরং উলটা। বিজ্ঞানীরা বলেন উপবাস ভাল, রোজা ভাল।
কারন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন খরচ করাই উত্তর। ধরুন আজ যে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত আছে তা খরচ হলনা। তাহলে বছরের পর বছর একই জিনিস সঞ্চিত থাকলে তা অন্যন্য হরমোনের সাথে ক্রিয়া করে নানা অসুবিধার সৃষ্টি করে। আমরা জানি, যকৃত বা লিভারকে মানব দেহের রসায়নাগার বলা হয়। অর্থাৎ এখানে নানা ক্রিয়া বিক্রিয়া চলছেই।
তাই মাঝে মাঝে উপবাস, রোজা করে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন খরচ করে আবার নতুন গ্লাইকোজেন সঞ্চয় করার সুযোগ দেওয়া অতি উত্তম। কেননা নতুন সঞ্চিত গ্লাইকোজেন পরিশ্রমের সময় বা প্রয়োজনের সময় দ্রুত ভেঙ্গে শক্তি দিতে পারে।



সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
06 সেপ্টেম্বর 2020 "সাইকিয়াট্রিক পরামর্শ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Lamyea Noor (390 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
2 টি উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
3 Online Users
0 Member 3 Guest
Today Visits : 9136
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5086848
...