0 টি ভোট
"সাধারণ জিজ্ঞাসা" বিভাগে করেছেন (177 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
ঘুমঃ ঘুম হচ্ছে একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। এটি মানুষসহ অন্যন্য প্রাণির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

ইন্দ্রীয় বা সচেতন ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া বন্ধ রেখে শারীরিক অঙ্গের বিশ্রামকে ঘুম বলে।

তবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে ঘুমের সংজ্ঞা দিতে চেষ্টা করেন।

ঘুম কেন আসে তার প্রকৃত কারন আজও বিজ্ঞানীরা উদঘাটন করতে পারেনি, রহস্য হয়ে রয়ে গেছে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় যেটুকু জানা যায়, তা হচ্ছে কর্ম ব্যস্ত সময়ে আমাদের শরীরের অংগ-প্রতাঙ্গ, কোষ, কোষীয় ক্রিয়া বিক্রিয়া, মস্তিষ্কের ক্রিয়া বিক্রিয়া ইত্যাদি সবকিছু আমাদের বা প্রাণীর ইচ্ছাধীন চিন্তা চেতনা পরিকল্পনার জন্য অবিরাম কাজ করে যায়।

কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে জীবের বা এসব অঙ্গ বা কোষের নিজস্ব কিছু কাজ থাকে যেগুলো কোষের স্বনিয়ন্ত্রিত। এগুলোর উপর আমাদের ইচ্ছার কাজ করেনা। যেমন কোষ বিভাজন। আপনি কি ইচ্ছা করলেই বিভাজন বন্ধ করে বৃদ্ধি বন্ধ করতে পারবেন? উত্তর হল না। ধরুন আপনি ভাবলেন যে ১ মিনিট নড়বেন না। এটা আপনি পারবেন কিন্তু কোষের নিজস্ব নড়ন বন্ধ করতে পারবেন না, ভাবলেন যে ৫ সেকেন্ড রক্ত প্রবাহ বন্ধ করবেন। পারবেন? না পারবেন না। কারন এই কাজ গুলো কোষ নিজস্ব শক্তি বলে করে থাকে। আপনি যখন জন্ম গ্রহন করেননি, মায়ের পেটে ছিলেন তখন তো বুঝতেনই না, কিন্তু তবুও কোষ তার কাজ করে আপনাকে বড় করে তুলেছে। ঠিক এই কোষের নিজস্ব কিছু কাজ করার জন্য আমাদের চিন্তা চেতনাকে বন্ধ করে রাখার প্রয়োজন হয়। কোষীয় শক্তি এই সময়টা ঘুমের মাধ্যমে গ্রহন করে।

আপনি যখন অনেক কষ্ট করে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তখন দেহের সমস্ত কোষ শক্তি সরবরাহ সহ অন্যন্য আপনার নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে ক্লান্ত হয়। এবং কোষ তার শক্তি হারায়। এই অবস্থায় কোষ নিজস্বভাবে আপনাকে আবার কর্মশক্তি দিতে নিজেকে সজীবতায় ফিরিয়ে আনতে শরীরকে ক্লান্ত করে ঘুম এনায়ন করে। এই ঘুম এনায়নের কাজটি করে থাকে জিন, হরমোন, মস্তিষ্কের জটিল সমন্বয়ে। যখন আপনি আপনার ইচ্ছাধীন চিন্তা চেতনা হারীয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তখন কোষ তার নিজস্ব কাজ গুলো সম্পাদন করে সজীবতা ফিরিয়ে আনে।

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে, আপনিও খেয়াল করে থাকবেন যে, একটি বীজ রোপন করলে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাতেই অঙ্কুরিত হয়, আবার চারা গাছ দিনের বেলায় বাড়তে দেখেন না, কিন্তু সকালে উঠে দেখেন ঠিকই কিছুটা লম্বা হয়েছে। আসলে দিনে বিভিন্ন ক্রিয়া বিক্রিয়া খাদ্য তৈরি ইত্যাদি করতে সময় খরচ হয়। তাই রাতেই নিজস্ব কাজের সুযোগ করে নেয়। এমনি মানব দেহও পরিশ্রমের পর ঘুম এনায়ন করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে পরিশ্রম না করলেও প্রচুর ঘুম পায়। আলসেমী করলে বা অলসদের এটি বেশি হয়। আসলে এক্ষেত্রে ঘুম একটি হ্যাবিট বা অভ্যাসে পরিণত হয়। এই ঘুমের মধ্যেও কোষ তার নানা কাজ করে থাকে। উদাহরন ধরুন যে, আমরা পেট ভরে খেলে মেলা কাজ করতে পারি। আবার আপনি প্রতিদিন তিন বেলা পেট ভরেই খান, ভাল খাবার খান, কিন্তু কোন কাজ করেন না। তবুও কিন্তু ঠিক ঠাক সময় মত ক্ষিদে পায়। আগের খাবারের শক্তি রয়ে যাচ্ছেনা। কোষ এই শারীরিক প্রক্রিয়ারও সমন্বয় করে থাকে এই ঘুমের মাধ্যমে।

আবার বিশ্বের প্রতিটি জীবের সিকিউরিটি সিস্টেম রয়েছে। অর্থাৎ শত্রুর হাত থেকে রক্ষার উপায়। কিন্তু ঘুমের সময় তেমন কোন উপায় কাজ করেনা। জঙ্গলে ঘুমিয়ে পড়লেন, আর মাংসাশী জীবজন্তু এসে নিয়া গেল। করার কিছু নাই। এক্ষেত্রে ঘুমের এক অদ্ভুদ শক্তি রয়েছে যা ঐ জীবকে কিছুটা প্রটেক্ট করতে পারে। যদিও এটি জোরালো কোন ব্যবস্থা নয়।

অনেকেই হয়ত দেখেছেন যে ঘুমন্ত মানুষের চেহারায় একটা অতি মায়া ভাব ফুটে ওঠে। এটি একটি রহস্য বিজ্ঞানীদের কাছে। তবে বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা দেন এটি নিজেকে রক্ষার একটি দৈহিক কৌশল। সাধারণত ঘুমের সময় যে মায়া ভাব ফুটে ওঠে সেটি দেখলে একজন সাধারণ মানুষ তাকে ডীস্টার্ব করার কথা ভুলে যান। যদি কোন কাজ, বা কোন দুষ্টামী বা রাগান্বিত ব্যক্তি না হলে অধিকাংশ মানুষ ঘুমন্ত ব্যক্তিকে আরও সসাহায্য করেন যাতে তার সমস্যা না হয়। বনের জীব জন্তুদের মধ্যেও এই প্রক্রিয়া আছে। ঘুমন্ত হরিণকে যদি বাঘ খেত তবে সারাদিন দৌড়ঝাপ না করে রাতে ঘুমানোর অপেক্ষায় থাকত। দিনের বেলা শন্দ না করে, লুকিয়ে লুকিয়ে , গাছ পাতার আড়াল থেকে কৌশলে যে জন্তু শিকার করা ভাবে সে অপেক্ষা করে রাতে সহজে ধরার কথাও ভাবতে পারে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী আসলে তা হয়না। বনে নিরিহ প্রাণীদেরও বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে, রাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছেনা। হ্যা সারাদিনে না খাওয়া, দুদিন না খাওয়া খুধার্ত হিংস্র জীব হয়ত মাঝে মাঝে পেলে ঘুমন্ত জীবদের নিয়া যায়। কিন্তু তা বাধ্য হয়ে, ঐযে অতি খুধার্ত থাকলে। কিন্তু তা অভ্যাস বা কৌশলে পরিণত হয়না। সকালে ঠিকই শিকারে বেরিয়ে পড়ে।

সকল প্রাণি ঘুমায় কিনাঃ গবেষণায় জানা গেছে যে সকল প্রাণীই ঘুমায় কিন্তু সেই ঘুমের ধরণ এক হয়না। মানুষ চোখ বন্ধ করে যেমন ঘুমায়, একটি সাপ সেরকম নয়, সাপ চোখ খোলা রেখেই ঘুমায়। ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমায়। অনেকেই বলেন আবার অনেক সাইটে পাবেন যে, পিপড়া ঘুমায় না। এটি ঠিক নয়, পিপড়াও ঘুমায়, তবে তা মানুষের মত, স্থির হয়ে অনেক সময় নিয়া নয়, পিপড়াদের ঘুমকে ন্যাপ নেওয়া বলে। অর্থাৎ এরা যেকোন কাজের মাঝে ২০ সেকেন্ড ন্যাপ নিয়া ঘুমাতে পারে।

বহু প্রজাতির মাছ সাতার কাটতে কাটতে ঘুমায়। অবাক হলেন? দেখুন মানুষ ঘমালেও মস্তিষ্কের একটি অংশ সারাজীবন জেগে থাকে। ঘুমের মধ্যে মশায় কাপড়ালে বুঝতে পারেন আর নাই পারেন নড়ে ওঠেন, হাত হয়ত একটি থাপ্পড়ও দেয়। এটি আসলে কন্ট্রোল করে স্পাইনাল কর্ড। একটু জোরে ডাক দিলে ঘুম ভাঙ্গে কারন তখন এই মস্তিষ্কের জাগ্রত অংশটি বলে দেয় যে জাগতে হবে। এই জাগ্রত অংশ না থাকলে আপনি  কখনোই ঘুম থেকে উঠতেন না, ঘুম আর মৃতুর মধ্যে পার্থক্য থাকত না। মাছেরও এই জাগরত অংশটুকু সাতার নিয়ন্ত্রন করে, কেননা মাছের জন্য ওটাই তার প্রাকৃতিক পরিবেশ, কোষ গুলো ওভাবেও তৈরি।

এভাবে ভিন্ন ভিন্ন ঘুম প্রক্রিয়া প্রত্যেক জীবেই আছে।

কিছু জীবে হয়ত কোন প্রক্রিয়াই দেখা যায়না। যেমন এসিডিয়া, এরা পাথরের গায়ে নিশ্চল লেগে থাকে, চোখই নাই তার আর ঘুম। কিন্তু বাস্তবতা হল শরীরের সজীব কোষ অবিরাম কাজ করেনা। ঘুমের মত কোষ বিশ্রাম নেয় যা ঐ জীবের ক্লান্তিনাশোক ঘুম।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
14 ফেব্রুয়ারি "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sampaa (38 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
09 সেপ্টেম্বর 2020 "নিত্য সমস্যাবলী" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Lamyea Noor (390 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
0 টি উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
08 ডিসেম্বর 2020 "সাধারণ জিজ্ঞাসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন আলো (661 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
1 Online Users
0 Member 1 Guest
Today Visits : 8997
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5086709
...