0 টি ভোট
"বায়োলজি বই" বিভাগে করেছেন (3.1k পয়েন্ট)
আদিকোষ বলতে কি বোঝায়

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
আদিকোষঃ সাধারণ অর্থে আদি কোষ বলতে জীব সৃষ্টির প্রথম দিকে, প্রথমে যে কোষটি সৃষ্টি হয়েছিল সেই কোষকে বোঝায়। তারপর সে কোষে পরবর্তীতে নানা বিবর্তন পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মাধ্যমে আজকের এই প্রকৃত কোষের আবির্ভাব হয়েছে।
 সৃষ্টির প্রথম দিকে যে কোষের উদ্ভব হয়েছিল সেই কোষ ছিল অত্যান্ত সরল প্রকৃতির। সেই কোষের গঠন বর্তমান উন্নত প্রানীর কোষের মত এত জটিল ছিল না।

আদিকোষে কোষ্প্রাচীর বা প্লাজমামেমব্রেন সুগঠিত নয় বরং অনেকটা সরাসরি রাসায়নিক পদার্থজমাকৃত কোষপ্রাচীর।
এছাড়া কোষের অভ্যান্তরে সাইটোপ্লাজম বা প্রোটোপ্লাজমও সুগঠিত নয়। নিউক্লিয়াসও সুগঠিত নয়।  নিউক্লিয়াস এর গঠন ও উপাদান এতড়ি সরল যে তাকে নিউক্লিয়াস না বলে নিউক্লওয়েড বা নিউক্লিয়ার বস্তু বলা হয়ে থাকে।
আদিকোষে মাইটোকন্ড্রিয়া বা ক্লোরোপ্লাস্ট, গলগি বস্তু প্রভুতি থাকেনা। এতে DNA লম্বাকৃতি নয় বরং গোলাকার থাকে।

নিন্মে পার্থক্যের বিষয়ে আদিকোষের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে

আদিকোষ ও প্রকৃত কোষের মধ্যে পার্থক্যঃ-
আদিকোষ
প্রকৃতকোষ
১। আদিকোষ সুগঠিত নয়। অর্থাৎ আদিকোষের গঠন সরল এবং এর ভেতরে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গানুও কম।
১। প্রকৃত কোষ সুগঠিত। এতে বিভিন্ন ধরণের কোষীয় অঙ্গাণু বিদ্যমান।
২। আদিকোষে রাইবোজম ৩০s ও ৫০s সাবইউনিট দ্বারা গঠিত।
২। প্রকৃত কোষ ৬০s ও ৪০s উপ একক সাবইউনিট দ্বারা গঠিত।
৩। সাইটোপ্লাজমীয় গঠন সরল, সাধারণত অর্ধতরল প্রকৃতির।
৩। সাইটোপ্লাজম সাইটোকংকল জাতীয় ঘোন থকথকে পদার্থ দ্বারা গঠিত।
৪। DNA বৃত্তাকার ও ননহিস্টন।
৪। DNA লম্বাকৃতি এতে সেন্ট্রোমিয়ার স্যাট ইত্যাদি থাকে। হিস্টোন প্রোটিন বিদ্যমান
৫। মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বডি, ক্লোরোপ্লাস্ট, ইত্যাদি নেই।
৫। এসকল উপাদান্সহ অধিকাংশ কোষীয় অঙ্গানু বিদ্যমান।
৬। নিউক্লিয়াস নাই, এর পরিবর্তে নিউক্লওয়েড বা নিউক্লিয়ার বস্তু সাইটোপ্লাজমে নগ্ন অবস্থায় থাকে। নিউক্লিয়ার বস্তুতে নিউক্লিয়াসের মত সকল উপাদান থাকেনা।
৬। সুগঠিত নিউক্লিয়াস, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস ইত্যাদি থাকে।
৭। আদিকোষ খুবই ক্ষুদ্র,সাধারণত ১-১০ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে।
প্রকৃতকোষ অপেক্ষাকৃত অনেক বড় । এটি ১০-১০০ মাইক্রোমিটার হয়ে থাকে।
৮। ফ্লাজেলার সাহায্যে কিছুটা চলন সম্পর্ণ করে।
৮। শুক্রানু কোষ ফ্লাজেলার মত লেজের সাহায্যে চলতে পারে। অন্য কিছু বিশেষ কোষ সিলিয়া, টিউবিউলিন ইত্যাদির সাহায্যে কিছুটা চলতে পারে।
৯। দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় কোষের বিভাজন ঘটে।
৯। মাইটোসিস, বাডীং, মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজন ঘটে।
১০। আদিকোষ একক কোষ। কোন শ্রমবন্টন বা অঙ্গতন্ত্র নাই।
১০। বহুকোষী জীবে বিভিন্ন অঙ্গ শ্রমবন্টন দেখা যায়।


সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
0 টি উত্তর
0 টি ভোট
0 টি উত্তর
07 মার্চ "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন রিপন (3.1k পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
29 মে "বায়োলজি বই" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Waruf (3.6k পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
13 মে "বায়োলজি বই" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন অজ্ঞাতকুলশীল
4 Online Users
0 Member 4 Guest
Today Visits : 8587
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5086299
...