0 টি ভোট
"বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (3.1k পয়েন্ট)
বিভিন্ন প্রকার vitamin বা খাদ্যপ্রাণ বর্ণনা কর? 

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.1k পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন

শর্করা, আমিষ, স্নেহ খাদ্য উপাদান ছাড়াও দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ  ও জৈব রসায়নিক বিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য এক প্রকার বিশেষ উপাদান প্রয়োজন যার সরাসরি পুষ্টিগুন নেই এবং শরীরে কম পরিমান হলেও অবশ্যই প্রয়োজনীয়, এমন উপাদানগুলোকে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ বলে।  ভিটামিনের অভাব হলে শরীরে নানা প্রকার উপসর্গ দেখা দেয়। দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া সংঘটিত হতে পারেনা বলে বৃদ্ধি রোহিত হয় বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যেহেতু ভিটামিনের সরাসরি পুষ্টিগুন নাই বলে অনেক সময় এগুলোর চাহিদা শরীরে অনুভব করা যায়না কিন্তু শরীরে অভাবজনিত রোগলক্ষন ফুটে ওঠে। যেমন ঠোটে ও মুখে ঘা হওয়া। 


অনেক প্রকার ভিটামিন উপাদান থাকলেও চাহিদা ও প্রাধান্যের ভিক্তিতে ভিটামিন প্রধানত ৬ প্রকার। যথাঃ-


১। ভিটামিন "এ" ঃ ডিম, দুধ, মাখ, ছানা, ঘি, যকৃত ও তেলসমৃদ্ধ মাছ, কড মাছ,  সামুদ্রিক মাছ,মলা ও ঢেলা মাছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন এ আছে। এছাড়া ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাকসবজি যেমন গাজর, লালশাক অন্যন্য, কচুশাক, পালনশাক, ডাটা শাক মিষ্টি কুমড়া, ঢেড়স, বাধাকপি, ফুলকপি , মটরশুটি, আম, পেপে, কাঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন "এ" আছে। 


কাজঃ-

১। দেহের স্বাভাবিক গঠন ও বৃদ্ধি সুস্থ্যভাবে সম্পর্ণ হওয়া নিশ্চিত করে। 

২। দেহের বিভিন্ন আবরনী কলা বা এপিথেলিয়াল টিস্যু যেমন ত্বক, চোখ, চোখের কর্ণিয়া, চোখের কোষ(রড ও কোণ কোষ) ইত্যাদি সজীব রাখে ফলে চোখের দৃষ্টি শক্তি সহজে কম বা নষ্ট হয়না। 

৩। হাড় ও দাতের গঠন মজবুত করে, দাতের মাড়ি ফোলা বন্ধ করে ও সুস্থ্য রাখে।

৪। দেহের রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে ও ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 

৫। দেহের ত্বক সুস্থ্য রাখে ও জনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 


অভাবজনিত রোগ বা লক্ষনঃ ভিটামিন "এ" এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্ণিয়ায় আলসার হতে পারে। এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া বলে। এতে পুরাপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

দেহের বৃদ্ধি রোহিত হয়ে যায়। সর্দিকাশি, গলাব্যাথা, প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ত্বকের অনুজ্জ্বল্যতা, লোমকূপে ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 


ভিটামিন "বি" ঃ ভিটামিন "বি" পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। এবং এটির ১২ টির একটি গ্রুপ রয়েছে। একত্রে একে ভিটামিন "বি" কমপ্লেক্স বলে। 

কাজঃ ভিটামিন 'বি' দেহের স্বাভাবিক সুস্থ্যতা, বৃদ্ধি, স্নায়ু ও মস্তিষ্কের কাজ, কোষের বিপাকীয় কাজ, প্রজনন ইত্যাদি সম্পর্ণ করে। 

উৎস ও রোগলক্ষনঃ 


ভিটামিন 'বি১' ঃ ঢেকি ছাটা চাল, আটা, ডাল। তেলবীজ, বাদাম, যকৃত, ফল, সবজি, যকৃত, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদিতে ভিটামিন 'বি১' রয়েছে। 

এর অভাবে দেহে 'বেরি-বেরি' রোগ হয়। স্নায়ুবিক দূর্বলতা, অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ায় অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি দেখা দেয়।


ভিটামিন 'বি২' ঃ যকৃত, দুধ, ডিম, সবুজ শাকসবজি, গাছের কচি ডগা যেমন লাউ কুমড়া, ডাটা শাক, ঘৃতকাঞ্চন, অঙ্কুরিত ছোলা বীজে প্রচুর ভিটামিন 'বি২' রয়েছে। 


এর অভাবে ঠোটে, মুখে, জিহব্বায় ঘা হয়, ঠোটের দু-পাশে ফাটল ধরে, ত্বক খসখসে হয়, চোখ দিয়া পানি ঝরে, তীব্র আলোতে চোখ খুলতে অসুবিধা হয়। 


ভিটামিন 'বি৫' ঃ মাংস, যকৃত, আটা, ডাল, বাদাম, তেলবীজ, ছোলা, শাক-সবজিতে ভিটামিন "বি৫" পাওয়া যায়।


এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। পেলেগ্রা রোগে ত্বকে রঞ্জক পদার্থ জমতে শুরু করে এবং সূর্যের আলোয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকে লালচে দাগ পড়ে এবং ত্বক খসখসে হয়ে যায়। এছাড়া জিহব্বায় রঞ্জক জমলে এট্রোফি হয়।


ভিটামিন 'বি৬'ঃ চাল, আটা, মাছ, মাংস, ছোলা, ছত্রাক বা মাশরুম, শাকসবজি, (বৃক্ক), ডিমের কুসুম ইত্যাদিতে ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়।


এর অভাবে খাওয়ায় অরুচি, বমিভাব ও অ্যামিনিয়া রোগ হতে পারে।


ভিটামিন বি১২ঃ দুধ, পনি, মাংস, যকৃত, ডিম ইত্যাদিতে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়।


এর অভাবে রক্তশুন্যতা দেখা দেয় এবং স্নাবিক অবক্ষয় ঘটে।


ভিটামিন "সি"ঃ-

উৎসঃ টাটকা শাকসবজি ও ফলে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, মুলাশাক, লেটুস, ধনে, পুদিনা, কাচামরিচ, ফুলকপি, আমলকী, কমলা, লেবু, টমেটো, আনারস পেয়ারাতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে।

ভিটামিন সি হচ্ছে এসকরবিক এসিড।


কাজঃ-

১। ত্বক, হাড়, দাতের গঠন মজবুত করে। দাত ও মাড়ি শক্ত সুস্থ্য রাখে।

২। শরীরের ক্ষত শুকাতে ও পুনঃগঠনে সহায়তা করে।

৩। স্নেহ, আমিষ পরিপাক, এমাইনো এসিড বিপাকে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪। ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখে।

৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সর্দি-কাশি ও স্কার্ভি নিরাময় করে।


অভাব্জনিত লক্ষনঃ-

ভিটামিস সি এর অভাবে দাতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া স্কার্ভি রোগ হয়। অস্থির গঠন দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়। ত্বকের ক্ষত, ঘা শুকাতে দেরি হয়, দাতের মাড়ি ফুলে যায়, ইনামেল নষ্ট হয়। এতে দাত নড়বড়ে হয়ে উঠে যেতে পারে। ঠান্ডা লেগে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ফলে সহজে সর্দিকাশি ফ্লুতে আক্রান্ত হয়।


ভিটামিন 'ডি'ঃ ভিটামিন ডি একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই পাওয়া যায়। এবং এটি মূক্ত ভাবে পাওয়া যায়না, সূর্য্যের আলোক রশ্মির সাহায্যে ত্বকের নিচে রক্তজালকে সংশ্লেষিত হয়।

উৎসঃ ডিমের কুসুম, দুধ, মাখন, যকৃত, বাধাকপি, তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। ( পরীক্ষায় এভাবে লিখতে হবে কিন্তু আসলে সরাসরি ভিটামিন ডি পাওয়া যায়না, এই খাদ্য থেকে এক প্রকার বিশেষ কোলেস্টেরল যুক্ত চর্বি উপাদান পাওয়া যায়। যা থেকে ক্যালিকেলসিফেরল ডি ত্বক সংশ্লেষন করে সঞ্চিত রাখে, পরে সূর্যালোক ত্বকে পড়লে ত্বক একে সক্রিয় ভিটামিন ডি তে পরিণত করে)


কাজঃ ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম পরিশোষনে সাহায্য করে যা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রিকেটস সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।


অভাবজনিত রোগ লক্ষনঃ ভিটামিন ডি এর অভাবে শিশুদের রিকেটস নামক রোগ হয়। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গ্রহন করলে প্রচুর ক্যালসিয়াম ফসফরাস রক্তে শোষিত হয় । ফলে কিডনি, হৃদপিন্ড, ধমনীতে ক্যালসিয়াম জমতে শুরু করে। ফলে দেহে ক্ষতি হয়।


ভিটামিন 'ই'ঃ প্রায় সকল উদ্ভিজ্য তেল বা ভোজ্য তেলে ভিটামিন ই থাকে। পাম তেলে প্রচুর ভিটামিন ই থাকে। এছাড়া সব খাবারেই কম বেশি ভিটামিন ই পাওয়া যায়। ডিমের কুসুমে ভিটামিন 'ই' আছে।


কাজঃ ভিটামিন ই এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। ফলে এটি ধমনীতে চর্বি জমা রোধ করে। কোষ গঠনে সাহায্য করে। বন্ধ্যাত্ব দূরীকরনের ভিটামিন ই এর ভূমিকা অনেল। এটি ত্বককে সুস্থ্য কোমল সজীব ও উজ্জ্বল রাখে।


অভাবজনিত রোগ বা লক্ষনঃ ভিটামিন ই এর অভাব হলে ত্বক উজ্জ্বল্যতা হারায়। চোখের নিচে কাল দাগ পড়ে। এর অভাব জরায়ুতে ভ্রূনের মৃত্যু ঘটাতে পারে।



ভিটামিন 'কে'ঃ ভিটামিন 'কে' এর দুটি ভ্যারাইটি আছে। 'কে১' এর উৎস উদ্ভদ যেমন বাধাকপি,লালশাক, পালনশাক, ফুলকপি বা ব্রুকলি সহ সবুজ পাতাওয়া শাকে কিছুটা পাওয়া যায়।

এবং 'কে২' অন্ত্রের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে সংশ্লেষিত হয়।


কাজঃ ভিটামিন কে শরীরে রক্ত নিয়ন্ত্রন, ক্ষত স্থানে রক্ততঞ্চন, এবং দেহে প্রোটিন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।


অভাবজনিত লক্ষনঃ

১। এর অভাবে সহজে ক্ষত স্থান থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়না।

২। ত্বকে সামান্য আঘাতেই কালসিটে পড়ে যায়।

৩। অন্ত্রের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্ত পাত ঘটে পায়খানায় রক্ত যেতে পারে।

৪। প্রসাবে রক্ত যেতে পারে।

৫। দুর্বলতা ও ফ্যাকাশে ভাব হয়।

৬। হাড় দূর্বল হয়।

৭। ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠে।

৮। হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
5 Online Users
0 Member 5 Guest
Today Visits : 8874
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5086586
...