"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি" বিভাগে করেছেন

এসাইনমেন্ট ৮ম শ্রেণির ৫ম সপ্তাহ 

1 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন

১। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অভিকর্ষজ ত্বরনের মান ভিন্ন ভিন্নঃ

আমরা জানি যে, আমাদের পৃথিবী গোলাকার হলেও সুষম গোল নয়। দুই মেরু কিছুটা চাপা মত এবং বিষুব অঞ্চলের দিকে কিছুটা প্রসারিত। এছাড়া পৃথিবীর ভূমিরুপ ও এক নয়।কোথাও সমভূমি তো কোথাও পাহাড় পার্বত। কোথাও সামুদ্রিক নিম্নভূমি অঞ্চল আবার কোথাও বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে মালভূলি,

এই কারনে পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ পর্যন্ত দুরত্ব R এই ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দুরত্ব কম বা বেশি হয়। মেরু অঞ্চল চাপা থাকার কারনে দুরত্ব R কম। আবার বিষুব অঞ্চল বা মালভূমি বা পাহাড়ের চুড়া পর্যন্ত দুরত্ব বেশি।

কোন স্থানের অভিকর্ষজ ত্বরন কেন্দ্র থেকে এই দুরত্বের উপর নির্ভর করে ।


পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দুরত্ব R হলে,

আমরা জানি অভিকর্ষজ ত্বরনের মান g = GM/R2

এখানে G হচ্ছে মহাকর্ষীয় ধ্রূবক এবং M হচ্ছে বস্তুর ভর যা নির্দিষ্ট। তাই ত্বরন g এর মান সর্বদা R তথা দুরত্বের উপর নির্ভর করে।

এই কারনে পাহাড়ের চুড়ায়, মালভূমিতে, বিষুব অঞ্চলে কেন্দ্র থেকে দুরত্ব বেশি হয় বলে R এর মান বৃদ্ধি পায় ফলে ত্বরন g এর মান কমে যায়। কারন দুরত্ব বেশি হলে বস্তুর উপর কেন্দ্রের আকর্ষন বল কমে যায়।

আবার মেরু অঞ্চল বা সমুদ্র তীর অনেক নিচু হওয়ায় তা থেকে কেন্দ্রের দুরত্ব কম হয় তাই R এর মান কম গলে উপরের সূত্র থেকে g এর মান বেড়ে যায়। দুরত্ব কমে যাওয়ার ফলে বস্তুর উপর কেন্দ্রের আকর্ষন বল বৃদ্ধি পায়। যেহেতু এই বস্তুর উপর এই আকর্ষন বলের মানই হচ্ছে অভিকর্ষ, একারনে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে কেন্দ্র থেকে ভূপৃষ্ঠের দুরত্বের কম বেশি হওয়ার জন্য অভিকর্ষজ ত্বরনের মানও ভিন্ন ভিন্ন হয়।


২। উত্তরঃ

দেওয়া আছে, পৃথিবীতে ভর হচ্ছে ৫০kg

তাহলে পৃথিবীতে বস্তুর ওজন হবে W=mg

এখানে W হচ্ছে ওজন, m বস্তুর ভর= ৫০ কেজি

এবং অভিকর্ষজ ত্বরন g=9.8 ms-2

তাহলে পৃথিবীতে আমার ওজন হবে ৫০ * ৯.৮ = ৪৯০ নিউটন।

ওজনের একক নিউটন।

নির্ণয় করতে অবে চাদে ওজন কত?


আমরা জানি বস্তু বা আমাদের উপর আকর্ষন বলকে ওজন বলে। ওজন এবং ভর এক নয়/

আবার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ওজনের মান ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই চাঁদে ওজন ভিন্ন হবে।

চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরনের মান পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরনের প্রায় ১/৬ ভাগ।

কাজেই চাঁদে আমার ওজন হবে ৪৯০ * ১/৬ = ৮১.৬৬৭ নিউটন (প্রায়)


(যেহতু এসাইনমেন্ট তাই এভাবে ব্যাখ্যা দিয়া বড় করেই লিখতে হবে। শুধু সূত্র বসিয়ে অংক করে দিলেই চলবেনা)


৩। উত্তরঃ

একটি পরিষ্কার কাচের গ্লাসে পানি নেওয়া হল। এবং তাতে ছোট এক টুকরো পাথর ফেলে দেওয়া হল।

এতে পাথরটি পানির মাঝ বরারবর গ্লাসের তলায় যেয়ে পড়ল।


পর্যবেক্ষণঃ

(ক) গ্লাসের উপর দিয়া পাথরটিকে সরাসরি দেখার চেষ্টা করা হল।

উপর থেকে পানির মধ্য দিয়া পাথরটিকে দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু পাথরটিকে মনে হচ্ছে তলাসহ পাথরটি কিছুটা উপরের দিকে। অর্থাৎ গ্লাসে তলা পর্যন্ত প্রকৃত যে দূরত্ব তার থেকে কম দূরত্বের বলে মনে হচ্ছে।

কারনঃ গ্লাসের পরিষ্কার পানি আলোক প্রতিসারক হিসাবে কাজ করে। আলো যখন কম ঘন মাধ্যম থেকে অধিক ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন অধিক ঘন মাধ্যমে আলোক প্রতিসারঙ্কের জন্য আপাতিত আলোক রশ্মি কম দুরত্বের ফোকাসে বিম্ব গঠন করে বলে দুরত্ব কম বলে মনে হয়।


(খ) কিছুটা তির্যকভাবে পাথরটি দেখার চেষ্টা করা হলঃ-

পাথরটি গ্লাসের তলা থেকে কিছুটা উপরে দেখা যাচ্ছে।

কারনঃ এটি আলোর প্রতিসরনের জন্য হয়েছে। আলো যখন অধিক ঘন মাধ্যম থেকে হালকা ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করে তখন মাধ্যমদ্বয়ের বিভেদ তলে আলোক রশ্মির প্রতিসরনের ফলে অভিলম্ব থেকে কম ঘন মাধ্যমে আলোক রশ্মি দূরে সরে যায় ফলে প্রতিসরন কোনের মান বেড়ে আলো বাকা ভাবে আমাদের চোখে প্রবেশ করে, কিন্তু পানির তলায় বস্তুটির প্রতিবিম্ব হালকা মাধ্যমের আলোক প্রতিসরনের জন্য বেকে যাওয়ার ফলে পানির তলা থেকে কিছুটা উপরে গঠিত হয়। তাই আমরা পাথরটিকে গ্লাসে পানির তলা থেকে কিছুটা উপরে দেখতে পাচ্ছি।


(গ) গ্লাসে যে পর্যন্ত পানি আছে তার একটু নিচ থেকে পর্যবেক্ষনঃ

এক্ষেত্রে পাথরটি আকারে একটু বড় দেখায়। \

কারনঃ গ্লাসের পানির মাঝ বরাবর দেখার জন্য আলোক আপতিত কোনের পরিমান খাড়া ৯০ ডিগ্রী হওয়ায় প্রতিসরন কোনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়না। কিন্তু গ্লাসের বিভেদ তল সমান্তরল নয় বরং বক্র বা লেন্সের মত হওয়ায় আলো পানির ঘন মাধ্যম থেকে বাইরে হালকা মাধ্যমে আসার সময় গ্লাসের বক্র বিভেদ তলে আলোর প্রতিসরনের জন্য প্রধান ফোকাসের সাথে কিছুটা সামনে পাথরের প্রতিবিম্ব গঠন করে। ফলে বিপরীত দিকে আলোক রশ্মি বর্ধিত করলে পাথরটি কিছুটা বড় মানের দেখায়।


পরিশেষে বলা যায় যে, তিনটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ও দৃশ্য দেখার কারন হচ্ছে আলোর প্রতিসরন। দুটি ভিন্ন ঘন মাধ্যমে আলোর প্রতিসরনের জন্য লক্ষবস্তুর এরুপ ভিন্ন অবস্থান ও প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।

করেছেন
২ নাম্বারের শেষ লাইনে ৮৯০ টা মনে হচ্ছে ৪৯০ হবে..নাকি ৮৯০ ই হওয়ার কথা? 
করেছেন
হ্যা ৪৯০ ই হবে
করেছেন
Thank you sir

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

2 টি উত্তর
25 নভেম্বর 2020 "গণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Waruf
5 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 5 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 6835
...