"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি" বিভাগে করেছেন

এসাইনমেন্টimage

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন

(ক) বিদ্যুৎ পরিবাহীঃ যেসকল পদার্থের মধ্য দিয়া বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে তাদেরকে বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে। কয়েকটি বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ হচ্ছে-

তামা(কপার) , লোহা, সোনা , রুপা, গ্রাফাইট, পারদ, এলুমিনিয়াম সহ সকল ধাতব পদার্থ।

বিদ্যুৎ অপরিবাহীঃ-

যেসকল পদার্থের মধ্য দিয়া বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারেনা তাদেরকে বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ বলে। কয়েকটি বিদ্যুৎ অপরিবাহী পদার্থ হচ্ছে-

যেকোন প্লাস্টিক, শুকনো কাঠ, রাবার, কাগজ, পশমী পোশাক, মেলামাইন, চিনা মাটি ইত্যাদি।

(খ) বিদ্যুৎ পরিবহনে তামার তারের ব্যবহারের কারনঃ-

১। তামা বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।

২। তামা উচ্চ ভোল্ট সহ অনেক বেশি এম্পিয়ার ইলেক্ট্রন বহন করে বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে।

৩। বিশুদ্ধ তামা নরম হওয়ায় সহজে বাকানো যায় বলে বাড়ি ওয়ারিং সুবিধা হয়। এছাড়া নরম হওয়ার কারনে সহজে চিকন সুক্ষ্ম তারে পরিণত করে বিভিন্ন সাইজের কেবল উৎপাদন সহজ হয়।

৪। তামা বাতাসে সহজে বিক্রিয়া করেনা।

৫। তামার কেবল কোন শক্ত বা জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই পেচিয়ে জোড়া দেওয়া যায়। এবং পেচিয়ে দিলেও উচ্চ এম্পিয়ার পরিবনের সময় অপচয় কম হয়।


(গ) ১ম চিত্রে মোম গলার পরের অবস্থাঃ-

মোম হচ্ছে হাইড্রোকার্বন। ভিন্ন ভিন্ন মোমে অন্যন্য কিছু মূলক থাকলেও মূল উপাদান হাইড্রোজেন।

তাপে মোম গলার পর তাতে দহন বিক্রিয়া ঘটে। তবে যততা মোম একসাথে গলে ততটা দ্রুত এক সাথে বিক্রিয়া করতে না পারায় কিছু গলিত মোম নিচে নেমে শীতল হয়ে শক্ত মোমে পরিণত হয় । কিন্তু অধিকাংশ গলিত মোম দহন বিক্রিয়া ঘটায়। 

মোমবাতির দহন দুই ধাপে হয়। প্রথম তাপে মোম গলে কৈশিক টানে সলতে বেয়ে উপরে ওঠে। এখানে সলতের কাছাকাছি যেখানে নিল রংয়ের আগুন জ্বলতে দেখা যায় সেখানে মূলত মোম বাষ্প থেকে হাইড্রোজেন পৃথক হয়ে অক্সিজেনের সাথে দহন বিক্রিয়া ঘটায়। বিক্রিয়া হচ্ছে

 H2+ O2 = H2O

এতে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয় এবং হাইড্রো কার্বনের অতি ক্ষুদ্র কার্বন পরমাণু মূক্ত হয়। এই কার্বন পরমানু পানি বাষ্পের উর্ধমুখীর সাথে নিল আগুনের উপরের দিকে যায় এবং সেখানে তাপের প্রভাবে আবারও বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করে। বিক্রিয়া

 C + O2 = CO2

এভাবে মোমবাতির মোম গলে তা বাতাসের সাথে কম্বাশন দহন বিক্রিয়া করে।


(ঘ) উদ্দিপকে ১ম চিত্রে রয়েছে একটি জ্বলন্ত মোমবাতি। গলণাংকঃ যে তাপমারায় কোন কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হতে থাকে তাকে ঐ বস্তুর গলণাংক বলে।
আমরা জানি মোম তাপে গলতে থাকে। যে তাপমাত্রায় মোম গলতে থাকে, তাকে মোমের গলণাংক বলে।
মোমের গলণাংক নির্ণয়ের জন্য ছোট একটি পরিক্ষা করা যাক। প্রতোজনীয় উপকরণঃ একটি বীকার, মোম, থার্মোমিটার, টেস্টিউব, স্পিরিট ল্যাপ, তারজালি, ত্রিপদি স্ট্যান্ড, লম্বা স্ট্যান্ড। কাজের ধারাঃ- ১। একটি টেস্টিউবে ছোট ছোট কিছু মোমের টুকরা নেই।
২। একটি ত্রিপদী স্ট্যান্ডের উপর তারজালী দিয়া তার উপর একটি বীকারে পানি নিয়ে বসিয়ে দেই।
৩। একটি লম্বা স্ট্যান্ডের সাহায্যে টেস্টিউবটিকে বীকারের পানির ভেতর এমন ভাবে রাখি যাতে টেস্টিউবের তলা বীকারে লেগে না থাকে। ৪। বীকারের পানিতে একটি থার্মোমিটার রাখি। ৫। এবার স্পিরিট ল্যাম্পের সাহায্যে বীকারের তলায় তাপ দিতে থাকি।
পর্যবেক্ষনঃ তাপ দিতে দিতে যখন মোম গলা শুরু করবে তখননি থার্মোমিটারে তাপমাত্রা দেখে লই। ফলাফলঃ তাপমাত্রা ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস পাওয়া গেল।

মোমের গলনাংক হচ্ছে ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অর্থাৎ মোমের তাপমাত্রা ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসে পৌছালে তা গলে তরলে পরিণত হতে থাকে।

হিমাংকঃ যে তাপমাত্রায় কোন বস্তু শীতল হয়ে কঠিন পদার্থে পরিনত হয় তাকে ঐ বস্তুর হিমাংক বলে।

পরিক্ষণঃ-
কাজের ধারাঃ - ১। একটি বড় বীকারে ঠান্ডা পানি নিই।
২। উপরে উল্লেখিত গলিত মোমের টেস্টিউবটিতে একটি থার্মোমিটার প্রবেশ করিয়ে দ্রুত বীকারের পানিতে রাখি। পর্যবেক্ষনঃ যখনই ঠান্ডা পানির জন্য মোম জমে শক্ত হওয়া শুরু করবে ঠিক তখনি থার্মোমিটারের তাপমাত্রা দেখে লই।
ফলাফলঃ ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাপমাত্রা পাওয়া গেল।


এখানে গলিত তরল মোম ঠিক এই ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস থেকে কমা শুরু করলেই তা জমতে থাকে তাই মোমের হিমাংকও ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
কাজেই বলা যায় যে মোমের গলণাংক ও হিমাংক একই ৫৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস।


আবার,


দ্বিতীয় চিত্রে রয়েছে বরফ। বরফ সাধারনত শুন্য ডিগ্রী তাপমাত্রা থেকে সামান্য বাড়লেই গলতে শূরু করে। তাই বরফের গলনাংক শুন্য ডিগ্রী সেলসিয়াস ধরা হয়।
পরিক্ষনের জন্য একটি বরফের গায়ে থার্মোমিটার রেখে পর্যবেক্ষন করলে দেখা যাবে যে বরফ গলা শুরু করেছে কিন্তু থার্মোমিটার তাপমাত্রা ০ ডিগ্রীতে রয়েছে।

এবং বরফের ক্ষেত্রেও তরল পানি শীতলীকরন করলে ০ ডিগ্রীতে এসে বরফে পরিণত হয় তাই বরফের হিমাংকও ০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

তাই আমরা বলতে পারি যে, চিত্র দুটিতে একটির গলনাংক ও হিমাংকের সাথে অপরটির গলণাংক ও হিমাংকের পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু একই পদার্থ মোমের গলণাংক ও হিমাংক একই এবং বরফের গলণাংক ও হিমাংক একই।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

7 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 7 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 6698
...