এসাইনমেন্ট এর কভার পেজ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

সকল এসাইনমেন্ট এর উত্তর এখানে দেওয়া হবে, সাথে থাকুন

0 টি ভোট
"ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট" বিভাগে করেছেন (2.4k পয়েন্ট)
আমার ভাল একটি মোবাইল আছে। প্রায় সব কাজ করা যায়। আমি কি অনলাইন ইনকাম করতে পারবো?
কোন কোন ওয়েব সাইটে সহজে কাজ পাওয়া যায় ও বিকাশে টাকা ওঠানো যায় বিস্তারিত জানতে চাই?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (602 পয়েন্ট)
সম্পাদিত করেছেন
অনলাইন ইনকামঃ ইন্টারনেট এর মাধ্যমে দূরে বসে কাজ করে টাকা ইনকাম করাকে এক কথায় অনলাইন ইনকাম বলে। এক্ষেত্রে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র বা সামগ্রী নিজের থাকতে হয়। দূরের কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চুক্তি করে কাজ করে তার বিনিময়ে টাকা ইনকামের জন্য নির্দিষ্ট কোন অফিসিয়াল টাইম নির্ধারিত থাকেনা। প্রতিষ্ঠানের চাহিদা থাকে ৭ দিন, ১০ দিন বা ১ মাসের মধ্যে কাজ জমা দিতে হবে। কাজটি পাওয়ার পর কোন সময়ে করবেন তা নিজের ব্যাপার তাই এই ধরনের কাজকে সাধারণ ফ্রিলান্সিং বলে।

তবে তথ্য প্রযুক্তিতে ফ্রিলান্সিং এর সঙ্গা হচ্ছে কম্পিউটার ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানের সাথে নির্দিষ্ট চুক্তির ভিক্তিতে কোন কাজ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জমাদান ও ইন্টারনেট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহন করে অর্থ ইনকাম করাকে ফ্রিলান্সিং বলে।

যন্ত্রপাতীঃ ফ্রিলান্স করার জন্য যিনি কাজ দেন তাহার যন্ত্রপাতী বিষয়ক রিকায়ারমেন্ট থাকেনা। কিন্তু যেকোন কাজ করার জন্য উপযুক্ত ডেস্কটপ কম্পিউটার। কিছু ক্ষেত্রে ল্যাপটপ ব্যবহারও করা যায়। তবে আজকাল স্মার্টফোনের যুগে সকলেই উন্নতমানের স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তাই অধিকাংশ মানুষ খোজেন মোবাইলের মাধ্যমে ইনকাম করার পথ।

মোবাইল প্রযুক্তিঃ সাধারনত মোবাইল যতই উন্নত বা স্মার্ট হোক, তা দিয়া যত কাজই করা যাক না কেন মোবাইল প্রযুক্তি মূলত ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা। এটি দিয়া খুব ছোট কিছু কাজ করা যায়। মোবাইলের প্রধান ব্যবহার হচ্ছে যোগাযোগ করতে ও বিনোদন হিসাবে কিছু মাল্টিমিডিয়া যেমন অডিও, ভিডিও, ফটোশট এসমস্ত কাজে। অন্য কোন কাজে নয়। তবে আজকাল প্রযুক্তির কল্যানে ছোট নোট লেখা বা অল্প পরিসরে ডকুমেন্ট তৈরি করা যায়। রিয়েলটাইম মেসেজিং, ইমেইল আদান প্রদান করা যায়।  তবুও তা খুব সীমিত আকারে। অনেকেই হয়ত বলে থাকেন সুন্দর ফটো তৈরি করা যায়। আসলে না। মোবাইল দিয়া ফটো তৈরি করা যায়না বললেই চলে কিছু ক্ষেত্রে তৈরি করতে দেখা যায় কিন্তু তা খুবই আনপ্রফেশনাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছবি এডিটিং এর ক্ষেত্রে যা ব্যবহার হয় তা মূলত প্রিলোড কিছু ইফেক্ট প্রয়োগ। এর বেশি কিছু নয়। অন্য দিকে কাস্টমাইজেশন কিছুই করা যায়না।

কাজেই এই ডিভাইস দিয়া আপনি কি করতে পারেন? মোবাইলে একটি সুন্দর ব্রাউজার আছে সেটি দিয়া ওয়েবপেজ দেখা, অল্প পরিসরে কিছু লেখা ভিক্তিক কাজ হয়ে থাকে । তবে এই ধরনের কাজ যেমন খুব একটা পাওয়া যায়না তেমনি এইগুলো প্রকৃত ফ্রিলান্স যবের অন্তর্ভুক্ত নয়।

কিছু কাজ আছে যা অনেকেই ফ্রিলান্স কাজ বলে থাকেন যেমন ptc এখানে ক্লিক করে এড দেখার বিনিময়ে অতি সামান্য কিছু অর্থ হয়ত পাওয়া যায় কিন্তু এটি রেগুলার কোন কাজ নয়। কোম্পানির একটি টার্গেট থাকে যে তার কিছু ভিজিটর দরকার তাই সে এই এড এর মাধ্যমে ধোকা দিয়া আপনাকে একাউন্ট করিয়ে নেবে এবং আপনার মাধ্যমে ইনভাইট করিয়ে আরও কিছু মানুষের একাউন্ট করে তাদের টার্গেট পূরন করে থাকে। আর আপনি ব্যালেন্সে যে অর্থ পেলেন তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তোলা যায়না। কেউ কেউ বহু শর্ত পূরনের মাধ্যমে তুলতে পারলেও তার পরিমান খুবই কম। অথচ সময় দিয়েছেন ঢের বেশি। এই ধরণের কাজ ফ্রিলান্সিং এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

মোবাইলের মাধ্যমে তাই আপনি ফ্রিলান্স করতে পারবেন না। সফল এবং প্রফেশনাল ফ্রিলান্সার হতে হলে আপনাকে ডেস্কটপ থাকতে হবে। খুব ভাল মানের ল্যাপটপ হলেও আপনি অন্তত শুরু করতে পারবেন।

অনলাইনের যে সমস্ত কাজ ফ্রিলান্স হিসাবে থাকেঃ ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, বুক তৈরি, আর্টিকেল রাইটিং, ভার্চুয়াল হেলপার। সিকিউরিটি এক্সপার্ট। ডেটাবেজ এক্সপার্ট, অনলাইন SEO, সফটওয়ার ডিজাইন, মার্কেটিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ডাটা এন্ট্রি, সার্ভে, ফর্ম ডিজাইন। ব্রান্ডিং। কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট প্রভুতি কাজ ভাল মানের ডেস্কটপ ছাড়া করা যায়না।

এক কথায় মোবাইল দ্বারা আপনি ইনকাম করতে পারবেন না। অনেকেই বলেন ভাই দিনে ৫০ টাকা হলেও চলবে। ওরে ভাই আপনি কি জানেন? মোবাইল দিয়া দিনে ৫০ টাকা ইনকাম করা গেলে আমাদের দেশে কেউ বেকার থাকতনা। খুব গরিব পোলাটাও ৫০০০-১০০০০ টাকা ধার করে মোবাইল কিনে ইনকামে লেগে যেত। দিন ৫০ টাকা মানে মাসে ১৫০০ টাকা যেখানে একজন বেকারের দিনে খরচ ছাড়া এক টাকাও ইনকাম নাই(টিউশন করা বেকারদের কথা আলাদা) কাজেই ১৫০০ টাকা তার কাছে অনেক বড় ব্যাপার। আপনি হয়ত উদাহরন দিতে পারেন আপনি বা আপনার কোন ফ্রেন্ড মোবাইল দিয়া কাজ করে টাকা পেয়েছে।

হ্যা ভাই আমিও স্বীকার করছি এমন আছে। যেমন ধরুন মাঝে মাঝে হঠাৎ অফার আসে সাইন আপ করলেই ৫০ টাকা। এমন কাজ করে হয়ত কিছু কামিয়েছেন। আবার ptc বিষয়ক কিছু কাজ বা মোবাইল এপে ভিডিও দেখে বা গেম খেলে হয়ত কিছু টাকা পেয়েছেন। কিন্তু এই সংখ্যা হাজারে একজন হবেনা। দশ হাজারে একজন হতে পারে। আর তাও বহুদিন অপেক্ষা করে মোবাইলে কিছু লোড ছাড়া আর কিছু না। এগুলো কে বলা হয় বিভিন্ন কোম্পানির ধোকাবাজি। এসব আয়ের কোন ভিক্তি নাই। দু দশ দিন পর কোম্পানির ভিজিটর পাওয়া টার্গেট পূর্ন হলে অথবা তার উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠিত হলেই আর থাকেনা। যেমন ধরুন আমি বললাম আমার ইউটিউবের ভিডিওগুলো দেখুন ১০ টাকা দেব। তো আপনি দেখলেন। অন্যদের ইনভাইট ও করলেন ফলে আমি আপনাকে হয়ত ১০ দিনে ১০০ টাকা দিলাম। এবং অন্যদের দিয়া মোটামুটি হাজার খানেক টাকা খরচ করলাম। আপনি কিন্তু টাকা পাওয়ার পর আরও বেশি উদ্দমে ভিডিও দেখা শুরু করলেন, অন্যদের ইনভাইট করতে থাকলেন। এদিকে আমি এবার শর্ত প্রয়োগ করতে থাকলাম যে ১০০০ টাকা না হলে তোলা যাবেনা। বা একাউন্টের মেয়াদ ৩ মাস না হলে তোলা যাবেনা। অথবা টাকা তুলতে আপগ্রেড করুন। এদিকে আপনি কিন্তু দেখতেই আছেন। যেহেতু এক বার টাকা পেয়েছেন তাই আপনারাই ছড়িয়ে দিবেন যে এরা পে করে। পেমেন্ট প্রুফ ও দেখাবেন। ফলে আমার ট্রাফিক বাড়তেই থাকবে। এর পর আমি দেখাবো সার্ভার আপগ্রেড করা হচ্ছে তাই পেমেন্ট মেথডে সমস্যা হয়েছে। দ্রুত ঠিক করে পে করা হবে। শেষে আপনি পে আউট দিলেন। পেন্ডিং করে দিলাম। এই পেন্ডিং আর শেষ হবেনা। আপনি হয়ত ৩-৪ মাস পর বিরক্ত হবেন কিন্ত ততদিনে আমার ইউটিউব বহু ট্রাফিক পেয়ে অনেক সাবস্ক্রাইবার সহ প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এখন আর কারও দরকার নাই। এক দু হাজার খরচে চ্যানেল ব্রান্ডিং মার্কেটিং হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। এদিকেয়ামি কিন্তু বিজ্ঞাপন থেকে দুই হাজারের অধিক কামিয়েছি। আপননি জানেননি না।

অবশেষে বলব মোবাইলের যে কাজ অনলাইনে দেখা যায় তা প্রকৃত ফ্রিলান্স নয়। এগুলো সামান্য অর্থ দিয়া আপনাকে ধোকা দিয়া তারা তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ করে।

একটি কথা মনে রাখবেন এ দুনিয়ায় ফ্রিতে কেউ কাউকে কিছু দেয় না। এমনকি অল্প পরিশ্রম মানেই বহু ক্ষেত্রে ধোকা। অনেক কঠিন পরিশ্রম করেই টাকা ইনকাম করতে হয়। মোবাইল তো দূরের কথা কম্পিউটার দিয়াও ৯০% মানুষ ইনকাম করতে পারেনা। আমাদের দেশে কিন্তু বহু কম্পিউটার আছে। আপনার হয়ত নাই কিন্তু জানেনকি লাখ লাখ বেকারের একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ আছে। তথাপি তারা ইনকাম করতে পারছেনা। আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত ফ্রিলান্সার কয়জন? অনেক কম। এক পরিসংখ্যানে দেখছিলাম ৬৫ হাজারের মত। অথচ কয়েক কোটি বেকারের মধ্যে কম্পিউটার আছে কয়েক লাখ এবং কোন রকমে কেনার সামর্থ আছে কোটি তরুনের।

তাই আপনাকে বলব টাকার পেছনে ছোটা বাদ দিন মোবাইল বাদ দিন। মোবাইল আসক্ত হবেননা। প্রকৃত কাজ শিখুন । এখন ১৫০০০ টাকাতে কম্পিউটার পাওয়া যায়। যা ভাল একটা মোবাইলের দামের চেয়েও কম দাম। তাই কিনে এর পেছনে সময় দিয়া কাজ শিখুন। আমাদের কাছে এই সাহায্য নিতে পারেন যে কোন কাজ শিখবেন। এমনকি টিউটোরিয়াল চাইলেও তা দিয়া কাজ শেখানো যাবে । আর কাজ শিখলেই টাকা আপনার পেছনেই আসবে। আপনাকে টাকার পেছনে যায়বার দরকার নাই।

বিকাশ পেমেন্টঃ ফ্রিলান্সার হতে চাইলে বিকাশ নিয়া ভেবে সময় নষ্ট করবেন না। এটি ইন্টারন্যাশনাল কোন গেটওয়ে নয়। আন্তর্জাতিক ভাবে কেউ এতে পে করবেনা না। তবে হ্যা বাংলাদেশী ব্রোকারদের কাছ থেকে কনভার্ট করে হয়ত নিতে পারবেন। আর বাংলাদেশী সাইট থেকে হয়ত নিতে পারবেন। কিন্তু দেশে নির্ভরযোগ্য এমন কোন মার্কেটপ্লেস গড়ে ওঠেনি। কিছু কোম্পানির যাত্রা হয়েছে কিন্তু তাদের রাস্তা এখনো বহুদুর। পেপল নাই এটা আমাদের বড় দুঃখ। তবুও বিকল্প বেশ কিছু ব্যবস্থা কিন্তু আছেই। তাই আমার উপদেশ প্রকৃত কাজ শিখুন। কম্পিউটার জানুন।

কম্পিউটার জানার একটি বড় উপকার হচ্ছে, ফ্রিলান্সিং এ আপনি ব্যর্থ হলেও কম্পিউটারের জ্ঞান আপনাকে দেশে ভাল চাকরি পেতে সাহায্য করবে। আজকাল যেকোন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার জানা লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
12 জুলাই 2019 "ইসলাম" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন MR. Bin (79 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
2 টি উত্তর
12 মে 2020 "ইন্টারনেট ও ওয়েবসাইট" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন RaselAhmed (31 পয়েন্ট)

5 Online Users
0 Member 5 Guest
Today Visits : 7612
Yesterday Visits : 5791

বয়স গণনা করুন





     বয়স : 0 বছর     
            0 মাস
            1 দিন

প্রয়োজনীয় ক্যালকুলেটর ও কনভার্টার পেজ পেতে এখানে ক্লিক করুন

        

BMI Calculator

                 

Height: (in cm)
Weight: (in kg)

        
...