0 টি ভোট
"তথ্যপ্রযুক্তি" বিভাগে করেছেন (93 পয়েন্ট)

image

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ব


ভূমিকা:


বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের বিজ্ঞানের যুগ।  আর বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব আবিষ্কার হলো কম্পিউটার ইন্টারনেট তথা তথ্য প্রযুক্তি। বিজ্ঞানকে মানব কল্যাণে প্রয়োগ করার কৌশল হচ্ছে প্রযুক্তি। আজকের দিনের বহুল আলোচিত প্রযুক্তি হলো ইন্টারনেট  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। বর্তমান বিশ্বের সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের মূল হাতিয়ার হচ্ছে তথ্য ও প্রযুক্তি । জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্ব পরিমণ্ডলে অবদান রাখতে তাই বিজ্ঞানের কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি ভিক্তিক সকল ব্যবস্থার উন্মেষ ও প্রয়োগ অনস্বীকার্য।  

সেবাসমূহের তালিকাঃ-


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নের মূল সৰ্থকতাই হলে এটি ব্যবহার করে দেশ নয়ন্ন তথা  সুফল অর্জন করা। বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশের সর্বত্রই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েই চলেছে লাগামহীনভাবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মকান্ডে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার চোখে পরার মতো। তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবাসমুহ সহজে ও খুব কম সময়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেউয়া সম্ভব। সরকারি সেবা সমূহের তালিকা নিন্মে দেওয়া হলঃ-


১। ই-পর্চা

২। ই-বুক
৩। ই-পুঁজি
৪। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ
৫। ই-স্বাস্থ্য সেবা
৬। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতকরণ
৭। টাকা স্থানান্তর

৮। পরিসেবার বিল পরিশোধ
৯।  পরিবহন
১০। অনলাইন রেজিস্ট্রেশন

১১। ই-তথ্য


ব্যক্তিজীবনে তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রসমুহঃ-


তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ২০০৭ সালে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ ছিল অনগ্রসর সম্ভাবনাহীন একটি দেশ। কিন্তু বর্তমানে এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তিতে  বাংলাদেশ একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব দরবারে। সাধারণ মানুষ বর্তমানে প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে মুহূর্তেই প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারে । ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের রুপ নিয়েছে "ডিজিটাল বাংলাদেশ" নামে ।  প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার সুবিধা পাচ্ছে সাধারণ মানুষ। যেমন: বর্তমানে সরকারি তথ্য, আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন  ও সংশোধনের, বিশেষ বিশেষ বার্তা, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে ফলে কম সময়ের কাছে তা মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া দেওয়া হচ্ছে ই-স্বাস্থ্য সেবা, পরিষেবা ইউটিলিটি  বিল (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস) পরিশোধ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে অনলাইনে। সর্বস্তরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে খোলা হয়েছে ই-বুক প্লাটফর্ম। আর্থিক লেনদেন সহজ এবং নিরাপদ করার জন্য চালু করা হয়েছে অনলাইন ব্যাংকিং ।

এছাড়া গ্রামের ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্রডোব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌছানোর ফলে গ্রামের কৃষকগন নানা তথ্য যেমন ফসল উৎপাদনের মৌসুম বা উপযুক্ত সময়, সার প্রয়োগ এর জ্ঞান। ফসল বিক্রির  জন্য শহরে কোম্পানির সাথে যোগাযোগ ও দরদাম ইত্যাদি সহজে জানতে পারায় কৃষকের সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।

গ্রামের মানুষ সহজে শহরে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজন শহরে পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের খোজ খবর সহজে নিতে পারে।

এই সকল সেবা সমুহ ব্যক্তিগত জীবনে আমরা ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবনের এই কর্মগুলো খুব সহজে সম্পাদন করে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন সম্ভব। বেকার যুবকগন এই সেবা গ্রহন ও প্রশীক্ষন নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসার উদ্যোগ গ্রহন করে ব্যক্তি জীবনে লাভবান হতে পারে। এখন আর কেউ কারও উপর নির্ভরশীল নয়। চাইলেই যেকেউ ইন্টারনেট থেকে সরাসরি সঠিক তথ্য খুজে নিতে পারে। বৈদেশিক চাকরীর খবর আবেদন, ভিসা গ্রহন করতে পারে। এক্ষেত্রে দালালের কাছে ঠকা বা অতিরিক্ত খরচের সম্ভাবনা থাকেনা।


প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্বঃ


প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না। কারণ দিনের পর দিন প্রযুক্তির এতটাই উৎকর্ষ সাধন হচ্ছে যে, মানুষ প্রানভরে উপভোগ করছে এর সুফল। এক কথায় প্রযুক্তি মানুষের নিত্য দিনের সঙ্গীর মত ভার্চুয়াল বন্ধু হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তিভিত্তিক সেবার কারনে মানুষের জীবন মান উন্নত হয়েছে। ব্যবসা বানিজ্য লেনদেনের ব্যাপক প্রসার হয়েছে। মানুষের কাজের সময় কমেছে ফলে অল্প সময়ে অধিক কাজের সুযোগ এসেছে। কমেছে ভোগান্তি। জীবনমান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে কর্মসংস্থান। ছাড়া ঘরে বসে ফ্রিলান্স করে স্বনির্ভরতা অর্জনের সুযোগও বেড়েছে। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদির মাধ্যমে মুহুর্তেই লেনদেন করা যায় বলে  দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নগদ টাকা উত্তোলন ও জমা দেয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যের হয়ে উহেছে এইএম বুথ ও ইনলাইন ব্যাংকিং সেবা।  পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে ই
টিকেট,  টেলিকনফারেন্স, ই-ফাইলিং, এ-ট্র্যাকিং, ব্যবসায় ই-কমার্স থেকে শুরু করে ঘরের-অফিসের নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরা টা এখন আর ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে থাকছে না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসা, অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা, সংস্কৃতিসহ প্রতিটি মৌলিক ক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব এনে দিয়েছে। আজ আমরা তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ছাড়া এক মুহুর্ত চলতে পারিনা।

এসকল পরিসেবা ব্যক্তি জীবনকে সহজ ও উন্নতত্র করে তোলে। একজন ব্যক্তি তার জীবনকে স্বাচ্ছন্দে সাজাতে পারে তথ্যপ্রযুক্তির এই ব্যক্তিজীবনের ব্যবহারের ফলে।


উপসংহারঃ
এ যুগের জীবনযাত্রা সকল ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতি আমরা কত দ্রুত সাড়া দেব তার উপর নির্ভর করছে আগামী দিনের বাংলাদেশের ভাগ্য। ডিজিটাল সরকার, নাগরিকদের ডিজিটাল সেবা প্রদান, তথ্য ও প্রযুক্তিভিত্তিক মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিল্প প্রসার - এ চারটি মূল লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ পঞ্চবার্ষিকী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। মূলত প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করাই ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন এর মূল লক্ষ্য।


সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
0 টি উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
09 সেপ্টেম্বর 2020 "গণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন suman (93 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
16 অগাস্ট 2020 "গণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন suman (93 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
0 টি উত্তর
06 ডিসেম্বর 2020 "গণিত" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন nafisa (36 পয়েন্ট)
+1 টি ভোট
1 উত্তর
4 Online Users
0 Member 4 Guest
Today Visits : 8928
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5086640
...