0 টি ভোট
"পদার্থ বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (15 পয়েন্ট)
ট্রান্সফরমার কিভাবে বিদ্যুৎ কমিয়ে দেয়?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (603 পয়েন্ট)

ট্রান্সফর্মারঃ যে যন্ত্র কোন শক্তিকে পাওয়ার ঠিক রেখে বিভিন্ন রুপের পরিবর্তন করে স্থানান্তর করতে পারে তাকে ট্রান্সফর্মার বলে। ট্রান্সফর্মার কথাটি বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। বিদ্যুৎ শক্তিকে এক কুন্ডলী থেকে অন্য কুন্ডলীতে স্থানান্তর করার যন্ত্রকে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বলে।

 নীতিঃ দুটি অন্তরিত তামার কেবলের কুন্ডলির এক কুন্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহ করলে ঐ কুন্ডলীতে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে চুম্বক বলরেখা উৎপন্ন হয় যা অপরকুন্ডলীর ভেতর দিয়া যায়

তখন চুম্বক বলরেখার জন্য দ্বিতীয় কুন্ডলীতে একটি তড়িৎচালক বল আবিষ্ট হয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। এই তড়িৎচালক বল প্রথম কুন্ডলীতে প্রদত্ত শক্তির প্রায় সমান থাকে।
ট্রান্সফর্মারের গঠনঃ একটি চতুর্ভুজাকৃতি কাচা লোহার প্লেটের দুই পাশে অন্তরিত তামার তার পেচিয়ে ট্রান্সফর্মার তৈরি করা হয়। অবশ্য মূল থিউরি ঠিক রেখে বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। চিত্রে গঠন দেখানো হল।
image
কাচা লোহার প্লেটটিকে কোর বলে। এই কোরের দুই পাশের কুন্ডলীর প্রথম কূন্ডলীকে মূখ্য কুন্ডলী এবং দ্বিতীয় কুন্ডলীকে গৌন কুন্ডলী বলে। 
ট্রান্সফর্মার ভোল্টেজ বাড়াতে বা কমাতে পারে। মূখ্য কুন্ডলীতে তারের পেচ সংখ্যার চেয়ে গৌন কুন্ডলীতে তারের পেচ সংখ্যা বেশি হলে আউটপুট ভোল্টেজ বৃদ্ধি পাবে। 
কার্যপ্রণালীঃ
যখন উক্ত ট্রান্সফর্মারের মূখ্য কুন্ডলীতে A.C বিদ্যুৎ ইনপুট করা হয় তখন বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে লোহার কোরটি তড়িতচুম্বকীয় প্রকিয়ায় চুম্বকে পরিণত হয়। কেননা মূখ্য কূন্ডলীটি সলনয়েডের কাজ কাজ করে।  ফলে লোহার কোর থেকে চুম্বক বলরেখা উৎপন্ন হয়। যেহেতু লোহার কোরটি চতুর্ভুজাকৃতি সার্কেলে থাকে। তাই চুম্বক বলরেখা বা চুম্বক ফ্লাক্স গুলো অপর পাশের বাহুর ভেতর দিয়া প্রবাহিত হয়। কিন্তু অপর প্রান্তে যেহেতু গৌণ কুন্ডলী থাকে তাই সেই কুন্ডলীর তারের পেচ সংখ্যার সাথে লোহার কোরে উৎপন্ন চুম্বক বলরেখার হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে । এর ফলে চুম্বকীয় আবেশ প্রক্রিয়ায় গৌন কুন্ডলীতে তড়িতচালক বল আবিষ্ট হয়(মাইকেল ফ্যারাডের আবেশ সূত্র) এই আবেশের ফলে গৌন কুন্ডলীর তারের ইলেক্ট্রন গুলো বররেখার সাথে নিজেরদের সজ্জিত করতে চাই ফলে ইলেক্ট্রনের প্রবাহ ঘটে(লরেঞ্জ এর সূত্র) কাজেই গৌন কুন্ডলীতে বিদ্যুৎ উতপন্ন হয়। 
উৎপন্ন বিদ্যুতের ধরনঃ যেহেতু পর্যাবৃত্ত বিদ্যুতের জন্য লোহার কোরে উৎপন্ন চুম্বক বলরেখারও উত্তর দক্ষিন মূখি পরিবর্তন হয় কাজেই গৌণ কুন্ডলীতেও তেমনি ভাবে পর্যাবৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। 
হিসাবঃ ধরি, মূখ্য কূন্ডলীর ভোল্ট pv এবং প্রবাহ pA এবং গৌন কুন্ডলীর ভোল্ট sV এবং প্রবাহ sA. তাহলে
pV/pA=sV/sA
এবং এখানে গৌন কুন্ডলীর পেচ বেশি হলে ভোল্ট বৃদ্ধি পাবে কাজেই মোট শক্তি ঠিক রাখতে সেই অনুপাতে প্রবাহ এম্পিয়ার কমে যাবে।( কারন শক্তির নিত্যতা বিধি অনুযায়ী শক্তি সৃষ্টি বা ধবংস করা যায়না)
একই ভাবে যদি ভোল্ট কম হয় তবে এম্পিয়ার বৃদ্ধি পেয়ে মোট শক্তি ঠিক থাকবে। 
থিউরি অনুযায়ী মূখ্য কুন্ডলীতে ইনপুটকৃত সকল শক্তি গৌন কুন্ডলীতে ট্রান্সফার হওয়ার কথা কিন্তু যান্ত্রিক ট্রুটি, তারের রোধ ও বিদ্যুৎ প্রবাহে তাপীয় ক্রিয়ার ফলে কিছু শক্তি অপচয় হয়। ট্রান্সফর্মার মোটামূটি ৯৫-৯৭% শক্তি স্থানান্তর করতে পারে। আজ পর্যন্ত আমিষ্কৃত সকল যন্ত্রের মধ্যে ট্রান্সফর্মারই এক মাত্র যন্ত্র যার কর্মদক্ষতা সবচেয়ে বেশি। 
     

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
0 টি উত্তর
15 ফেব্রুয়ারি "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Waruf (3.6k পয়েন্ট)
4 Online Users
0 Member 4 Guest
Today Visits : 4029
Yesterday Visits : 7651
...