প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন নিবন্ধন বা রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই
0 টি ভোট
"পদার্থ বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (15 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (602 পয়েন্ট)

ট্রানজিস্টরঃ বিশেষ একটি তিন টার্মিনাল যুক্ত ইলেক্টনিক্স যন্ত্র যা কোন সিগনালকে বিবর্ধিত ও গেট হিসাবে কাজ করে তাকে ট্রানজিস্টর বলে। 

বিশেষভাবে ডোপায়নকৃত একটি n-type silicon ও একটি p-type silicon এর তিনটি প্লেট স্যান্ডউইচ করে ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। এই দিক দিয়া ট্রানজিস্টর দুই প্রকার যথা npn ও pnp ট্রানজিস্টর। npn তে দুটি n-type সিলিকন প্লেটের মাঝে একটি p-type সিলিকন থাকে এবং pnp-তে p-type দুটি সিলিকনের মাঝে একটি n-type সিলিকন থাকে। চিত্রে দেখুন-
image
চিত্র থেকে প্রথম প্লেটের টার্মিনালকে ইমিটার বলে। এই টার্মিনালে ব্যাটারী ভোল্ট প্রয়োগ করা হয়। এবং ডান পাশের প্লেটের টার্মিনালকে কালেক্টর বলে। এই টার্মিনাল থেকে আউটপুট গ্রহন করা হয়। আর মাঝ খানের টার্মিনাল কে বেস বলে। এটি মূলত ট্রানজিস্টর প্রবাহকে কন্ট্রল করে বা গেট হিসাবে কাজ করে। এই টার্মিনালের ট্রানজিস্টর এর কাজকে নিয়ন্ত্রন করা যায়। 
ট্রানজিস্টর যেভাবে কাজ করেঃ ট্রানজিস্টর মূলত সিগনাল বৃদ্ধি বা সুইচ হিসাবে কাজ করে। নিচের চিত্রে সিগনাল বিবর্ধিত বা এমপ্লিফায়ার হিসাবে কাজ দেখানো হল(সুইচিং ও প্রায় একই বিষয়)ঃ 

image
চিত্রে ট্রানজিস্টরটি ইমিটার এর সাথে ব্যাটারী সংযোগ দেয়া হয়েছে। এবং তা থেকে একটি প্রান্ত ইনপুট সিগনাল গ্রহন মুখে দেয়া হয়েছে। মাইক্রোফোন থেকে খুবি ক্ষুদ্র একটি ওয়েভ সিগনাল বা ফ্রিকোয়েন্সি গ্রহন করা হল।
ট্রানজিস্টরটির বেস থেকে একটি রোধ যুক্ত করে ব্যাটারীর ধনাত্বক প্রান্তে যুক্ত করা হল। এতে ট্রানজিস্টরটি সামান্য সম্মুখী বায়াসে থাকবে অর্থাৎ ট্রানজিস্টরটি দিয়া অতি ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ প্রবাহ হতে পারে। অবশ্য এই প্রবাহের মান নির্ভর করে বেস রোধের মানের উপর। মান বেশি হলে ট্রানজিস্টর দিয়ে কম বিদ্যুৎ প্রবাহিত হবে। 
অপর দিকে কালেক্টরের সাথে স্পীকার যুক্ত করে স্পীকারের অপর প্রান্ত  গৌন ব্যাটারী ভোল্ট বা ভোল্টেজ বিভাজন প্রক্রিয়ায় বিভাজিত ভোল্টের সাথে ব্যাটারীর অপর প্রান্তে যুক্ত করা হয়। 
এখন ধরি ইনপুট কৃত সিগনালের ধনাত্বক চক্রের সময় সিগনাল বিদ্যুতের প্রবাহ ট্রানজিস্টর এর ইমিটার দিক দিয়া ট্রানজিস্টর এ প্রবেশ করে বেস দিয়ে বের হয়। বেস দিয়ে বের হয়ে রোধের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্যাটারীর অপর প্রান্ত দিয়া ফিরে আসে। আমরা জানি ট্রানজিস্টর এর ইমিটার দিয়া ইলেক্ট্রন প্রবেশ করে বেস দিয়া বের হতে পারে। কাজেই সিগনাল বিদ্যুতের এই একই দিকে প্রবাহের ফলে ট্রানজিস্টর এর বেস এর রোধ কমে যেয়ে সম্মুখী ঝোক প্রচন্ড বেড়ে যায়। ফলে ব্যাটারী থেকে ইমিটারে প্রবেশ কৃত মোট ইলেক্ট্রনের ৯৫% বেস প্লেটে চলে যায় কিন্তু বেস প্লেট ক্ষুদ্র হওয়ায় এবং বেস কালেক্টরের রোধ কমে যাওয়ায় সকল ইলেক্ট্রন কালেক্টর প্লেটে প্রবেশ করে। যেহেতু ক্ষুদ্র সিগনাল বিদ্যুৎ প্রবাহের সাথে অতিরিক্ত ব্যাটারী বিদ্যুৎ বেস পার হয়ে কালেক্টরে যায় তাই কালেক্টরে সিগনালের অনুরুপ বৃহত বিদ্যুৎ পতিত হয় ধনাত্বক বৃহত সিগনাল তৈরি করে।
এখন ধরি ঋনাত্বক সিগনাল ধনাত্বক সিগনালের উলটা প্রবাহিত হচ্ছে। তার মানে ঋনাত্বক সিগনালটি ইমিটার দিয়ে প্রবেশ না করে বেস দিয়া প্রবেশ করতে চাই। কিন্তু যেহেতু ট্রানজিস্টর সম্মুখী ঝোকে থাকে মানে ইলেক্ট্রন শুধু ইমিটার দিয়া প্রবেশ করতে পারে। কাজেই ধরি ব্যাটারী থেকে কিছু ইলেক্ট্রন ইমিটার দিয়া প্রবেশ করে বেস দিয়া বের হয়ে রোধের উপর পতিত হবে , কিন্তু ঋনাত্বক সিগনালটি উল্টাভাবে বেস দিয়া ট্রানজিস্টর এ প্রবেশ করতে চাচ্ছে ফলে সিগনাল বিদ্যুৎ ব্যাটারীর বিদ্যুতকে বেস দিয়া বের হতে বাধা দেয়। এই বাধার ফলে বেস এর রোধ খুব বেড়ে যায়, ব্যাটারী থেকে আগত ইলেক্ট্রনগুলোকে ইমিটারে প্রবেশ করে কালেক্টরে যেতে সম্পূর্ণ্রুপে বাধা দেয়। ফলে কালেক্টরে কোন ব্যাটারী বিদ্যুৎ যেতে না পেরে কালেক্টরে বিদ্যুৎ প্রবাহ হয়না। ফলে সেখানে ঋনাত্বক চক্রের সৃষ্টি হয় যা কালেক্টরে থাকা স্পীকারে কোন বিদ্যুৎ প্রবাহ দেয়না। অপর দিকে প্রথমেই ব্যাখ্যা কৃত ধনাত্বক সিগনাল কালেক্টরে থাকে বৃহত। এর ফলে মাইক্রোফোনে সিগনাল যেভাবে ক্ষুদ্র ওয়েভ সৃষ্টি হয়েছিল, স্পীকারে সেই ভাবে বৃহত সিগনাল তৈরি হয় ব্যাটারী থেকে আগত বিদ্যুতের ফলে। এর জন্যই আমরা স্পীকারে কথা শুনতে পাই। 
এই হচ্ছে মূল কার্যনীতি তবে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ও মাল্টিপারপোজ কাজে এই মূলনীতি ঠিক রেখে এখাধিক সিগনালের জন্য অনেকগুলো ট্রানজিস্টর এর লম্বা স্টেজ ব্যবহার করা হয়। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
0 টি উত্তর
20 ফেব্রুয়ারি "স্বাস্থ্য ও শরীর গঠন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন mitu (88 পয়েন্ট)

4 Online Users
0 Member 4 Guest
Today Visits : 4964
Yesterday Visits : 5933
Total Visits : 3703398

বয়স গণনা করুন





     বয়স : 0 বছর     
            0 মাস
            1 দিন
...