0 টি ভোট
"প্রেম ভালবাসা ও বন্ধুত্ব" বিভাগে করেছেন (562 পয়েন্ট)
মানুষ কেন বার বার প্রেমে পড়ে

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (603 পয়েন্ট)

কর্মঃ মনুষ সামাজিক জীব। মানুষ সমাজ ছাড়া ভালভাবে চলতেই পারেনা। মানুষ সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করতে ভালবাসে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বলা হয়ে থাকে মানুষকে। কারন মানুষ বিচার বুদ্ধি, বিবেক, ভাল মন্দ জ্ঞান বুঝতে পারে। মানুষ চিন্তা ভাবনা করে উচিত অনুচিত নির্ধারন করতে পারে। মানুষ আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। মানুষের সুন্দর ব্যবহার বোধ আছে বলেই মানুষ শ্রেষ্ঠ। তথাপি সৃষ্টি লগ্ন থেকেই মানুষ একাকী থাকতে পারেনা। মনুষ সর্বদা সঙ্গীর সাথে থাকতে চাই। আসলে কর্ম ব্যতিত কোন জীব থাকতেই পারেনা। ছোট অনুজীবদের দেখুন তাদের জীবন নির্বাহ করতেই সারাটাদিন লেগে যায়। কিন্তু অবসর? সকলের অবসর রয়েছে। এই অবসর কাটানো খুবই কঠিন কাজ। কর্মের সাথে ক্রিয়া করেই দিন গেলে প্রাণীর কিছু প্রয়োজন হয়না। আপনি যদি সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকেন তবে সঙ্গীর সাথে সময় দেবার ভাবনা উদয় হবেনা। কিন্তু সারাদিন কিছু না থাকলে আপনি স্থির বসে থাকতে পারবেন না। কারন আপনি সৃষ্টি হয়েছেন কিছু করার জন্য। আপনার দেহের রক্ত, কোষের ক্রিয়া সর্বদাই কাজে ব্যস্ত আপনাকে শক্তি দিচ্ছে কাজের জন্য। কিন্তু কাজ না থাকলে আপনি কিছু করার জন্য কাজ অবশ্যই বের করবেন, হয়ত বই পড়তে পারেন। এটাও কাজ। মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখছে। কাজেই অবসর সময়ের প্রানবন্ত সময়ের জন্য তাই সঙ্গী দরকার, যার সাথে আনন্দ, গল্প, রাগ অভিমান, ভালবাসার কর্ম দারা সময় কাটাতে পারে। 

সৌন্দর্যতাঃ বিধাতা এ বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন বিচিত্র বর্ণের উপাদান দিয়া যাহাতে একই জিনিস বার বার না আসে।
প্রকৃতির নিয়মে তাই মানুষ বিচিত্রকেই ভালবাসে। আর এই বিচিত্রতার উপাদান হচ্ছে সৌন্দর্য। স্বভাবতই মানুষ সৌন্দর্যপ্রিয়। সুন্দর কিছুকে সে সর্বদা নিজের কাছে রাখতে চাই, যাহাতে তার সাথে সে মনরঞ্জন করে আনন্দের সাথে সময় কাটাতে পারে। আর এর মাধ্যমেই গড়ে ওঠে প্রেম। মানুষ একজন মানুষকে বেছে নেয় এ ধরনের গুনের বিচার করে। যে মানুষটি তাকে সারাটাজীবন বিচিত্র ভালবাসায় ভরিয়ে রাখতে পারবে তাকে সর্বদা কাছে রাখা, আদর যত্ন করা, তার সাথে খেলা ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলো প্রেমের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই সেই মানুষের সাথে এভাবে চলার নামই প্রেম বা ভালবাসা। একারনেই মানুষ প্রেমে পড়ে সর্বদা কাছে রাখার অভিলাষে। 
প্রয়োজনীয়তাঃ সঙ্গীর প্রয়োজন শুধু আনন্দ বিনোদনে নয়। উভয় মানুষকে একটি আন্তরিক মনের শক্তি যোগাতে  মানুষ প্রেমে পড়ে। ধরুন আপনি কি করবেন? জন্মেছেন। খাওয়া দাওয়া করছেন। অন্য যোগাতে কাজ করছেন। তাহলে বড় কিছু করার স্বপ্ন কেন? কেন এত কষ্ট করার দরকার? কিন্তু সঙ্গী থাকলে সঙ্গীর খুশি ও তার থেকে নতুন ভালবাসা পাবার জন্য কষ্ট করার শক্তি আসে ভালবাসার মাধ্যমে। 
শারীরিকঃ বলা বা প্রকাশে লজ্জা বা বাধবাধকতা থাকলেও বিজ্ঞান মতে স্নায়ুর দ্বারা মস্তিষ্ক কাজ নিয়ন্ত্রন করে। কাজেই মানুষের পরিবেশকে বোঝার জন্য কিছু ইন্দ্রিও থাকে। আমরা এখন একে পঞ্চ ইন্দ্রীও বলে থাকি। এই ইন্দ্রীয় স্নায়ুবিক কাজ মানুষ বা প্রাণিকে আবেগতাড়িত করে। যেমন ধরুন ত্বকে ঠান্ডা বাতাসের পরশ লাগার অনুভুতি মানুষকে আরও অধিক তা পাবার আকাঙ্খায় মোহিত করে। ঠিক এমনি সঙ্গীর আচরণ যখন অন্য সঙ্গিকে স্নায়ুবিক ভাবে আবেগে ফেলে তখন মানুষ সেই সঙ্গীর দারা আরো বেশি সেই স্নায়ুবিক আবেগ পেতে প্রেমে পড়ে। এই প্রেম সঙ্গীকে কাছে রাখে বা রাখতে অনুপ্রেরনা দেয়। 
জিনগতঃ জীব সৃষ্ট হয়েছে এবং বংশো ধারা বজায় রাখার সিস্টেম প্রাকৃতিক ভাবেই সে পেয়েছে। কিন্তু এই বংশ ধারা বজায় রাখার অনুভুতি সৃষ্টির জন্য দেহের জিন বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গিকে আকর্ষন করে। যেমন ধরুনঃমৌমাছির কেন ফুলে যাবার অনুভুতি হইল? প্রাকৃতিক ভাবে উদ্ভিদ ফুল জীনের সাহায্যে এমন কিছু তৈরি করে যা মৌমাছির জীনের ক্রিয়ায় সেন্সিটিভিটি সৃষ্টি করে ফলে মৌমাছি ফুলে যায় এবং মধু খাওয়ার সময় অজান্তে ফুলে পরাগায়ন ঘটে।
ঠিক তেমনি, মানুষের জিন বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীর প্রতি এমন হরমোনগত এমন এক আবেগতাড়িত প্রবনতা সৃষ্টি করে যাহাতে মানুষ শুধু একে অন্যের প্রতি ভালবাসা, মায়া, মমতা, ও মানসিক খুশি খুজে পায়। যার নাম এক কথায় প্রেম বা ভালবাসা। কিন্তু মানুষ অজান্তেই এই ভালবাসার মাধ্যমে বংশগতির কাজ করছে যা জিনের আসল উদ্দেশ্য। কাজেই জিনগত কারনে মানুষ প্রেমে পড়ে। 
ধর্মীয় বিষয়ঃ বলা হয়ে থাকে আদম (আঃ) সৃষ্ট হবার পর একা একা ঘুরে বেড়াতেন। এতে তার বিষন্নতা থাকত। কিছুতেই মন বসতনা। তখন আল্লাহ হাওয়াকে সৃষ্টি করলেন আদম (আঃ) এর সঙ্গী রুপে। দুজন দুজনার দেখার পর তাহারা একে অন্যকে কামনা করলেন নিজেদের একাকিত্ব দূর করতে। নিজের মনকে অশান্ত থেকে ভাললাগার অভিপ্রায়ে। কাজেই এখান থেকে বলা যায় যে, আল্লাহ মানুষের মাঝে এমন শক্তি দিয়েছেন যা বিপরীত মানুষকে সঙ্গি রুপে পেতে উদ্রেক জাগায়। এ কারনেই মানুষ প্রেমে পড়ে। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
12 মে 2020 "সাধারণ" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Manik Raj (31 পয়েন্ট)
6 Online Users
0 Member 6 Guest
Today Visits : 4360
Yesterday Visits : 7651
...