"জীব বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন

image


সৃজনশীল প্রশ্ন

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন

(ক) খাদকঃ বাস্ততন্ত্রের যেসকল সজীব উপাদানগুলো উৎপাদকের তৈরিকৃত খাদ্যসহ অন্য জীবদেরও ভক্ষন করে বা খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে বেচে থাকে তাদের খাদক বলে। 

বাস্তুতন্ত্রের সজীব উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ ব্যতিত সকল প্রাণী খাদক। যেমন

ব্যাং, হরিণ, বাঘ ইত্যাদি।

(খ) খাদ্যজালঃ বাস্তুতন্ত্র বা একটি ইকোসিস্টেমে সজীব উপাদানগুলো সর্বদাই একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। আবার এরা অজীব উপাদানের উপরও নির্ভরশীল। পরিবেশের জৈব অজৈব উপাদান দ্বারা শক্তির সাহায্যে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে, এই খাদ্য অন্য প্রাণীরা খায়, প্রাণীগুলো আবার অন্য প্রাণীদের খায়, সর্ব শেষ বা উচ্চতর প্রাণীটিও মারা গেলে বিয়োজক তা থেকে উপাদানগুলো অজীব পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় যা উৎপাদক পুনরায় গ্রহন করে। এভাবে সকল উপাদানের মধ্যে পারস্পারিক একটি খাদ্য নির্ভরশীল চক্র গড়ে ওঠে। এরকম অনেকগুলো পরস্পর সমপর্কযুক্ত  খাদ্যচক্র বা খাদ্যশৃঙ্খলকে  খাদ্যজাল বলে।

এটি চিত্র দ্বারাই ভাল দেখানো যায়।


(গ) উদ্দিপকের চিত্রটিতে একটি ইকোসিস্টেমের খাদ্যশৃঙখল রয়েছে।
চিত্রের এক দিকে আমরা সবুজ গাছপালা বা বন দেখতে পাচ্ছি, এই সবুজ উদ্ভিদ হচ্ছে উৎপাদক। অর্থাৎ সবুজ উদ্ভিদ স্বভোজী হওয়ায় সূর্যালোক পানি, খনিজ, কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে নিজে ব্যবহার করে ও সঞ্চিত রাখে। এর পরে ইদুর, খরগোস ইত্যাদি রয়েছে। এরা সাধারনত লতাপাতা ফল শস্যা ইত্যাদি খেয়ে বেচে থাকে। অর্থাৎ এরা উৎপাদকদের সরাসরি খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে। অন্য কিছু গ্রহন করেনা, তাই এরা প্রথম স্তরের খাদক। এরপরই আমরা সাপ গিরগিটি(আমি চিত্রতে ভাল দেখতে পাচ্ছিনা, সঠিক নামটি আপনি বসিয়ে নিবেন) দেখতে পাচ্ছি, এরা উৎপাদকদের খায়না কিন্তু ইদুর খরগোস কীটপতঙ্গ বা প্রথম স্তরের খাদকদের খায়। তাই এরা দ্বিতীয় স্তরের খাদক। এরপরই আমরা বাজপাখি দেখতে পাচ্ছি। এই বাজ পাখি সবুজ উদ্ভিদ বা উৎপাদক ছাড়া আর সকল খাদকদের খায়। তাই চিত্রে একটি সুন্দর  খাদ্য শৃঙখল গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ এটি খাদ্যশৃঙখল। তথাপি চিত্রের সাপ ইদুর ছাড়া তার নিজ স্তরের গিরগিটি কেও খাদ্য হিসাবে খায় তাই এটি খাদ্যজালেও রুপান্তরিত হয়েছে। কিন্তু উপাদান গুলো খুবই কম এবং খাদকদের নিজেদের মধ্যে চেইন কম তাই এটি খুব ভাল খাদ্যজাল নয়।
(আমি চিত্র অনুযায়ী যা দেখলাম সেই প্রেক্ষাপটে বললাম, এজন্য লাস্টে খাদ্যজাল লাইনটি বলা যাবেনা। কিন্তু যদি প্রশ্নটি খাদ্যজাল থেকেই পড়ে তবে এটা খাদ্যজাল লিখতে হবে)


(ঘ) একটি জীবের চারপাশের নিত্য অবস্থা, উপাদান ইত্যাদি মিলে তাকে ঐ জীবের পরিবেশ বলে। পরিবেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভৌত, রাসায়নিক ও জীবজ উপাদানগুলোর মধ্যে নির্ভরতা ও আন্তক্রিয়াই হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। একটি প্রাকৃতিক পরিবেশে উপাদানগুলো নির্দিষ্ট পরিমানে বিরাজ করে যা ঐ পরিবেশের জীবদের নিয়ন্ত্রন করে। যখন কোন পরিবেশের কোন উপাদানের ঘাটতি থাকেনা এবং স্থানের তুলনায় এতই বিপুল থাকেনা যে জীবজ উপাদান সর্বদাই জ্যামিতিক হারে বাড়বে। এই সামগ্রিক পরিমিত নিউট্রাল উপাদানের পরিবেশই হচ্ছে ভারসাম্য পরিবেশ। এই পরিবেশে যদি কোন একটি উপাদান বেড়ে যায় বা বিলুপ্ত হয় তবে পরিবেশ তার ভারসাম্য হারায়। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ এই বাড়তি বা ঘাটতি উপশম করে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। যেমন সুন্দরবনে যদি হরিণের সংখ্যা কমে যায় তবে তাদের উপর নির্ভরশীল বাঘের সংখ্যাও কমে যাবে। বাঘের সংখ্যা কমে গেলে তাদের দেহের উপাদান মাটিতে চলে যাবে এবং মাটির পুষ্টি বাড়বে। এবং উদ্ভদ তা গ্রহন করে বাড়বে। অপরদিকে বাঘের সংখ্যা কমে যেতে থাকলে এক সময় হরিণের সংখ্যা বাড়বে। এভাবে পরিবেশ তার উপাদানগুলোর ভারসাম্য ঠিক রাখে। উপরের চিত্রের জীবজ উপাদানগুলো এভাবেই ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। সেখানে উৎপাদক বৃদ্ধি পেলে প্রথম স্তরের খাদক বৃদ্ধি পায়। ফলে উৎপাদক কমে যায়। কিন্তু বিলুপ্ত হবেনা। তার আগেই দ্বিতীয় স্তরের খাদক বেশি খাবার পেয়ে বেড়ে যাবে। কিন্তু তারাও অতিবৃদ্ধি পাবেনা কারন কিছু সংখ্যাক বৃদ্ধির পর বাড়তি জনসংখ্যা বেশি করে খেয়ে প্রথম স্তরের খাদক কমিয়ে দেয়। এভাবে একটি স্তরের উপাদান হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে সাময়িক সকল উপাদান বৃদ্ধি পেয়ে তা আবার কমে পরিবেশের মোট উপাদান ঠিক রেখে ভারসাম্য বজায় রাখে। মানব জগত টিকে থাকার জন্য এই ভারসাম্য অতি জরুরী। এভাবে বিশ্বের সকল ইকোসিস্টেম পরিবেশ রক্ষা করে চলেছে। চিত্রে স্পষ্ট দেখা যায় একাংশের হ্রাস বৃদ্ধি অন্য অংশে প্রশমন ক্রিয়া ঘটিয়ে সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
17 সেপ্টেম্বর 2020 "জীব বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Prima
1 উত্তর
1 উত্তর
5 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 5 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 2996
...