1 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
রক্ত কণিকাঃ

রক্তরস বা প্লাজমাতে নিমজ্জিত ভাসমান বিশেষ কণিকাগুলোকে রক্ত কণিকা বলে। এই কণিকা গুলো রক্ত রসের সাথেই দেহের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় ।

রক্ত কণিকার প্রকারভেদ

মানবদেহে রক্তকণিকাগুলো প্রধানত ৩ প্রকার। যথাঃ-
১। এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্ত কণিকা,
২। লিউকোসাইট বা শ্বেতরক্ত কণিকা,
৩। থ্রম্বোসাইট বা অনুচক্রিকা।


এরিথ্রোসাইট বা লোহিত রক্ত কণিকাঃ


মানব দেহে বিভিন্ন রক্তকণিকা গুলোর মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমান সবচেয়ে বেশি। লোহিত রক্তকণিকা সাধারন্তত অস্থিমজ্জার ভেতর উৎপন্ন হয় এবং লোহিত কণিকা পরবর্তীতে বিভাজিত হয়না। প্লীহা এবং যকৃতে লোহিত কণিকা সঞ্চিত থাকে।
পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গুলো দেখতে দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির। লোহিত রক্তকণিকাতে কোন নিউক্লিয়াস থাকেনা। তবে স্তন্যপায়ী ব্যতিত অন্যন্য মেরুদন্ডী প্রাণির লোহিত রক্ত কণিকাতে নিউক্লিয়াস থাকে। লোহিত রক্ত কণিকাতে হেম এবং গ্লোবিউলিন সমন্বয়ে গঠিত হেমোগ্লোবিন নামক এক প্রকার লৌহ ঘটিত প্রোটিন থাকে। এটি লাল রঙ্গের হওয়ায় লোহিত রক্ত কণিকা লাল হয় এবং রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমান বেশি হওয়ার জন্য সামগ্রিকভাবে রক্ত লাল হয়।



একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহের প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা ৫০ লাখের মত এবং নারী দেহে ৪৫ লাখের মত। তবে শিশু ও ভ্রূণতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। লোহিত রক্ত কণিকার গড় আয়ু ১২০ দিন।

লোহিত রক্ত কণিকার কাজঃ-

১। দেহের প্রতি সজীব কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে।
২। কোষের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন কার্বনডাই অক্সাইড ফুসফুসে পরিবহন করে।
৩। রক্তের PH=৭.৪ (অম্ল-ক্ষারক সমতা) বজায় রাখতে বাফার হিসাবে কাজ করে।


লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্ত কণিকাঃ-

শ্বেত রক্তকণিকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হেমোগ্লোবিন বিহীন বড় আকারের কোষ। তবে এর নির্দিষ্ট কোন আকৃতি নাই কারন এরা এমিবার মত আকৃতি পরিবর্তন করতে পারে। হেমোগ্লোবিন না থাকায় এরা ধুসর সাদা বর্ণের কণিকা। শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। শ্বেত রক্ত কণিকা রক্ত রসের মধ্য দিয়া রক্ত রসের পরিবহন ছাড়াই নিজেরা চলতে পারে এবং রক্তজালিকা ভেদ করে বিভিন্ন টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে।
মানব দেহের প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমান ৪-১০ হাজার তবে জীবানূ আক্রান্ত হলে বা অসুস্থ্য দেহে এদের পরিমান বেড়ে যায়। স্তন্যপায়ীদের রক্ত কণিকা গুলোর মধ্যে শুধু শ্বেত রক্ত কণিকাতে নিজস্ব DNA থাকে। শ্বেত রক্তকণিকা আবার কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে।

শ্বেত রক্তকণিকার প্রকারভেদঃ-

ঘঠনগত ভাবে এবং সাইটোপ্লাজমে দানাদার পদার্থের উপস্থিতি অনুপস্থিতির উপর ভিক্তি করে শ্বতরক্ত কণিকাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় । যথাঃ-
১। অ্যাগ্রানুলোসাইট এবং
২। গ্রানুলোসাইট।

অ্যাগ্রানুলোসাইটঃ-

স্বচ্ছ ও সাইটোপ্লাজম দানাহীন শ্বেতরক্ত কণিকা গুলো হচ্ছে অ্যাগ্রানুলোসাইট। এটি আবার দুই প্রকার যথাঃ লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট। দেহের লিম্ফোনোড, টনসিল, প্লীহা ইত্যাদি অঙ্গশে এরা তৈরি হয়। লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ও ছোট আকারের রক্ত কণিকা। মনোসাইট ছোট ডিম্বাকার বা বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের রক্ত কণিকা। লিম্ফোসাইটের এন্টিবডি গঠন করার ক্ষমততা আছে।


গ্রানুলোসাইটঃ-

এদের সাইটোপ্লাজম সুক্ষ দানাযুক্ত । এদের নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিক্তিতে ৩ ভাগে ভাগ করা যায় । যথাঃ- লম্বাকৃতির ,৩ খন্ডাকৃতি নিউক্লিয়াস যুক্ত কণিকা গুলোকে নিউট্রফিল বলে। দুই প্রান্ত মোটা ও মাঝ বরাবর সুক্ষ সরু নিউক্লিয়াসযুক্ত কণিকা গুলোকে ইওসিনোফিল বলে দুই প্রান্ত কিছুটা মোটা ও মাঝখান সরু নয় এমন নিউক্লিয়াস যুক্ত কণিকা গুলোকে বেসোফিল বলে।

শ্বেত রক্ত কণিকার কাজঃ-

১। শ্বেত রক্ত কণিকার মনোসাইট এবং নিউট্রফিল দেহে প্রবেশকৃত জীবানূ ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে।
২। লিম্ফোসাইট দেহে এন্টিবডি তৈরি করে এবং জীবানূ ধ্বংস করে।
৩। ইউসিনোফিল এবং বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরন করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে। ৪। বেসোফিল হেপারিন ক্ষরন করে দেহের ভেতর রক্ত জমাট বাধতে বাধা দেয়।



থ্রম্বোসাইট বা অনুচক্রিকাঃ-

দানাদার সাইটোপ্লাজমযুক্ত গোলাকার, ডিম্বাকার বা রড আকৃতির কণিকা গুলো হচ্ছে অনুচক্রিকা । অনুচক্রিকাতে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বডি থাকে কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকেনা। এদের ইংরেজীতে প্লেটলেটও বলা হয়ে থাকে। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন এগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়। এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহৎ কোষের বিচ্ছিন্ন অংশ। অনুচক্রিকার গড় আয়ু ৫-১০ দিন। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দেহের প্রতি মিলিমিটারে অনুচক্রিকার পরিমান প্রায় আড়াই লক্ষ । তবে অসুস্থ্য দেহে এদের পরিমান বেড়ে যায়।


অনুচক্রিকার কাজঃ-

অনুচক্রিকা দেহের প্রতিরক্ষামূলক কাজে অংশ নেয়। অনুচক্রিকার প্রধান কাজ হচ্ছে

দেহে রক্ত তঞ্চন সৃষ্টি করে রক্ত ক্ষরনে বাধা দেওয়া। অর্থাৎ দেহের কোন অংশ আঘাত প্রাপ্ত হয়ে কেটে বা ছিড়ে গেলে বা যেকোন রকম ক্ষত হলে সেখানে ক্যালসিয়াম আয়নের উপস্থিতিতে থ্রম্বপ্লাস্টিন হরমোন ক্ষরন করে ফাইব্রিন নামক এক প্রকার রক্তজাল সৃষ্টি করে রক্তকে আটকে দেয় ফলে রক্ত ক্ষরন বন্ধ হয়ে দেহের ক্ষরনজনিত প্রতিরক্ষায় অংশ নেয়।

[ উল্লেখ্য রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়া একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। এটি অন্য একটি প্রশ্নে আলোচনা করা হবে।]

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

4 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 4 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 3184
...