"কৃষি বিজ্ঞান বই" বিভাগে করেছেন

image


জীববিজ্ঞান ও ভূগোল

1 উত্তর

+1 টি ভোট
করেছেন
১। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ একই রকম সমতল নয়। আবার সমস্ত জায়গা সূর্য থেকে সমান দুরত্বে নয়। পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস হচ্ছে সূর্য। তাই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সূর্যালোকের পতন ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এক এক জায়গার পরিবেশ এক এক রকম। আবার কোথাও উচু কোথাও নিচু, পাহাড় পর্বত, নদী সমুদ্র ইত্যাদির ফলে এক এক জায়গায় এক এক রকম পরিবেশ বিরাজ করে। আবার একই স্থানে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিবর্তনের জন্যও ভিন্ন আবহাওয়া পরিলক্ষিত হয়। আর এই সমস্ত পরিবেশে গড়ে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ প্রাণী তথা জীব। নানা পরিবেশে নানা জীবের বসবাস একত্রে বলা হয় জীব বৈচিত্র। 

যেহেতু পৃথিবীর সকল পরিবেশ সমান নয়। তাই ভিন্ন ভিন্ন স্থান ও পরিবেশে বসবাসের জন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের গঠন ভিন্ন, খাদ্য ভিন্ন, বেচে থাকার কৌশল ভিন্ন।

ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য জীবের এই বহুরুপ বৈশিষ্ট্যপ্রাপ্যতার বিষয়কে বলা হয় অভিযোজন। এই অভিযোজনিক ক্ষমতার অধিকাংশ জিন নিয়ন্ত্রিত। আবার বহু বৈশিষ্ট্য কোন একটি পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে বা টিকে থাকতে বর্ধিত বা বিলুপ্তও হতে পারে। একে ইভ্যলিউশন বলা হয়।

এটি ঘটে মূলত সেই জীবদের যারা এক পরিবেশ থেকে অপর পরিবেশে যেহে টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। কোন একটি নতুন জীব বা উদ্ভিদ নতুন পরিবেশে প্রতিষ্ঠা পেলে বহুদিন যাবত বসবাসের ফলে ঐ স্থানের জলবায়ুর সাথে তার দেহের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে। এগুলো হয় ঐ জীবের অভিযোজন ক্ষমতার দ্বারা।

যেমন সমুদ্রউপকূলবর্তী এলাকা লবণাক্ত ও প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়। এই পরিবেশে সকল উদ্ভিদ টিকে থাকতে পারেনা। কিন্তু কিছু উদ্ভিদ তার দেহের কিছু স্থায়ী পরিবর্তন করে অভিযোজিত হয়। যেমন লবন ও কাদা মাটিতে শ্বাস নিতে অসুবিধা কাটাতে সুন্দরী  গরান গাছ শ্বাসমূল নামে এক প্রকার মূল সৃষ্টি করে মাটির উপরিভাগে পাঠায়। এটি সরাসরি বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহন করে। লোনা পানি দেহের উপযুক্ত নয় বলে দেহে বেশি পানি সঞ্চয় রাখতে এদের রসাল পুরু পাতা থাকে। এগুলো এই উদ্ভিদকে এই পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। 

আবার মরু এলাকায় পানির অভাবের জন্য দেহ থেকে পানি ক্ষয় বা প্রশ্বেদন রোধ করার জন্য গাছের পাতা খুবই ছোট ছোট  কন্টকিত হয়। আবার পানি সঞ্চয়ের জন্য কান্ড রুপান্তরিত হয় পুরু রসাল পাতাকৃতি হয় যেমন ফনিমনসা, ক্যাকটাস।  আবার জলজ পরিবেশে মাটি না থাকায় ভেসে থাকতে কচুরীপানার কান্ড ফাপা ও বায়ুকুঠরীযুক্ত থাকে যা তাকে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। এভাবে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে উদ্ভিদে ঐ পরিবেশ ও স্থায়ী জলবায়ু অনুযায়ী দেহে নানা অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্যপ্রাপ্ত হয়। যাকে উদ্ভিদের অভিযোজনিক ক্ষমতা বা টিকে থাকার ক্ষমতা বলা হয়।

২। এক সময় আমাদের দেশের বালাম পাটনাই ধান চাষ হত। কিন্তু এখনকার পরিবেশে এগুলো আর টিকে থেকে ভাল ফলন দিতে না পারায় মানুষ আগ্রহী হয়না বলে বালাম ধান বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আগে এক সময় শীত মৌসুমে নানা ফসল ফলত। বিশেষ পরিচর্যা, সার ইত্যাদি ছাড়াই চাষ হত। এখন তা আর নাই এখন এগুলো গুটি কয়েক অঞ্চলে কৃত্রিম সার প্রয়োগ  পরিচর্যা ইত্যাদি করেই ফলাতে হয়। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি উত্তর
1 উত্তর
29 এপ্রিল "জীব বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন mitu
0 টি উত্তর
20 সেপ্টেম্বর 2020 "কৃষি বিজ্ঞান বই" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Sharmin Shanu
3 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 3 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 2054
...