0 টি ভোট
"প্রতিষ্ঠানিক বই পত্র" বিভাগে করেছেন (390 পয়েন্ট)
ক্যামেরা কি?

ক্যামেরার কার্যপ্রণালি ব্যাখ্যা কর?

৮ম শ্রেণির উপযোগী করে নিজের ভাষায় লিখুন

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
ক্যামেরার কার্যনীতি বর্ণনার সুবিধার জন্য ক্যামেরার মৌলিক গঠন সম্পর্কে কিছু বলা হবে, কিন্তু তা ক্যামেরার গঠনের পুরা বর্ণনা নয়।

ক্যামেরা যেভাবে কাজ করেঃ ক্যামেরার মূল ভেতরে একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠ বা চেম্বার থাকে। এই প্রকোষ্ঠ বা রুম বা চেম্বারের দেওয়াল কালো রং করা থাকে যাতে চেম্বারটি অন্ধকার থাকে।

সম্মুখে বাইরের দিকে চোঙ্গাকৃতি  সংক্ষিপ্ত নলের ভেতর পেচ করে দুরত্ব পরিবর্তনযোগ্য একটি উত্তল লেন্স থাকে। প্রকোষ্ঠ বা চেম্বারের ভেতর অন্ধকারে রাখা হয় ফটোগ্রাফিক ফিল্ম। সাধারন আমাদের কাছে এটি নেগেটিভ বলে পরিচিত। এই ফটোগ্রাফিক ফিল্ম স্বচ্ছ প্লাস্টিক দিয়া তৈরি। এর গায়ে আলোক সংবেদী সিলভার হ্যালাইড এর অস্তরন দেওয়া থাকে। এই সিলভার হ্যালাইড খুবই আলোক সংবেদী। আলো পড়লে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে যৌগের ভিন্ন বিন্যাস হয়। লেন্স ও অন্ধকার প্রকোষ্ঠ বা চেম্বারের মাঝে থাকে একটি ছোট জানালা। জানালাটি একটি বাটন দ্বারা খোলা বন্ধ হওয়া নিয়িন্ত্রন করা যায়। জানালাটি এমন ভাবে তৈরি যে খোলার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটি হাফ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বন্ধ হতে পারে।

চিত্র গ্রহন বা ফটো তোলার কার্যপ্রণালীঃঃ

যখন ফটো তোলা হয় তখন অবজেক্ট বা কাঙখিত দৃশ্যের দিকে ক্যামেরা লেন্স ফিরিয়ে লেন্সটি পেচ দ্বারা দুরত্ব কম বেশি করে দৃশ্যের একটি উল্টা প্রতিবিম্ব ফোকাস করা হয়।(উত্তল লেন্সের কার্যপ্রণালী)।  ফোকাসটি লেন্সের পেছনে অন্ধকার চেম্বারে রাখা ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর পড়বে। যদিও প্রিপেয়ারের সময় পড়েনা কারন জানালাটি বন্ধ থাকে, কিন্তু জানালা খুললেই পড়বে এমন ভাবে ফোকাস সেট করা হয়। এবার বাটন চেপে জানালা খোলা হয়। জানালা খোলার সাথে সাথে লেন্স দ্বারা উৎপন্ন ফোকাস ফটগ্রাফিক ফিল্মের উপর একটি  আলোকময় উল্টা প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে। ফটোগ্রাফিক ফিল্মের সিলভার হ্যালাইড সাথে সাথে প্রতিবিম্বের আলোর উজ্জ্বল্যতা অনুযায়ী কম বেশি রাসায়নিক বিক্রিয়া করে সিলভার হ্যালাইড পরিবর্তিত হয়। অর্থাত দৃশ্যের যেখানে সাদা প্রতিবিম্বের সেই সাদা স্থানে বেশি বিক্রিয়া হয় আর দৃশ্যের যেখানে কালো প্রতিবিম্বের সেই কালো স্থানে আলো না পেয়ে কম বিক্রিয়া হয়।

এর ফলে প্রতিবিম্ব অনুসারে সিলভার হ্যালাইড পরিবর্তন হয়। যেহেতু জানালা খোলার সাথে সাথে আবার বন্ধ হয়ে যায় তাই সিলভার হ্যালাইড এক ফোকাস আলো পেয়ে কাজ করে। অধিক্ষন আলো আসার সুযোগ থাকেনা বলে ফিল্মের সমস্ত হ্যালাইড বিক্রিয়া করারও সুযোগ পায়না।

এভাবে দৃশ্য অনুসারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার দ্বারা দৃশ্যের ছাপ ফিল্মে গ্রহন করা হয়।

পরে এই ফিল্ম, হাইপো দ্বারা ধৌত করলে যেখানে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়নি সেখানকার সিলভার হ্যালাইড গলে উঠে যায়। আর যেখানে বিক্রিয়া হয়েছিল সেখানে ওঠেনা। এভাবে আমরা দৃশ্য বা চিত্রের নেগেটিভ পাই।

এবার অন্য এক উপায়ে ফিল্মটির উপর থেকে আলো ফেলা হয় এবং ফিল্মের নিচে রাখা হয় আলোক সংবেদী  সিলভার সল্ট বা সিলভার লবন প্রলেপ যুক্ত কাগজ। যার নাম ফটোগ্রাফিক প্রিন্ট পেপার। এটি নেগেটিভ এর ভেতর দিয়া আসা আলোক অনুসারে রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা দৃশ্যের ছবি ফুটিয়ে তোলে। অর্থাৎ নেগেটিভ এর যে অংশে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়েছিল সেই বিক্রিয়া কম বেশি হওয়ায় আলোও তার ভেতর দিয়া কম বেশি হয়ে পেপারের উপর সাদা কালো বা রঙ্গিন ছবি ফুটিয়ে তোলে।(উল্লেখ্য রঙ্গিন ফটোর জন্য আরও কিছু বেশি ক্যামিকেল ব্যবহার করতে হয় যার মূল কার্য্য একই। এভাবে ক্যামেরা চিত্র গ্রহন করে ও পরে আমরা চিত্র পেপারে প্রিন্ট করি। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
05 অগাস্ট 2020 "জীব বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Lamyea Noor (390 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর
25 নভেম্বর 2020 "ইতিহাস" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Md.Solaiman Ali (23 পয়েন্ট)
9 Online Users
1 Member 8 Guest
Today Visits : 6645
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5084358
...