0 টি ভোট
"পদার্থ বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন (390 পয়েন্ট)
বন্ধ করেছেন
বন্ধ

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
নির্বাচিত করেছেন
 
সর্বোত্তম উত্তর
তরঙ্গ হচ্ছে এক প্রকার ঢেউ বা পর্যাবৃত্ত আন্দোলন যার ফলে শক্তি সঞ্চালিত হয় কিন্তু মাধ্যমের কনাগুলোর স্থান পরিবর্তন হয়না।

তরঙ্গের ধারনাঃ ধরুন আপনি পুকুরে একটি ঢিল ছুড়ে মারলেন। ফলে যেখানে পানিতে ঢিল পড়ল ঐ স্থানের পানি কনাগুলো একটা ঝাকুনি খেল বা কেপে উঠল। এতে বড় ঢেউ এর সৃষ্টি হয়। এই ঢেউ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে কুলের দিকে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর দেখবেন যে ঢেউ গুলো কুলে যেয়ে আঘাত করে শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু লক্ষ করুন যে, যেখানে ঢিল পড়েছিল এবং পানি কনাগুলো ঝাকুনি খেয়ে কেপে ঢেউ সৃষ্টি করেছিল সেই পানি কিন্তু কুলে যেয়ে আঘাত করেনি। পানি কনাগুলো ঢিল ছোড়ার জায়গায়ই আছে। কোন ধরনের পানি চলাচলের স্রোত কিন্তু হয়নি, শুধু ঢেউ গুলো একটির উপর আরেকটি পড়ে ধাক্কা মেরে শক্তিলে ছুড়ে দিয়েছে যা কুলে এসে আঘাত করেছে। এই ঢেউকেই তরঙ্গ বলে। 

পানি ছাড়া বাতাসেও তরঙ্গ হয়। আপনি গলায় হালকা ভাবে হাত রেখে একটু ঝোরে হেল্লো বলুন।  দেখবেন যে আপনার গলার ভোকাল অস্থি কাপছে ।  খেয়াল করুন এই কম্পন বাতাসের কনাগুলোকেও কাপাচ্ছে ফলে বাতাসের কনা গুলো ঢেউয়ের মতই একটি কনার কম্পন তার পাশের কনাকে ধাক্কা মেরে কাপিয়ে দিচ্ছে। এভাবে কনার কম্পন মানুষের কানের পর্দায় ধাক্কা মেরে কাপিয়ে দেয় ফলে আমরা কথা বা শব্দ শুনতে পায়। একে বলে বায়ু তরঙ্গ।

বিজ্ঞানের আবিষ্কার বা ব্যবহারিক তরঙ্গঃ

তরঙ্গ আমরা দেখতে পাইনা তাই মনে হয় এটি আসলে কি? বুঝতে অসুবিধা হয়। রেডিওতে কথা দুরে যায় তরঙ্গ দিয়া, টিভি, মোবাইল, স্যাটেলাইট, রাডার, ওয়ার্লেস যেকোন কিছু এমনকি ওয়াইফাই ব্লুটুথ সবই তরঙ্গ। এগুলোকে সাধারন ভাবে বলা হয় তাড়িতচুম্বকীয় তরঙ্গ। তাহলে এই তরঙ্গ কি বা কেমন?

আমরা নিশ্চয় চুম্বক দেখেছি? চুম্বক কি করে? লোহা ও নিকেল জাতীয় বস্তুকে আকর্ষন করে।  হ্যা আকর্ষন করলেই চুম্বক হয়না, চুম্বকতের আসল প্রমান বিকর্ষন।  যাই হোক এর ব্যাখ্যা না হয় অন্য একদিন দিব যদি কেউ জানতে চায়। আজ তরঙ্গতেই থাকি।

যাইহোক। চুম্বকের পাশে লোহা রাখলে তা তিড়িং করে লাফিয়ে চুম্বকের গায়ে লেগে যায়। এটি হয় চুম্বক বল রেখার শক্তির জন্য।

এই চুম্বকের দুটো মেরু থাকে। একটি উত্তর মেরু, অপরটি দক্ষিন মেরু।

এখন আমরা জানি কোন অন্তরীত চিকন তামার তার একটি কাচা লোহার পেরেকের গায়ে পেচিয়ে তারে ব্যাটারি সংযোগ দিলে পেরেকটি চুম্বকের মত আকর্ষন শক্তি পাই। পেরেকটি চুম্বকে পরিণত হয়। একে বলে তড়িত চুম্বক। তো এই চুম্বকেরও একই দুটো মেরু থাকে। ধরুন পেরেকের মোটা মাথা উত্তর মেরু, চিকন মাথা দক্ষিন মেরু হল। এখন ব্যাটারি সংযোগ খুলে উল্টা করে লাগালে মানে আগে ব্যাটারীর লাল প্রান্ত পেরেকে প্যাচানো তারের যে প্রান্তে লাগিয়েছিলেন ঐ প্রান্ত এবার ব্যাটারীর কালো বা নেগেটিভ প্রান্তে লাগালে পেরেকের চুম্বকত পাল্টে যাবে। অর্থাত মোটা প্রান্ত দক্ষিন মেরু আর চিকন প্রান্ত উত্তর মেরু হয়ে যাবে। 

তো এই ব্যাটারী সংযোগ উল্টা সিধা লাগালে পেরেকের চুম্বকের মেরুও পাল্টে যায়। কাজেই যদি এই পরিবর্তন অতি দ্রুত করা যায় যেমন সেকেন্ডে ২০০ বার,  তাহলে পেরেকের চুম্বকের মেরুও ২০০ বার পাল্টাবে সেকেন্ডে। এখন এত অল্প সময়ে এত বেশিবার বিপরীত ভাবে মেরু পাল্টায় কারন পেরেকের ভেতর লোহার কনাগুলো ব্যাটারী কারেন্টের শক্তির পরিবর্তনের সাথে পাল্টায়। আর এত দ্রুত পাল্টানোকে আমরা কম্পন বলি। কাজেই বলা যায় যে, পেরেকের লোহার কনা গুলো উত্তর মেরু দক্ষিন মেরু কাপতে থাকে। ফলে আকর্ষন বলও কাপতে থাকবে। এই কম্পন বিদ্যুতকে চুম্বক আকর্ষনের কম্পনের সাথে চারদিকে ছিটকে ছড়িয়ে দেয়। একে বলে তড়িত চুম্বকীয় তরঙ্গ। এখন মনে হচ্ছে ব্যাটারীর মুখ এত দ্রুত পাল্টানো সম্ভব না। ঠিক কিন্তু এসি বা পর্যাবৃত্ত বিদ্যুত অটো এই কাজ করতে পারে। এসি বিদ্যুতের কাজই দ্রুত মুখ বা দিক বদলানো। 

আমরা যখন ফোনে কথা বলি তখন ভোকাল অস্থির কম্পন মাইক্রোফোনের পর্দাকে কাপায়।  এর ফলে মাইক্রোফন একটি কম্পনমান বিদ্যুত বা পর্যাবৃত্ত বিদ্যুর তৈরি করে।  এই কম্পনমান বিদ্যুত তড়িত চুবিকীয় তরঙ্গ রুপে বাতাসে ছড়িয়ে টাওয়ারে যায়। টাওয়ার হুবুহু সেই কম্পন গ্রাহক মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়।  গ্রাহক মোবাইল তখন সেই কম্পন স্পিকারের পর্দাকে কাপায় আর আমরা সেই কথা হুবুহ শুনতে পাই। এভাবে তরঙ্গ কাজ করে। কোন অংশে বুঝতে সমস্যা হলে জানাবেন।      
করেছেন (390 পয়েন্ট)

এখন আমরা জানি কোন অন্তরীত চিকন তামার তার একটি কাচা লোহার পেরেকের গায়ে পেচিয়ে তারে ব্যাটারি সংযোগ দিলে পেরেকটি চুম্বকের মত আকর্ষন শক্তি পাই। পেরেকটি চুম্বকে পরিণত হয়। একে বলে তড়িত চুম্বক। তো এই চুম্বকেরও একই দুটো মেরু থাকে। ধরুন পেরেকের মোটা মাথা উত্তর মেরু, চিকন মাথা দক্ষিন মেরু হল। এখন ব্যাটারি সংযোগ খুলে উল্টা করে লাগালে মানে আগে ব্যাটারীর লাল প্রান্ত পেরেকে প্যাচানো তারের যে প্রান্তে লাগিয়েছিলেন ঐ প্রান্ত এবার ব্যাটারীর কালো বা নেগেটিভ প্রান্তে লাগালে পেরেকের চুম্বকত পাল্টে যাবে। অর্থাত মোটা প্রান্ত দক্ষিন মেরু আর চিকন প্রান্ত উত্তর মেরু হয়ে যাবে।এ অংশটুকু আরেকটু বিস্তারিতভাবে কি বলা যায়?

যাহোক  ব্যখ্যামূলকভাবে বোঝানোর জন্য ধন্যবাদ
করেছেন (3.6k পয়েন্ট)
বিষয়টা এইরকম যে, ব্যাটারীর দুই প্রান্ত একটা পজেটিভ যাকে লাল চিহ্নিত করা হয়। অন্যটি নেগেটিভ প্রান্ত যাকে কালো চিহ্নিত করা হয়। আবার পাঠ্যপুস্তকে পজেটিভ কে + চিহ্ন আর নেগেটিভ কে - চিহ্ন দ্বারা সুচিত করা হয়। 

এখন একটি বালবে দুটি প্রান্ত থাকে।  যা ব্যাটারীর পজেটিভ নেগেটিভ দুই প্রান্তে যুক্ত করতে হয়।  তো ধরি বালবের দুই তারও পজেটিভ নেগেটিভ আছে। তাহলে পেরেকের তারের ক্ষেত্রে প্রথম দুটি তার ব্যাটারী যে প্রান্তে লাগালেন, পরে তারের প্রান্ত দুটো ব্যাটারীর প্রান্ত পাল্টে লাগানোর কথা বলেছি। বিষয়টা এমন,  প্রথমে বালবের লাল বা পজেটিভ তার ব্যাটারীর পজেটিভ প্রান্তে আর নেগেটিভ তার ব্যাটারীর নেগেটিভ প্রান্তে লাগালে বিদ্যুত যে দিকে চলবে,  পরে দ্বিতীয় বার বালবের লাল বা পজেটিভ তার ব্যাটারীর নেগেটিভ প্রান্তে আর নেগেটিভ তার ব্যাটারীর পজেটিভ প্রান্তে লাগালে বিদ্যুত উল্টা দিকে চলবে। এটাই।

এখানে পুরা ব্যাপারটা বুঝতে না পারলে তরঙ্গের আরেকটি উদাহরন দেই, 

ধরুন একটা বেঞ্চের মাঝ খানে আপনি বসেছেন।  আর আপনার দুপাশে দুজন করে বন্ধু মোট ৫ জন বসেছে।   আপনি ৫ জনের মাঝখানে। আপনার ডান পাশে দুজন বাম পাশে দুজন।

এখন আপনি একটু দুষ্টামি করে ডান পাশের বন্ধুকে ধাক্কা দিলেন। এতে ডান পাশের বন্ধু হেলে যেয়ে তার ডান পাশের বন্ধুকে ধাক্কা দিল। আর শেষ বন্ধু ধাক্কা ক্ষেয়ে পড়ে গেল। এবার আপনি বাম পাশের বন্ধুকে ধাক্কা দিলেন। ফলে একই ভাবে বাম পাশের শেষ বন্ধুও ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেল।এভাবে আপনি ডান বান পালাক্রমে হেলে ধাক্কা দিয়া ফেলে দেওয়ার রীতিই হচ্ছে তরঙ্গ। আপনি বল দিয়া ধাক্কা দিছেন কিন্তু সরে জাননি তবুও বেঞ্চের প্রান্তের বন্ধু সেই বলের ধাক্কায় পড়ে গেল। এভাবে তরঙ্গ শক্তি সঞ্চালিত করে কিন্তু পদার্থ কনার স্থান পরিবর্তন হয়না। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
+1 টি ভোট
2 টি উত্তর
06 জুলাই 2019 "পদার্থ বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন উর্বশী উষা (562 পয়েন্ট)
4 Online Users
0 Member 4 Guest
Today Visits : 6963
Yesterday Visits : 2293
Total Visits : 5084675
...