0 টি ভোট
"প্রাণী বিজ্ঞান বই" বিভাগে করেছেন (3.1k পয়েন্ট)
মানুষের পেটে খাদ্য হজম হওয়ার প্রক্রিয়া বর্ণনা কর?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (603 পয়েন্ট)

পরিপাকনালী বা পৌষ্টিক নালীঃ খাদ্য গ্রহন থেকে শুরু করে যেসকল অঙ্গের মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে খাদ্য এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে যায় এবং পরিপাক হয়ে শেষ পর্যন্ত অবসারণীতে পৌছায় সেই সকল অঙ্গকে পরিপাকনালী বলে। 

image

মূখগহব্বর থেকে পায়ূ পর্যন্ত লম্বা এই নালী কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত । 

নিম্নে পরিপাক নালীর বর্ণনা দেয়া হলঃ-

মুখচ্ছিদ্রঃ নাসিকার নিচে দুটি ঠোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিদ্রটি হচ্ছে মুখচ্ছিদ্র। খাদ্য এখান থেকে প্রবেশের মাধ্যমে পরিপাক নালীর যাত্রাপথ শুরু।

মুখগহব্বরঃ দুই ঠোট দ্বারা পরিবেষ্টিত দু-চোয়াল দাত দ্বারা পরিবৃত অভ্যন্তরভাগ হচ্ছে মুখগহব্বর। মুখগহব্বরে দু-পাশে লালাগ্রন্থিসহ জিহব্বার নিচ গ্রন্তিযুক্ত। লালাগ্রন্থি থেকে মিউকাস ক্ষরন হয়। এতে মিউসিন ও টায়ালিন থাকে।  টায়ালিন নামক শর্করা আদ্রবিশ্লেষী এনজাইম। এতে কিছু পরিমান মলটেজও থাকে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়। মুখগহব্বরের দাত দ্বারা খাদ্য টুকরোকরন, পেষন ও লালারসের সাথে মিশে গলধঃকরণ উপযোগী মন্ড বা কাইমে পরিণত হয়। 

গলবিলঃ মুখগহব্বরের জিহব্বার উপরে ও পেছনের দিকের অংশ গলবিল নামে পরিচিত। গলবিলের শেষ প্রান্তে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী উন্মুক্ত হয়। এখানে উপর থেকে একটি প্রবর্ধিত অংশ থাকে যাকে "আল-জিহব্বা" বলে। এটি শ্বাসনালীকে ঢেকে রাখে। 

অন্ননালীঃ গলবিলের শেষ প্রান্ত থেকে একটি সরু নালী উৎপন্ন হয়ে পাকস্থলীতে পৌছে। একে অন্যনালী বলে। অন্যনালীর মধ্য দিয়ে খাদ্য গলবিল থেকে পাকস্থলীতে পৌছায়। 

পাকস্থলীঃ অন্যনালী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মাঝে বাকা থলের মত অঙ্গকে পাকস্থলী বলে। এর যে অংশে অন্যনালী এসে যুক্ত হয়েছে সেখানে প্রশস্থ ও ক্ষুদ্রান্ত্রের সাথে যুক্ত শেষ প্রান্ত কিছুটা সরু। পাকস্থলীর ভেতর প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল। পাকস্থলীর প্রাচীরে অসংখ্যা গ্যাস্ট্রিন গ্রন্থি থাকে। পাকস্থলি অনবরত সংকোচন ও প্রসারনের ফলে এখানে খাদ্য বস্তু নরম মন্ড বা কাইমে পরিণত হয়। গ্যাস্ট্রিন গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত গ্যাস্ট্রিক রস জীবানু ধবংস ও পরিপাকে সহায়তা করে। 

অন্ত্রঃ পাকস্থলীর পরবর্তী অংশ অন্ত্র। এটি প্যাচানো লম্বা নালী বিশেষ। অন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত। যথাঃ ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্র। 

ক্ষুদ্রান্ত্রঃ পাকস্থলী থেকে বৃহদাত্র পর্যন্ত লম্বা প্যাচানো নালীকে ক্ষুদ্রান্ত্র বলে। ক্ষুদ্রান্ত্র তিন ভাগে বিভক্ত। যথাঃ-

 

image

ডিওডেনামঃ পাকস্থলীর পরবর্তী ক্ষুদ্রান্ত্রের অংশকে ডিওডেনাম বলে।

এটি সংক্ষিপ্ত এবং বাকা ধনুকের মত এবং মোটা।

পিত্তাশয় থেকে পিত্তনালী ও অগ্নাশয় থেকে অগ্নাশয় নালী এসে

ডিওডেনামে মিলিত হয়।


জেজুনাম ও ইলিয়াম: ডিওডেনামের পরবর্তী  অংশ পেচিয়ে 

দুটি কুন্ডালাকৃতি ধারন করে।

এই কুন্ডলীদ্বয়কে যথাক্রমে জেজুনাম ও ইলিয়াম বলে।


ক্ষুদ্রান্ত্রের গাত্রে বহু আন্ত্রিক গ্রন্থি থাকে এবং ভেতরের পৃষ্ঠ আঙ্গুলের মত

অভিক্ষেপযুক্ত, একে ভিলাই বলে। ভিলাসে অন্তঃপ্রাচীর বহু রক্তজালক বিশিষ্ট।  পরিপাককৃত সরল খাদ্য ভিলাই দ্বারা শোষিত হয়। 


বৃহদান্ত্রঃ ইলিয়ামের পরবর্তী ও মোটা অংশকে বৃহদান্ত্র বলে। ইলিয়াম বৃহদান্ত্রের এপেন্ডিক্স নাম স্থানে মিলিত হয়। এখান থেকে বৃহদান্ত্র শুরু হয়ে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত। বৃহদান্ত্র আবার তিন অংশে বিভক্ত। যথাঃ

সিকামঃ সিকাম অংশেই মুলত ইলিয়াম মিলিত হয়। সিকামের নিচের অংশকে এপেন্ডিক্স বলে। একটি কপাটিকা দ্বারা এপেন্ডিক্স নালী ঢাকা থাকে। 

কোলনঃ সিকামের পরবর্তী অংশ যা উপরের দিকে উঠে গেছে, এটি আবার তিন ভাগে বিভক্ত যথাঃ সিকাম থেকে উপরের দিকে গমনকারী অংশ হচ্ছে Ascending Colon, এর পর আড়াআড়ি ভাবে অপর পাশ পর্যন্ত অংশ হচ্ছে Transverse Colon এবং উপর থেকে নিচে আরোহী অংশ হচ্ছে Descending Colon। 

এরপরও খুবই সংক্ষিপ্তভাবে আড়াআড়ি পেচ খেয়ে নিচের দিকে প্রবর্ধিত হয় একে Signoid Colon বলে।

মলাশয়ঃ Signoid Colon এর পর প্রবর্ধিত অংশটি মাঝ বরাবর মোটা হয়ে মলাশয় গঠন করে। এখানে পরিশিষ্ট খাদ্য অর্থাৎ মল সাময়িক জমা থাকে।

পায়ুঃ পৌষ্টিক নালীর শেষপ্রান্ত হচ্ছে পায়ু। এটি একটি পেশীবহুল ছিদ্র বিশেষ। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
10 জানুয়ারি "প্রাণী বিজ্ঞান বই" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Waruf (3.6k পয়েন্ট)
0 টি ভোট
0 টি উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর
5 Online Users
0 Member 5 Guest
Today Visits : 3814
Yesterday Visits : 7651
...