in প্রতিষ্ঠানিক বই পত্র by
অষ্টম শ্রেণীর 6 অধ্যায় এর আলোকে দিতে হবে উত্তর।

1 Answer

0 votes
by

মানব সম্পদের উন্নয়ন ও করণীয়

দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করিতে হইলে দক্ষ মানব সম্পদ গড়িয়া তোলা অত্যাবশ্যক। উন্নত দেশের ইহাই মূল চালিকাশক্তি। ব্যক্তিগত জীবনেও উন্নতির জন্য স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন একান্ত প্রয়োজন। তবে দক্ষতা রাতারাতি অর্জন করা সম্ভব নহে। মূলত, উন্নত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং কর্মপরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে ইহার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ও এনএসটি ফেলোশিপের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বলেন যে, বাংলাদেশ আর পিছাইয়া থাকিবে না। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ধনী দেশ হিসাবে আবির্ভূত হইবে। উন্নয়নের এই লক্ষ্যে পৌঁছাইতে হইলে জনশক্তিকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করিবার কৌশল গ্রহণ করার এখনই সময়।

দক্ষ জনশক্তি থাকিলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সহজেই আকৃষ্ট হন। মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য আগে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে ঢালিয়া সাজাইতে হইবে। শিক্ষা হইতে হইবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার যে হতদশা, তাহাতে ভরসা করা কঠিন। সহজ-সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের বই প্রকাশের উদ্যোগ ও আয়োজন আজকাল আর দেখা যায় না বলিলেই চলে। ফলে গণিতের ন্যায় বিজ্ঞানভীতি আজও আমাদের শিক্ষার্থীদের মজ্জাগত। কিছুদিন আগে জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট বাহির হইয়াছে। তাহাতে দেখা যায়, বিজ্ঞানে দুর্বলতার কারণে অনেকে প্রত্যাশিত ফলাফল লাভ করিতে পারে নাই। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এক জরিপে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিষয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমিতেছে। অনেকের এখন প্রধান আগ্রহ কমার্স বা বাণিজ্য বিষয়ে। বাংলাদেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠান বিকাশের চাইতে ট্রেডিং বাড়িতেছে। ইহাই হয়তো তাহার প্রধান কারণ। তাহাছাড়া, ভাল ও পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাবের অভাবে বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হইতেছে। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায়ও চলিতেছে নানা সংকট। যুগোপযোগী সিলেবাস ও শিক্ষকের অভাব এবং অবকাঠামোগত সমস্যায় জর্জরতি এই জরুরি শিক্ষা পদ্ধতি। অথচ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গঠন করিতে না পারিলে সামগ্রিক উত্পাদন বৃদ্ধি ও জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করিয়া দাঁড়ানো সম্ভব হইবে না।

দক্ষ মানব সম্পদ পাইতে হইলে চাহিদামাফিক বিভিন্ন বিষয়ে মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরি করিতে হইবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারনি ও মাঠ পর্যায়ে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিকে প্রাধান্য দিতে হইবে। কোন কোন বিষয়ে কত সংখ্যক গ্রাজুয়েট দরকার তাহা পরিকল্পনা করিয়া কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে সেই অনুযায়ী বিন্যস্ত করিতে হইবে। তবে কাজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়াই মানুষের দক্ষতা অধিক অর্জিত হয়। এইজন্য মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি কর্মপরিবেশও উন্নত ও আধুনিক করিতে হইবে। মানব সম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭০% দক্ষতা আসে কাজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়া। ২০% মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারঅ্যাকশন) ও ১০% আসে প্রশিক্ষণ হইতে। প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সাপোর্ট জোরদার করা প্রয়োজন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বয়স, শিক্ষা, জেন্ডার, সামাজিক শ্রেণী ইত্যাদি বিবেচনায় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাইয়া যাইতে হইবে। এইক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগকে ছোট করিয়া দেখার কোন অবকাশ নাই। কেননা ভবিষ্যতে ইহাই প্রতিষ্ঠানের অধিক উত্পাদন ও প্রবৃদ্ধিতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করিবে। সর্বোপরি, জনশক্তিকে কমোডিটি বা পণ্য গণ্য করিবার কোন কারণ নাই। তাহাদেরকে সৃষ্টিশীল ও সামাজিক জীব (ক্রিয়েটিভ ও সোস্যাল বিয়িং) হিসাবে দেখাই বাঞ্ছনীয়। ফ্রান্স ও জার্মানির এই অ্যাপ্রোচ বা মনোভাবের কারণে দক্ষ মানব সৃষ্টিতে তাহারা সফল হন। পরে ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সেই দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি দেয়। উন্নয়নশীল দেশের সমস্যা হইল, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে চাহিদা থাকায় তাহাদের দক্ষ মানব সম্পদ ও মেধা পাচার হইয়া যাইতেছে। ফলে তাহারা উন্নয়নশীল দেশের তকমা ও ইহার চক্র হইতে বাহির হইয়া আসিতে পারিতেছে না। যেহেতু এইভাবে উন্নত দেশগুলি আরও উপকৃত হইতেছে, তাই সেইসব দেশের উচিত তৃতীয় বিশ্বের এইসব দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা। বিভিন্ন কর্মমুখী ইনস্টিটিউট ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তুলিবার মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যায় এইসব জনবহুল দেশে নূতন নূতন দক্ষ জনশক্তি তৈরি হইলে তাহা উন্নত ও অনুন্নত উভয় দেশেরই কল্যাণ হইবে।


Related questions

1 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 1 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 5424
...