"সাধারণ বিজ্ঞান" বিভাগে করেছেন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উপকারী ও অপকারী দিক আলোচনা কর

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন
জানা এই কৌতুকটা নিছক হাসির জন্য নয়, শিক্ষনীয়। স্বল্পমূল্যে অথবাবিনামূল্যে প্রযুক্তিপণ্য শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিলেই যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূর্ণ হবে, দেশের উন্নতি হবে, ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এমনটি আগাম ভেবে রাখা ভুল। প্রথমেই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কিভাবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পরিবর্তন আনা সম্ভব সে বিষয়গুলো প্রকাশসহ সচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অপ্রয়োজনীয় সাইটগুলো বন্ধ করে দিতে হবে। অপব্যবহার রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রযুক্তি তরুণ প্রজন্মকেযেভাবে আকৃষ্ট করেছে- অভিভাবক মহলে এ চিত্রটা কিন্তু ভিন্ন। উন্নত দেশের বয়স্ক ব্যক্তিরা শেষ বয়সে এসেও প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে সময় ব্যয় করছে, সেখানে আমাদের দেশে উল্টোচিত্র। সন্তানরা মা-বাবার কাছে থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করে। জমানো প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে চায়। প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি। প্রযুক্তি সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি অভিভাবকের উচিত প্রযুক্তি সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করা। সন্তানকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কিনে দিলাম, এগিয়ে যাবার সিঁড়ি তৈরী করে দিলাম-এমন ভেবে দায়িত্ব শেষ বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। দায়িত্ব শেষ নয়, শুরু। সঠিক পথ দেখিয়ে দিতে হবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের পথ বাতলে দিতে হবে, আগ্রহ জন্মাতে হবে। নইলে- প্রযুক্তি আশির্বাদ নয় অভিশাপ হয়ে দেখা দেবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি সচেতন অভিভাবকদেরও প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসতে হবে। সন্তান কি করছে, কোন সাইট ভিজিট করছে, কম্পিউটারকে বিনোদনের মাধ্যম না জ্ঞানার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করছে, কত সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করছে ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। দিনের পর দিন নতুন নতুন ওয়েবসাইট তৈরী হচ্ছে। মেধা খরচ করে তৈরী করা সাইটগুলোতে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিজ্ঞান, বিনোদন, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় স্থান পাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তি পণ্য স্বল্পমূল্যে বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষনীয় ওয়েবসাইটও তৈরী করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরীর পাশাপাশি কম্পিউটার ল্যাবে রক্ষিত কম্পিউটারের তথ্য ভান্ডার বিখ্যাত বইয়েরই-বুক দিয়ে ই-বুক লাইব্রেরী গড়ে তুলতে হবে। সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণকৃত বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যের ল্যাপটপগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রোগ্রামগুলোই দিতে হবে।শিক্ষার্থীরা যাতে ইচ্ছেমত বা অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে বা রিমুভ করতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইন্টারনেট ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট কিন্তু পড়াশোনার সাথে সম্পৃক্ত প্রয়োজনীয় সাইটগুলোর ঠিকানা ব্যতীত অন্য কোন সাইটে প্রবেশ করতে যেন না পারে সে বিষয়টিও ভাবতে হবে। প্রকৃত অর্থে এমন নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা উচিত যাতে করে শিক্ষার্থীরা পথভ্রষ্ট, অমনোযোগী না হয়, এতে করে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকাংশেই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব হবে।সাম্প্রতিক সময়ে ঘটমান প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে “ প্রযুক্তি: আশির্বাদ না অভিশাপ ” এ বিতর্কে না যেয়ে প্রযুক্তি দেশ ও জাতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিবে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এর ছোঁয়ায় আলোকিত হবে-এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
07 জুলাই 2019 "সাধারণ বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন MR. Bin
1 উত্তর
07 জুলাই 2019 "সাধারণ বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন MR. Bin
4 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 4 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 8294
...