"নিত্য শারীরিক সমস্যা" বিভাগে করেছেন
গ্যাসট্রিকের ব্যাথা বলতে কি বোঝায়

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন
সাধারণ পরিভাষায় গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা সাধারণ মানুষ বললেও ডাক্তারি পরিভাষায় একে পেপটিক আলসার বলে।
অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা যাদের তাদের অনেক সময় পাকস্থলিতে হালকা থেকে কিছুটা অসহ্য ব্যথা বা প্রদাহ সৃষ্টি হয় এজন্য মানুষ একে গ্যাসের ব্যথা বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা বলে থাকেন। গ্রামীন ডাক্তার গণ সাধারণ মানুষকে বোঝাতে সাধারণ পরিভাষায়তেই গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা বলে থাকেন এজন্য মানুষ এটিকে আরও শক্ত ভাবেই গ্যাস্ট্রিকের বাথা বলে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে এটি পেপটিক আলসার।
গ্যাসের ব্যাথা বা পেপটিক আলসার কেন হয় ?

প্রতিদিন সময় মত না খেলে অথবা অনিয়মিত ভাবে উপোস করলে অথবা কোন কারণে এক বার না খেয়ে অন্য বেলা খেলে দীর্ঘদিন এই অবস্থা চললে গ্যাস্ট্রিক হয় যা থেকে গ্যাসের ব্যাথা বা পেপটিক আলসার হয় ।

সাধারণত, খাবার গ্রহণের পর খাবারকে পরিপাক করতে পাকস্থলি থেকে প্রথবে গ্যাস্ট্রিন গ্রস্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক নামক রস বা হরমোন ক্ষরিত হয়। এতে থাকে প্রধানত হাইড্রোক্লোরিক এসিড এবং পেপসিনোজেন(নিষ্ক্রিয়)।
প্রথমেই হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাবারের সাথে আগত ধুলা ময়লা, জীবাণু ইত্যাদির সাথে বিক্রিয়া করে নির্জীব ও দ্রবনীয় করে দেয়। ফলে ক্ষতিকারক পদার্থ গুলো অধিকাংশ নষ্ট হয়ে যায়। আর পেপসিনোজেন এই এসিডের প্রভাবে সক্রিয় পেপসিনে রুপান্তরিত হয়। পেপসিন খাবারের আমিষ অংশের সাথে বিক্রিয়া করে আমিষকে হজম করতে সাহায্য করে।  কিন্তু এই এসিড ও পেপসিনোজেন খাবার সময়ের অভ্যাসের জন্য প্রায় একই সময়ে প্রতিদিন ক্ষরিত হয়। যেমন আমরা প্রতিদিন দুপুরে ২টার সময় খাবার খাই। তাই পাকস্থলি এই সময়ে এসিড ক্ষরণের জন্য প্রস্তুত থাকে। এখন হঠাৎ যদি আজ আপনি দুপুরে কিছু না খান তবুও সময় হলেই কিছু এসিড ো পেপসিনোজেন ক্ষরিত হবেই। কিছু না খাওয়ার ফলে ফাকা পাকস্থলির তলার গায়ে এসিড জমা হয়। এই এসিডের প্রভাবে পেপসিনোজেনও সক্রিয় পেপসিনে রুপান্তরিত হয়। কিন্তু কোন খাবার না থাকায় শক্তিশালী এই এসিড পাকস্থলির গায়ের মিউকাস ঝিল্লিযুক্ত পর্দাকে ক্ষয় করা শুরু করে। মিউকাস ক্ষয় হলে পাকস্থলির সজীব কোষ তথা পেটের মূল ত্বক বেরিয়ে পড়ে এবং এতে পেটের পেশির সাথে পেপসিন ক্রিয়া করে ক্ষয় করে। ফলে জালা করে। ক্ষত থেকে রক্ত যেতে পারে। এই জালাপোড়াকে পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা বলে।
তবে এসিডের ক্ষয় ছাড়াও কিছু পরজীবী যেমন এন্টামিবা হিস্টালিটিকা নামক এক কোষী অ্যামিবা কিছু হরমোন ক্ষরণ করে মিউকাসকে ক্ষয় ধরিয়ে আলসার সৃষ্টি করে দিতে পারে। সাধারণত রক্ত আমাশয় এভাবেই হয়। তাই ব্যাথাটি শুধু পাকস্থলিতে নয় বরং অন্ত্রেও হতে পারে। কিন্তু বাইরে থাকে সাধারণ মানুষ পেট বোঝে তাই পেটে গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা বলে থাকেন ।
গ্যাস থেকে রক্ষা পাওয়ার মোক্ষম উপায় হচ্ছে প্রতিদিন সময় মত খাবার খাওয়া। উপোস না থাকা। পরিপূর্ণ খাবার খাওয়ার সুযোগ না পেলে অন্তত হালকা কিছু খেয়ে পানি খাওয়া। যাতে এসিড ও পেপসিনোজেন ফাকা পাকস্থলির গায়ে পড়ে না থাকে।
মনে রাখবেন গ্যসের ঔষধ কখনো গ্যাস্ট্রিককে সারিয়ে দেয়না। এটি কেবল তাৎক্ষনিক ব্যাথাকে উপসম করে।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
07 অক্টোবর 2019 "নিত্য শারীরিক সমস্যা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Waruf
1 উত্তর
04 অক্টোবর "গবেষণা বিষয়বলী" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন nafisa
1 উত্তর
13 ডিসেম্বর 2020 "স্বাস্থ্য ও শরীর গঠন" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Samia
0 টি উত্তর
8 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 8 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 4094
...