"বাংলা প্রথম পত্র" বিভাগে করেছেন
প্রশ্নঃবাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস বিশ্লেষণ কর।

(৪ টি পেরা হবে।সৃজনশীলের ঘ যেভাবে লিখেন সেভাবে দিতে হবে।)
করেছেন
কিন্তু উদ্দীপক ছাড়া ৪ প্যারা কীভাবে করব? 
করেছেন
আপনি কোনো এক ভাবে জ্ঞাননমুলক,অনুধাবন,প্রয়োগ,উচ্চতর দক্ষতা বানিয়ে ফেলুন।

2 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন

হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য সুরক্ষায় বাংলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে নারী-পুরুষের সম্মিলিত সম্প্রীতিতে নিজস্ব ও সাংগঠনিক কায়দায় আবির্ভূত হয়েছে অসংখ্য গায়ক, কবি, সাহিত্যক, লেখক শিল্পী ও বিষয়ভিত্তিক বুদ্ধিজীবিদের। তারা সমসাময়িক বাস্তবতার নিরিখে বাংলা সংস্কৃতিক লোকায়ত চিত্র তুলে ধরেছেন তাদের সৃষ্টিকর্মে। আমরা সেগুলোকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও প্রকৃতির দিকে ফিরে তাকিয়ে লোকায়ত সংস্কৃতিকে স্মরণ করে ইতিবাচক যে চর্চাগুলো অব্যাহত আছে সেগুলো সুরক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর।
বৈশাখী উৎসব পালনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সৌর পঞ্জিকানুসারে বাংলা বারোমাস মুঘল আমলেরও অনেককাল আগে থেকেই পালিত হত। এই পঞ্জিকা শুরু হত গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় হতে। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরালা, মণিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা,পাঞ্জাব,তামিলনাডু ও ত্রিপুরায় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের শুরুতেই একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, একসময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসবে পালিত হতো। তখন এর মূল তাৎপর্য্য ছিল কৃষি কাজ কারণ প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ঋতুর উপরেই নির্ভর করতে হতো।

এক সময় বাংলা সনের মূল নাম ছিল তারিখে এলাহি। মোঘল স¤্রাট আকবর ১৫৮৫ সালে তার রাজত্বকালে ২৯ তম বর্ষের ১০ কিংবা ১১ মার্চ তারিখে এক ডিগ্রী জারির মাধ্যমে তারিখ এ এলাহী প্রবর্তন করেন। সিংহাসনে আরোহণের পরপরই তিনি একটি বৈজ্ঞানিক, কর্মপোযোগী ও গ্রহণযোগ্য বর্ষপুঞ্জি প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন, যেখানে দিন ও মাসের হিসবাটা যথাযথ থাকবে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিনি তৎতকালিন প্রখ্যাত বিজ্ঞানি ও জোর্ত্যিিবদ আমীর ফতুল্লাহ সিরাজীকে নতুন বর্ষপঞ্জি তৈরির দায়িত্ব প্রদান করেন। বিখ্যাত পন্ডিত ও সম্্রাট আকবর এর মন্ত্রি আবুল ফজল এ সমন্ধে ব্যাখ্যা প্রদান করেন যে, হিজরী বর্ষপঞ্জি কৃষিকাজের জন্য মোটেও উপযোগী ছিল না কারণ চন্দ্র বছরের ৩১ বছর হয় সৌর বছরের ৩০ বছরের সমান। চন্দ্র বছরের হিসাবেই তখন কৃষকদের নিকট থেকে রাজস্ব আদায় করা হতো অথচ চাষবাস নির্ভর করত সৌর বছরের হিসাব মত। চন্দ্র বছর হয় ৩৫৪ দিনে সেখানে সৌর বছর হয় ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিনে। ফলে দুটি বর্ষপঞ্জির মধ্যে ব্যবধান দেখা যায় ১১ বা ১২ দিন। বাংলা সনের জন্ম ঘটে স¤্রাট আকবরের এই রাজস্ব আদায়ের অভিনব কায়দার পেক্ষাপটে।

তারিখে এলাহি বারোমাসের নাম ছিল কারবাদিন, আর্দি, বিসুয়া, কোদার্দ, তীর আমাদার্দ, শাহরিয়ার, আবান, আজুর, বাহাম ও ইস্কান্দার মীজ, কারো পক্ষে আসলে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় কখন এবং কিভাবে এসব নাম পরিবর্তিত হয়ে বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য, আষাঢ, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র্য হলো। অনুমান করা হয়, বারোটি নক্ষত্রের নাম নিয়ে পরবর্তীকালে নামকরণ করা হয় বাংলা মাসের। বিশাখা নক্ষত্র থেকে বৈশাখ, জায়িস্তা থেকে জৈষ্ঠ্য, শার থেকে আষাঢ়, শ্রাবণী থেকে শ্রাবণ, ভদ্রপদ থেকে ভাদ্র, আশ্বায়িনী থেকে আশ্বিন, কার্তিকা থেকে কার্তিক, আগ্রহায়ণ থেকে অগ্রহায়ণ, পৌউসা থেকে পৌষ, ফাল্গুনি থেকে ফাল্গুন, এবং চিত্রা নক্ষত্র থেকে চৈত্র।

করেছেন
আপনি উদ্দীপক ছাড়া দিন।এটি তো অনলাইনে বলেছে
+1 টি ভোট
করেছেন

বৈশাখ মাসের প্রথম দিন হলো বাংলা নববর্ষ, এই দিনেই আমরা বাঙালিরা নববর্ষ উদযাপন করি।

                         বাংলা নববর্ষ এখন আমাদের প্রধান জাতীয় উৎসব। বাংলাদেশে অনেক আবেগ ও গভীর ভালবাসায় এ উৎসব উদযাপন করা হয় কারণ পাকিস্তানি আমলে বাঙালিকে এই উৎসব উদযাপন করতে দেওয়া হয়নি। বাঙালি তার সংস্কৃতির ওপর এ আঘাত সহ্য করতে পারেনি। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকল বাঙালি এ উৎসবকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণার জন্য দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সে দাবি অগ্রাহ্য হয়েছিল। ফলে পূর্ব বাংলার বাঙালিরা প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে। এভাবেই পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বাঙালি জাতিসত্তা গঠনের প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে যায় বাংলা নববর্ষ এবং তার উদযাপনের আয়জন।
                বাংলা সনের ইতিহাস সুস্পষ্ট ভাবে জানা না গেলেও অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে মোগল সম্রাট আকবর চান্দ্র হিজরি সনের সঙ্গে ভারতবর্ষের সৌর সনের সমন্বয়ে ১৫৫৬সাল বা ৯৯২ হিজরিতে বাংলা সন চালু করেন। অনেকে মনে করেন মহামতি আকবর সর্বভারতীয় যে এলাহি সন প্রবর্তন করেন তার ভিত্তিতেই বাংলায় তাঁর কোনো প্রতিনিধি বাংলা সনের প্রবর্তন করেন।
                           পরিশেষে বলা যায় যে, নববর্ষ সকল দেশ ও সকল জাতিরই আনন্দের দিন। এটি একইসাথে কল্যাণ কামনারও দিন। আর আমরাও সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণের প্রত্যাশায় মহা ধুমধামের সাথে আমাদের নববর্ষ উদযাপন করি। একে অন্যকে বলি, "শুভ নববর্ষ"।
করেছেন
thanks for the upvote

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

4 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 4 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 2938
...