"রোগ ও চিকিৎসা" বিভাগে করেছেন
ডায়াবেটিসে লক্ষন ও চিকিৎসা কি ব্যাখ্যা কর? 

2 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন
আমাদের শরীরে ইনস্যুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। 

যে সব কারনে ডায়াবেটিস হয় তা হলো : খাবার গ্রহণ, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, অলস জীবনযাপন করা, অপর্যাপ্ত বা ৬ ঘণ্টা বা ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানো, ধূমপান, সাদাপাতা, জর্দা সেবন, মানসিক দুশ্চিন্তা, পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থ, দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক রোগ, কিছু ওষুধের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, বংশগত কারণে এবং সর্বোপরি শরীরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে  ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ

ক. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

খ. খুব বেশি পিপাসা লাগা

গ. বেশি ক্ষুধা পাওয়া

ঘ. যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া

ঙ. ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা

চ. ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া

ছ. খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া

জ. চোখে কম দেখা।

চিকিৎসাঃ প্রথমে রোগ শনাক্ত করতে হবে।সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে।অনেকের ক্ষেত্রে মেডিসিন দেয়া হয়,আবার অনেকের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়,এসব নিয়মমত নিতে হবে। খাদ্যাভাস বদলাতে হবে।
0 টি ভোট
করেছেন

এই বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিসের নাম শোনেনি, এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবেনা। এমনকি ছোটরাও এজকাল এটি নিয়া আলোচনা করে থাকে। 

চিনি, বেশি মিষ্টি খেলে ডায়াবেটিস হয় এই ধারণাও অধিকাংশ মানুষ পোষন করে। 

কিন্তু বিশ্বাস করুন বা নাই করুন, ডায়াবেটিস কোন রোগ নয়। বেশি মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার বা বেশি শর্করা খেলেও ডায়াবেটিস হয়না। 

ডায়াবেটিস রোগের উপসর্গ মাত্র। 
আমরা যে খাবার খাই তাতে প্রচুর শর্করা জাতীয় খাদ্য উপাদান থাকে। বাস্তবে প্রতিদিন আমাদের প্রচুর শর্করা গ্রহন করতেই হয়। এটি আমাদের দেহে তাপ শক্তি উৎপন্ন করে যা আমাদের বাচিয়ে রাখে এবং কর্মক্ষমতা যোগায়। শর্করা শক্তি উৎপাদন না করলে আমরা কাজই করতে পারতাম না। হাটা চলা, নড়াচড়া ইত্যাদিতে যে শক্তি লাগে তা এই শর্করা থেকেই আসে। 

আমরা যে খাবার খাই তার শর্করা উপাদান গুলো যেমন স্টার্চ, চিনি বা সুগার যাই হোক এগুলো গ্লূকোজ হিসাবে দেহে শোষিত হয়। এই গ্লূকোজ রক্তে চলে যায়। রক্ত এই গ্লূকোজকে দেহের প্রতিটি সজীব কোষে পৌছে দেয়। 

কিন্তু আমরা জানি কোষের চারপাশে প্লাজমামেমব্রেন নামে একটি পর্দা থাকে। এই পর্দার বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এটি কোষের প্রয়োজনীয় উপাদান নিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রবেশ করতে দেয়। অপ্রয়োজনীয় বস্তু প্রবেশ করতে পারেনা। কোষে রক্ত থেকে এই শর্করা ভেতরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রন করে ইনসুলিন নামে একটি হরমোন। 
এই ইনসুলিন আমাদের অগ্নাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স গ্রন্থির বিটা কোষ থেকে উৎপন্ন ও ক্ষরিত হয়। কোন কারনে যদি অগ্নাশয় এই ইনসুলিন ক্ষরন বন্ধ করে দেয় বা কমিয়ে দেয় তাহলে ইনসুলিনের অভাবে রক্ত থেকে শর্করা কোষে প্রবেশ করতে পারেনা। প্লাজমামেমব্রেন বাধা দেয়। অপরদিকে আমরা ৩ বেলাইত ভাত রুটি ইত্যাদি শর্করা খাচ্ছি, যা রক্তে জমা হচ্ছে। যেহেতু রক্ত কোষে পৌছে দিতে পারছেনা। এভাবে রক্তে গ্লূকোজ তথা শর্করা জমে বর্জ্য সৃষ্টি করে। এই অতিরিক্ত গ্লূকোজ রক্ত বর্জ্য হিসাবে কিডনী থেকে ছেকে মূত্রতে পরিণত হয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে প্রসাবে সুগার যায় এটা আমরা সবাই শুনেছি নিশ্চয়। 
যেহেতু বেচে থাকার জন্য শর্করা খেতেই হয় এবং ভাতে প্রচুর শর্করা তাই প্রতিনিয়ত শর্করা রক্তে যায় এবং রক্ত থেকে মূত্রে যায় বলে আমাদের বার বার ওয়াসরুমে যেতে হয়। একে বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস বলে। 

এখনো পর্যন্ত ডায়াবেটিসের একটাই চিকিৎসা তা হচ্ছে কৃত্রিম ভাবে ইনসুলিন নিয়া শর্করাকে কোষের অভ্যান্তরে যেতে সাহায্য করা। ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্তনে থাকে। 

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
3 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 3 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 1878
...