প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন নিবন্ধন বা রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াই
0 টি ভোট
"ইতিহাস" বিভাগে করেছেন (346 পয়েন্ট)

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (3k পয়েন্ট)

৭ই মার্চের ভাষণ: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এই ভাষনকে বাঙ্গালী জাতীর মূক্তির প্রাথমিক ভাষন বলা হয়। তিনি উক্ত ভাষণ বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে শুরু করেন এবং বিকেল ৩টা ৩ মিনিট শেষ করেন। উক্ত ভাষণটি ছিল ১৮ মিনিট। এই ভাষণে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্ প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত বক্তব্য দ্রুতই বিতরণ করা এটি তাজউদ্দীন আহমদ কিছুটা সংশোধন করেন। সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য ছিল <!-- সামরিক</span -->আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে " ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা।

 ১৯৭০ সালে   আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে কুক্ষিগত রাখা।  এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করলে তা ১লা মার্চ এক অধিবেশনে অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয় । এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন।

পাকিস্তান সরকার মার্চ ১৯৭১ সালে রেডিও টেলিভিশনের মাধ্যমে ভাষণটি প্রচার করার অনুমতি দেয়নি। সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তৎকালীন পাকিস্তান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম সালাহউদ্দিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক একইসঙ্গে তৎকালীন ফরিদপুর জেলার পাঁচ আসনে সংসদ সদস্য এম আবুল খায়ের ভাষণটি ধারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাদের কাজে সাহায্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চলচ্চিত্র বিভাগের চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা আবুল খায়ের যিনি ভাষণের ভিডিও ধারণ করেন।

পরে অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের একটি অনুলিপি শেখ মুজিবকে হস্তান্তর করা হয় এবং অডিওর একটি অনুলিপি ভারতে পাঠানো হয়। সেইসাথে অডিওর ৩০০০ অনুলিপি করে তা সারা বিশ্বে ভারতীয় রেকর্ড লেবেল এইচএমভি রেকর্ডস দ্বারা বিতরণ করা হয়।

গুরুত্বঃ “ তোমরা ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

এভাবে শেখ মুজিবুর রহমান  তার কালজয়ী ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন যার ফলে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ চূড়ান্ত স্বাধীনতার ভাষন দেয়া মাত্রই সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয় ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তাই বলা যায় যে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্মের জন্য ৭ই মার্চের ভাষন ছিল এক মূক্তির ভাষন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর
0 টি ভোট
1 উত্তর

13 Online Users
0 Member 13 Guest
Today Visits : 6483
Yesterday Visits : 6916
Total Visits : 3724096

বয়স গণনা করুন





     বয়স : 0 বছর     
            0 মাস
            1 দিন
...