"সাধারণ জিজ্ঞাসা" বিভাগে করেছেন
আমার মাথায় অনেক চিন্তা আছে। অনেক প্রশ্ন আছে। যার উত্তর জানতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তেমন কাউকে বলতে পারিনা কারন তারা আমাকে নিয়া হাসবে বা বোকা/মুর্খ বলে মজা করবে। তাই কোথায় প্রশ্ন করে আমি সঠিক উত্তর পেতে পারি এবং সেই প্রশ্নের বিষয়ে যথাসম্ভব বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ জানতে পারি?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন
মানুষের প্রকৃতিঃ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। পৃথিবীতে বহু জীব আছে। তবুও মানুষই সেরা কারন মানুষ চিন্তা ভাবনা করতে পারে। দুহাতে পূর্নভাবে বস্তু ধরতে ও ব্যবহার করতে পারে । কিন্তু এগুলোর চেয়েও যে বিষয়টা অধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা আছে। মানুষের জন্মগত প্রবৃত্তি হচ্ছে অজানাকে জানতে চাওয়া। নতুন কিছু খুজে বের করা, আবিষ্কার করা, নিত্য নতুন জিনিস তৈরি করে তা ব্যবহার করে সবাইকে চমকে দিতে মানুষ পছন্দ করে। আর এগুলো ব্যবহার করে জীবনকে সহজ উপভোগ্য ও নিজের সম্মান বৃদ্ধি করে সবার মাঝে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতেই মানুষ ভালবাসে। এই সমস্ত কাজে মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করে নিত্য নতুন বিচিত্র কিছু পাওয়ার ইচ্ছা আকাঙখা, চিন্তা ভাবণা। আর এই চিন্তা ভাবণা তথা গবেষণা দ্বারাই মানুষ কোন সমস্যার সমাধান বা পথের সন্ধান করে থাকে। এটাই মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃদ্ধি।

মানুষের মাথায় বিভিন্ন চিন্তা ভাবনার উদয়ঃ  উন্নত শ্রেণীর সমস্ত প্রাণীর মাথায় নানা রকম চিন্তা ভাবনার উদয় হয়। এটা সৃষ্টির এক আচার্য বিষয়। তবুও পরিবেশ এই চিন্তা ভাবনাকে দারুন ভানে নিয়ন্ত্রন করে। মানুষের মাথায় চিন্তা শক্তি প্রবল। সে সম্ভব - অসম্ভব আকাশকুসুম চিন্তা ভাবনা করে। মানুষের মন বা বিবেক সর্বদাই চিন্তার উদ্রেক করে। প্রশ্নের উদ্রেক করে। কি? কেন? কিভাবে? কি কাজে? এসমস্ত প্রশ্নবোধক শব্দের সাথে নানান বিষয় যুক্ত হয়ে মানুষের মন ও মস্তিষ্ক সর্বদাই অক্লান্ত ভেবে চলেছে। তবে এই ভাবণার কোন শেষ নাই, বিরাম নাই, পূর্ণতা নাই। মানুষ যতই পাই ততই চায়। সন্তষ্ট হতেই চায়না এমন বিষয়। আর এজন্যই তার সকল চিন্তা ভাবণা সবসময় সমাধান পায়না।

আমাদের পরিবেশ আমাদের চিন্তা ভাবনাকে দারুনভাবে নিয়ন্ত্রন করে। যেমন ধরুন আপনি একজন কবি। তাই সারাদিন আপনার চিন্তা চেতনাই শুধু কবিত্বই আসবে। আপনি ভাবতে থাকবেন কিভাবে ভাষা প্রয়োগ করে ছন্দ মিলানো যায়। আপনি হয়ত মনের বিরুদ্ধে অন্য চিন্তাও করবেন কিন্তু তা স্থায়ী হবেনা। আপনার বিরক্ত আসবে। কিন্তু ছন্দ কবিতায় ক্লান্তি নাই। ভাবতেই থাকবেন কোন শব্দ কোথায় বসলে আরও সুন্দর অর্থ ও শ্রুতিমধুর হবে। ঠিক তেমনি একজন বিজ্ঞানের ছাত্র জীবনে সব সমস্যাকে বিজ্ঞান দিয়া ব্যাখ্যা করতে চিন্তা করবেন। তার মাথায় বিজ্ঞানের নানা প্রশ্ন ঘুরবে। একজন প্রেমিক বা কল্পনাপ্রসূত ব্যক্তি তিনি নানা রকম অলিক কল্পনা করেন। তিনি কিন্তু জানেন এটি পূর্ণ হবার নয়, তবুও তিনি ভাবেন। এটিই তার ভাললাগা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি।

কেন মানুষ প্রশ্ন করতে চাইঃ যেহেতু ব্যক্তি নিজেই জানেন তার কল্পনার সবকিছু সমাধান করা সম্ভব নয়। তবুও তিনি অন্তত নিজের প্রয়োজন গুলো মেটাতে, নিজের মনকে উত্তরে সন্তষ্ট করতে কিছু ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়া তার সমাধান করতে চেষ্টা করেন। তিনি হয়ত সফল হন অথবা বিফলও হতে পারেন। আবার হয়ত তিনি কিছু সমাধান পেয়েছেন কিন্তু তিনি জানেনইনা তা আদৌ ঠিক কিনা তাই সে অন্যের কাছ থেকে জেনে নিতে চাই। মিলিয়ে দেখতে চাই নিজের জ্ঞানের ভাবনার সাথে যে নিজের জ্ঞান সঠিক কিনা।

আবার তিনি জানেন যে এমন কিছু বিষয় তার দ্বারা সম্ভব হচ্ছেনা অথবা তার কাছে সময় নাই অথবা খুব বেশি ভাবতে তার ভাল লাগছেনা অথচ বিষয়টি অন্যের কাছে আছে। অনেকেই তা ভাল জানেন।

তখন তিনি তার কাছ থেকে সহজে জেনে নেবার জন্যই প্রশ্ন করতে চান। এভাবে মানুষ একে অন্যের কাছে নিজের প্রশ্নটি করে উত্তর জানার মাধ্যমে জ্ঞানের আলো বাড়াতে

চেষ্টা করে থাকেন।

কোথায় প্রশ্ন করবেনঃ এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয় যে কোথায় প্রশ্ন করলে নিজের স্বকীয়তা,গোপনীয়তা যথাসম্ভব বজায় রেখে উত্তর জানা সম্ভব হবে। আপনি যেকোন জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। নিজ শিক্ষকের কাছে প্রশ্ন করতে পারেন। কিন্তু তবুও কখনো কখনো ব্যক্তিভেদে, প্রশ্নের বিষয়ভেদে হয়ত অনেকে নিজ পরিচিত ব্যক্তি বর্গের কাছে বলতে চাননা। তিনি চাননা যে কেউ এগুলো জেনে তাকে নিয়া মজা করুক বা হাসি ঠাট্টা করুক। প্রশ্ন শুনে হয়ত তাকে বলবে 'ওরে মূর্খ! এটাও জানিসনা" তাই সে হয়ত অন্য কোথাও জানতে চাই যাহাতে এমন পরিস্থিতিতে না পড়তে হয়।

সরাসরি আপনার বিশ্বস্থ জানাশোনা জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন করে আপনি জেনে নিতে পারেন। তবে আজ আমরা এমন এক আধুনিক, কর্মব্যস্ত, প্রযুক্তির যুগে বসবাস করছি যেখানে মনে হয় সকল মানুষ তার কর্ম ব্যস্ততার জন্য অন্যের সহচার্য ভুলে গেছেন।  তাই হয়ত কেউ সময় নিয়া আপনার কথা নাও শুনতে পারে। তবে একই সাথে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আছি। কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে সমস্তই যেন হয়েছে একটি গ্রামের মত। যার নাম বিশ্বগ্রাম। কম্পিউটার ও স্মাটফোনের কল্যানে আজ আমরা যেকোন স্থান থেকেই মুহুর্তেই জেনে নিতে পারি দুরের খবর। প্রশ্নও করতে পারি দুরের কারও কাছে। এক্ষেত্রে আপনার সহজ ও নির্ভরযোগ্য হতে পারে একটি ভালো ওয়েবসাইট। সমস্ত ওয়েবে নানা সাইট আছে যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারেন। আমাদের এই অন্বেষা প্লাটফর্মেও আপনি প্রশ্ন করতে পারেন। যেখানে বিশেষজ্ঞ গণ যন্তসহকারে আপনার জিজ্ঞাসাকে মূল্যায়ন করে সঠিক উত্তর প্রদান করে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। আমাদের ওয়েবসাইট হতে পারে আপনার প্রশ্ন ও উত্তরের জন্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্থ সাইট।

সর্বপরী এটাই আমাদের কামনা, নিজে জানুন অপরকে জানান। তবেই সম্মৃদ্ধ হবে আমাদের জ্ঞান ভান্ডার। উন্নত হবে বুদ্ধিদীপ্ত মস্তিষ্ক।  এটি আপনার সম্মান বাড়িয়ে তুলে ধরবে সবার উপরে, তবেই আপনি মনের সন্তষ্টি অর্জন করতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

1 উত্তর
0 টি উত্তর
5 জন সক্রিয় সদস্য
0 জন নিবন্ধিত সদস্য 5 জন অতিথি
আজকে পরিদর্শন : 1170
...